শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যার্বতনের তিন যুগ

৬৭ বার পঠিত

গোটা বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে এরকম উদাহরণ খুব বেশি না থাকলেও, বংশানুক্রমিক উত্তরাধিকার উপমহাদেশীয় রাজনীতির ঐতিহ্য। ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে রয়েছে উত্তরাধিকার রাজনীতির বেশ প্রভাব। তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার আগমন খুব একটা সহজ ছিল না। মৃত্যুর দুয়ার থেকে তিনি ফিরে এসেছেন বারবার, করেছেন কারাবরণও। নানা চড়াই-উতরাই পার হয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তিন যুগে পদার্পণ করতে যাচ্ছেন তিনি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় নির্বাসিত থাকতে হয় শেখ হাসিনাকে। ১৯৮১ সালের ১৭ মে তিনি দেশে ফিরে আসেন। যা ছিল জাতির জন্য ঐতিহাসিক এক দিন। দিনটি ছিল শনিবার।

তিন দশক আগে কোন্দল, কলহ–বিবাদ এবং পারস্পরিক অবিশ্বস্ততায় জর্জরিত ও বিপর্যস্ত আওয়ামী লীগের হাল ধরেন বঙ্গবন্ধুর এই উত্তরসূরী। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রায় অনভিজ্ঞ শেখ হাসিনাকে দলীয় প্রধান করা হয়। দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি দেশের মানুষের ভালোবাসা অর্জনে মাঠে নামেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসীন হয়। এরপর ২০০৮ সালে দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালে তৃতীয়বারের মতো দেশ পরিচালনা করছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

রাষ্ট্র পরিচালনায় শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বিশ্বের নজরে আসে। যার ধারাবাহিকতায় গত বছর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘ফোর্বস’ সাময়িকী বিশ্বের ১০০ জন ক্ষমতাধর নারীর তালিকা প্রকাশ করে। এতে ফার্স্ট লেডি থেকে শুরু করে আছেন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকায় ৩৬তম অবস্থানে ছিলেন।‌ এ তালিকায় প্রথম স্থানে ছিলেন জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল।

বিগত কয়েক বছর বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শেখ হাসিনার ‘সংগ্রামী’ ভূমিকা দেশ-বিদেশে নন্দিত হয়েছে। বিশ্ব নেতারা তার প্রশংসা করতে ভুলেনি। তার অনুসারীরা তাকে ‘জননেত্রী’ হিসেবে অভিহিত করেন। এমনকি বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের নেতারাও শেখ হাসিনাকে ‘জননেত্রী’, ‘বিরল’ নেতৃত্ব হিসেবেও অভিহিত করেছেন।

গত বছর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে চীন, ভারত, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের অন্তত ৫৫ জন নেতা অংশ নেন। ওইদিন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. বিনয় প্রভাকর সহস্রবুদ্ধে শেখ হাসিনাকে উপমহাদেশের ‘বিরল’ নেতা আখ্যা দেন। শেখ হাসিনাকে ‘জননেত্রী’ সম্বোধন করে বক্তব্য শুরু করে এই বিজেপি নেতা বলেন, ‘সেসব বিরল নেতাদের অন্যতম আপনি, যাকে সত্যিকার অর্থে জননেত্রী বলা যায়। আপনি সত্যিকারের জননেত্রী। শুধু আপনার দেশের নয়, বরং পুরো উপমহাদেশের ও বিশ্বের মানুষের।’

এছাড়াও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও রাজ্যসভার বিরোধী দলীয় নেতা গোলাম নবী আজাদ, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের ভাইস মিনিস্টার ঝেং জিয়াওজং, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের ভাইস-মিনিস্টার ঝেং শিয়াওসং, ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা পার্থ চ্যাটার্জি এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্ক্সবাদী) নেতা বিমান বসু, নেপালের ড. রাম শর্মা মাহাত, শ্রীলংকার ধর্মমন্ত্রী এএইচ মোহাম্মদ হাশিম ও ভুটানের তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী দিন নাথ দুঙ্গিয়েলসহ অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, কানাডা, রাশিয়া ও ইতালির নেতারাও শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়াসী প্রশংসা করেন। তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানও দেন।

শেখ হাসিনা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের হত্যার বিচারকাজ সম্পূর্ণ করা, যুদ্ধাপরাধের বিচার ও রায় কার্যকর করার কাজ করেছেন শক্ত হাতেই। তার হাত ধরেই দেশ ও জাতি আজ কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘৭৫ এর ১৫ সালের জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার পর দেশে পেছনের দিকে যাচ্ছিল। তিনি (শেখ হাসিনা) জাতিকে টেনে তোলার জন্য নেতৃত্ব দিয়েছেন। এজন্য অনেক সময় লেগেছে।’

শেখ হাসিনার এই রাজণৈতিক জীবন মসৃণ ছিল না উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘তারা জীবনে বারবার আঘাত আসছে। কায়েমি স্বার্থভোগী, পাকিস্তানিদের সুবিধাভোগীদের মোকাবিলা করে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে প্রথমবার ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসেন। তিনি খাদ্য ঘাটতি মোকাবিলায় সারা পৃথিবী ‍ঘুরেছেন। এরপরই পরিবর্তন আসে।’

বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিচার সম্পূর্ণ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথাও উল্লেখ করে ড. আব্দুর রাজ্জাক। এ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে ড. আব্দুর রাজ্জাক আরো বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোম মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।’‘বঙ্গবন্ধুর মতোই আমাদের নেত্রীর সহজাত জীবন তাকে বারবার সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে যায়,’ বলেন ড. আব্দুর রাজ্জাক। আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর আরেক সদস্য পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘১৭ মে আমাদের নেত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। এটি একটি ঐতিহাসিক দিন। আমরা এই দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করব।’

ছাত্র রাজনীতি

শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষা জীবনেই শেখ হাসিনা রাজনীতি শুরু করেন। তিনি সরকারি ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজের ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন সদস্য এবং ছাত্রলীগের রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। সকল গণআন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন এই নেত্রী।

আওয়ামী লীগের সভাপতির দ্বায়িত্ব ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তন

১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশন। কাউন্সিলে অনেক আলাপ-আলোচনার পর জাতীয় ও দলীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। একই বছরের এই দিনে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে বাংলার মাটিতে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা। ওই দিন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে বহনকারী ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লী থেকে কলকাতা হয়ে ঢাকার তখনকার কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে তাকে একনজর দেখার জন্য কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শেরেবাংলা নগর পর্যন্ত এলাকাজুড়ে লাখো মানুষের ঢল নামে। সারাদেশের গ্রাম-গঞ্জ-শহর-নগর-বন্দর থেকে অধিকার বঞ্চিত মুক্তিপাগল জনতা সেদিন ছুটে এসেছিল রাজধানী ঢাকায়। এ সময় সামরিকতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকামী লাখো কণ্ঠের শ্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে গোটা বিমানবন্দর এলাকা। সেদিনের গগনবিদারী মেঘ গর্জন, ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ প্রকৃতি যেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার বদলা নেওয়ার লক্ষ্যে গর্জে উঠেছিল। দেশে ফিরে সেই দিন বিমানবন্দরে লাখো জনতার উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলার মানুষের মুক্তি সংগ্রামে অংশ নেয়ার জন্য আমি দেশে এসেছি। আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই।’ স্বজন হারানোর বেদনায় কাতর বঙ্গবন্ধু কন্যা অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, ‘…আমি সামান্য মেয়ে। সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থেকে আমি ঘর-সংসার করছিলাম। কিন্তু সবকিছু হারিয়ে আপনাদের মাঝে এসেছি। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির পিতা হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উত্সর্গ করতে চাই। বাংলার দুঃখি মানুষের সেবায় আমি আমার এ জীবন দান করতে চাই। আমার আর হারাবার কিছুই নেই। পিতা-মাতা, ছোটভাই রাসেলসহ সকলকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি, আমি আপনাদের মাঝেই তাদেরকে ফিরে পেতে চাই।

আন্দোলন

দেশে ফিরে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলেন। স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনা পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হন। তিনি রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন করে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের জন্য রাজনৈতিক দলসহ সকলকে সংগঠিত করেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ১৯৯৪-১৯৯৫ সালে শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রক্রিয়া চালুর জন্য তীব্র আন্দোলন শুরু করেন। তার আন্দোলনের ফলে সৃষ্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ১২ জুন ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসাবে নির্বাচিত হয় এবং ২৩ জুন ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি তার পাঁচ বছরের মেয়াদপূর্তির পর ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

হামলার শিকার

দেশে ফেরার পর শেখ হাসিনাকে প্রায় ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম বিএনপি জোটে সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা। ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে শেখ হাসিনার জনসভায় বৃষ্টির মত এক ডজনেরও বেশি শক্তিশালী গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এতে ২৪ জন নেতা কর্মী নিহত হন এবং ৫০০ জনেরও বেশী আহত হন। শেখ হাসিনা নিজেও কানে মারাত্মকভাবে আঘাত পান।

কারাবরণ

ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দীনের শাসন আমলে ২০০৭ সালের ১৬ই জুলাই মামলা দিয়ে শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়। প্রায় এক বছর জেলে থাকার পর ১১ জুন ২০০৮ সালে শেখ হাসিনাকে মুক্তি পান।

পারিবারিক জীবন

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা। গোপালগঞ্জ থানার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তারিখে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।  বঙ্গবন্ধু তার প্রিয় কণ্যাকে আদর করে ‘হাসু’ বলে ডাকতেন। স্বামী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম ওয়াজেদ মিয়া ৯ মে ২০০৯ তারিখে ইন্তেকাল করেন। শেখ হাসিনার জ্যেষ্ঠ পুত্র সজীব ওয়াজেদ একজন তথ্য প্রযুক্তি বিশারদ। তার একমাত্র কন্যা সায়মা হোসেন ওয়াজেদ একজন মনোবিজ্ঞানী এবং তিনি অটিস্টিক শিশুদের উন্নয়নে কাজ করছেন। শেখ হাসিনার নাতি-নাতনীর সংখ্যা পাঁচ জন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com