১২ ডিসেম্বর : বুদ্ধিজীবী হত্যার নীল নকশা প্রণয়ন

৬৮ বার পঠিত
সাজ্জাদ হায়দার : ১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, পাকিস্তান, রাশিয়া এবং মুক্তিযোদ্ধারা ভালো করেই বুঝে যান পাক-বাহিনীর সময় আসলে ফুরিয়ে এসেছে। এ সময় উভয় পক্ষই যার যার মতো করে কালক্ষেপণ করতে চাইছিল। মার্কিন পরারষ্ট্রমন্ত্রী ড. হেনরি কিসিঞ্জার ওয়াশিংটনে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিনিধি ভোরেন্টসেভকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ১২ ডিসেম্বর দুপুরের মধ্যে দিল্লিকে যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে হবে। অবশ্য তিনি ভালো করেই জানতেন, ভারত এই বিরতি মানবে না।

তবে কিসিঞ্জারের এই বক্তব্যকে বেশ ইতিবাচক হিসেবে নেয় পাকিস্তান। এই খবরের পর পাক-সেনাবাহিনীর সিজিএস লেফটেন্যান্ট জেনারেল গুল হাসান টেলিফোন করে ঢাকায় জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজীকে আশ্বস্ত করেন, ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ থেকে হামলা শুরু হবে। উত্তর বলতে তিনি এ সময় চীন ও দক্ষিণ বলতে বঙ্গোপসাগর অর্থাৎ মার্কিন সপ্তম নৌ-বহর আগমনের কথা বুঝিয়েছেন। নিয়াজীও এই আশ্বাসে বেশ আশ্বস্ত হন। এই দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল আল বদর ও আল শামস সদস্যদের নিয়ে জেনারেল রাও ফরমান আলীর বাসভবনে বেঠক। সম্ভবত এই বৈঠক থেকেই চূড়ান্ত হয় ১৪ ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যার নীল নকশা।

১২ ডিসেম্বর সকালে নরসিংদী দখল করে নেয় মুক্তিবাহিনী। বিকেলে ভারতের ফোর গার্ডস ডেমরা ঘাট থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে এসে হাজির হয়। সূর্যাস্তের আগে জামালপুর ও ময়মনসিংহের দিক থেকে ভারতীয় জেনারেল নাগরার বাহিনী টাঙ্গাইলে প্যারাস্যুট ব্যাটালিয়নের সঙ্গে যোগ দিয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে। মিত্রবাহিনী টাঙ্গাইলের মির্জাপুর, কালিয়াকৈর ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ছত্রীসেনা নামিয়ে রাতে প্রচণ্ড আক্রমণ চালায়। তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসে কাদেরিয়া বাহিনী। শুরু হয় তুমুল যুদ্ধ। ফলে ঢাকা অভিযানের সর্বাপেক্ষা সম্ভাবনাপূর্ণ পথের সদ্ব্যবহার শুরু হয়।

দিনাজপুর অঞ্চলের মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী খানসামা থানা আক্রমণ করে। যুদ্ধে মিত্রবাহিনীর ১৫ জন ও সাত মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। তাদের হাতে এক মেজরসহ পাকবাহিনীর ১৯ জন ধরা পড়ে। তবে এদিনই দিনাজপুরের বিরল থানায় বহলা গ্রামে ঘটে গণহত্যার নৃশংস ঘটনা। ১২ ডিসেম্বর পাক-হানাদার বাহিনীর একটি দল প্রবেশ করে ওই গ্রামে। ওই সময় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল আক্রমণের মুখে পিছু হটার এক পর্যায়ে কাঞ্চন ক্যাম্পের পাক-সেনারা অনুপ্রবেশ করে ওই গ্রামে। তারা গ্রামবাসীকে গ্রাম ছেড়ে যাবার নির্দেশ দেয়।

পাক-সেনাদের নির্দেশ মতো তল্পিতল্পা নিয়ে গ্রামবাসীরা এলাকা ত্যাগের উদ্যোগ নেয়। এই সময় পাক-সেনারা মাইকযোগে আবার তাদের এক হবার নির্দেশ দেয়। তখন মাগরিবের নামাজের সময়। অনেকে নামাজের কাতারে দাঁড়িয়ে যান। সকলে নামাজের কাতারে দাঁড়ালে ব্রাশ ফায়ার করা হয় পেছন থেকে। এতে ঘটনাস্থলে শহীদ হন ৩৭ জন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com