আজ আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস

৩৬ বার পঠিত
তোফাজ্জল হোসেন # আজ ২৫তম আন্তর্জাতিক এবং ১৮তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস। জাতিসংঘ ঘোষিত এ দিবসটি ১৯৯২ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালন করা হচ্ছে। প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে সচেতনতার প্রসার এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মর্যাদা সমুন্নতকরণ, অধিকার সুরক্ষা এবং উন্নতি সাধন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়। এবার ‘২৫তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস এবং ১৮তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস-২০১৬’ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক জীবনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার সুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করাও এই দিবসের লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক এ দিবসটির এবারের (২০১৬) প্রতিপাদ্য নির্ধারণ হয়েছে ‘অ্যাচিভিং ১৭ গোলস ফর দ্য ফিউচার উই ওয়ান্ট’ অর্থাৎ ‘টেকসই ‘ভবিষ্যত গড়ি, ১৭ লক্ষ্য অর্জন করি।’ দিবসটি উপলক্ষে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দেশের প্রতিটি জেলায় সমাজসেবা অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহ শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করবে। রাজধানীর মিরপুরে ৭ দিনব্যাপী ‘প্রতিবন্ধী উন্নয়ন মেলা’র আয়োজন করা হয়েছে। মেলার উদ্বোধন করবেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক।

জাতিসংঘ কর্তৃক পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০% লোক কোনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধী৷ যদি সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের সংখ্যা হিসাব করা হয় তবে এই সংখ্যা ২৫%-এ উন্নীত হতে পারে৷ সমীক্ষায় এও জানা গেছে যে, উন্নয়নশীল দেশে অন্তত ৮০% প্রতিবন্ধী গ্রামাঞ্চলে বসবাস করে৷

অপর্যাপ্ত প্রতিরোধ ও নিরাময় ব্যবস্থার কারণে এই হার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ প্রতিবন্ধী মূলত শারীরিক, মানসিক, দৃষ্টি, শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের ক্ষতির কারণে হয়ে থাকে৷ প্রতিবন্ধীত্বকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে যেমন- মৃদু, মাঝারি ও চরম৷ সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর সম্প্রতি সারাদেশে জরিপ চালিয়ে ১৫ লাখেরও অধিক বিভিন্ন ধরণের প্রতিবন্ধী মানুষ শনাক্ত করেছে। তাদের জন্য একটি শক্তিশালী ডাটাবেজ তৈরি করছে। দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেছেন, প্রতিবন্ধীদের সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করে যথাযথ পরিচর্যা করলে তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বোঝা না হয়ে অপার সম্ভাবনা বয়ে আনবে।

শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা মানববৈচিত্র্যেরই অংশ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার দেশের প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। শেখ হাসিনা তার শাসনামলের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, তার সরকার ‘নিউরোডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন-২০১৩’, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩’, ‘প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কিত সমন্বিত শিক্ষা নীতিমালা-২০০৯’ ও ‘প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র পরিচালনা নীতিমালা-২০১১’ প্রণয়ন করেছে।

প্রতিবন্ধী বিষয়ে যথাযথ কর্মসূচি গ্রহণের জন্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সম্পর্কিত জাতিসংঘের বিশ্ব কর্ম-পরিকল্পনা কর্তৃক প্রদত্ত প্রতিবন্ধীত্বের সংজ্ঞা পথনির্দেশক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জাতিসংঘ প্রদত্ত প্রতিবন্ধদ্ধিত্বের সংজ্ঞায়নে বলা হয়, ‘বয়স, লিঙ্গ, জাতি, সংস্কৃতি বা সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী আর দশজন যে কাজগুলো করতে পারে প্রতিবন্ধীত্বের কারণে সে কাজগুলো প্রাত্যহিক জীবনে করতে না পারার অবস্থাটাই হল প্রতিবন্ধিতা৷ ইমপেয়ারমেন্ট হলো দেহের কোনো অংশ বা তন্ত্র যদি আংশিক বা সম্পূণভাবে, ক্ষণস্থায়ী বা চিরস্থায়ীভাবে তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারায় সে অবস্থাটিকেই বোঝায়৷’

প্রতিবন্ধিতার প্রকারভেদ বিভিন্ন ভিত্তিতে করা হয়ে থাকে৷ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধীত্ব নিয়ে জণ্মগ্রহণ করলে তাকে ‘প্রাথমিক’ প্রতিবন্ধিতা বলা হয়৷ জন্মের পর বিভিন্ন কারণে প্রতিবন্ধীত্ব বরণ করে থাকলে থাকে ‘অর্জিত’ প্রতিবন্ধিতা বলা হয়৷ শারীরিক প্রতিবন্ধী, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, শ্রবণ প্রতিবন্ধী, বাক-প্রতিবন্ধী, বুদ্ধি প্রতিবন্ধীসহ বহুবিধ প্রতিবন্ধীত্ব রয়েছে।

মায়ের গর্ভে XX ক্রোমজোমের সমন্বয়ে কন্যা শিশু আর XY এর সমন্বয়ে ছেলে শিশু জন্ম নেয়। ভ্রুণের বিকাশ কাল নিশ্চিতকরণের সময় বিভাজনের ফলে বেশ কিছু অস্বাভাবিক গঠনেরও সৃষ্টি হয় যেমন: XXY এবং XYY এর ফলে বিভিন্ন গঠনের লিঙ্গ প্রতিবন্ধী(হিজড়া) শিশুর জন্ম হয়। প্রতিবন্ধিতার কারণসমূহ বংশানুক্রমিকও হতে পারে। রক্তের সম্পর্ক রয়েছে এমন কোনো আত্মীয়ের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম নিতে পারে। দুর্ঘটনা, উচ্চমাত্রার জ্বর, বিষক্রিয়া, মস্তিষ্কের কিছু কিছু ইনফেকশন বা অসুখ বা টিউমার, পুষ্টি অভাব, ভিটামিনের অভাব, আয়োডিনের অভাব ইত্যাদি কারণও উল্লেখযোগ্য।

আবার মায়ের বয়স যদি ১৬ বছরের কম অথবা ৩০ বছরের বেশি হয় তাহলে প্রতিবন্ধী সন্তান জন্মানোর ঝুঁকি থাকে। গর্ভাবস্থায় মায়ের পুষ্টির অভাব, প্রথম তিন মাসের মধ্যে কড়া ওষুধ, কীটনাশক, রাসায়নিক, রশ্মি, বিষক্রিয়া গ্রহণ করে অথবা মদ পান, ধূমপান, তামাক ব্যবহার করেন তবে প্রতিবন্ধী শিশু জন্মানোর ঝুঁকি থাকে। গর্ভাবস্থায় যদি মায়ের বিশেষ হাম হয়৷ এটি সাধারণত প্রভাব বিস্তার করে থাকে ইন্দ্রিয়স্থান (শ্রবন এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধিদের ক্ষেত্রে), মস্তিস্কের সেরেব্রাল পালসি অথবা মানসিক প্রতিবন্ধীত্ব অথবা শরীরের অভ্যন্তরের বাহুতেও প্রভাব বিস্তার করতে পারে৷

গর্ভধারণকারী মায়ের যদি হৃদযন্ত্র সংক্রান্ত জটিলতা বা ডায়াবেটিস থাকে৷ জন্মের অপরিপক্বতা, প্রসবের সময় অব্যবস্থাপনা (সাধারণত অপ্রশিক্ষিত কোনো কর্মীর দ্বারা), প্রসবের সময় সঠিক চিকিৎসার অভাব, মাথায় আঘাত, প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের অভাব ইত্যাদি কারণেও হতে পারে। লক্ষ্যভিত্তিক ও সময় নির্ধারিত এমন কিছু পদ্ধতি যা একজন দুর্বল ব্যক্তিকে মানসিক, শারীরিক ও সামাজিকভাবে স্বাভাবিক পর্যায়ে উত্তরণ ঘটায়৷ এই প্রক্রিয়ায় প্রচলিত সাধারণ সামাজিক অধিকার ও সুযোগসমূহ যেমন- শারীরিক, সাংস্কৃতিক, পরিবেশ, আবাসন এবং যানবাহন, সমাজ ও স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক জীবন, খেলাধুলা এবং বিনোদনমূলক সুযোগ-সুবিধাসমূহ পেতে সমস্যার সৃষ্টি হয়।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com