আজ শহীদ নূর হোসেন দিবস

৩৭ বার পঠিত

শহীদ নূর হোসেন দিবস আজ। ১৯৮৭ সালের এদিনে মিছিলে অংশগ্রহণকালে যুবলীগ নেতা নূর হোসেন পুলিশের গুলিতে নিহত হন। নূর হোসেনের এই আত্মত্যাগ তৎকালীন গণতন্ত্রকামী মানুষের আন্দোলনকে বেগবান করে। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর ১৫ দল, ৭ দল ও ৫ দলের সচিবালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি ছিলো। সেই কর্মসূচির সাথে স¤পৃক্ত ছাত্র সংগঠনগুলোর সমর্থনে অবস্থান ধর্মঘট ঘেরাও কর্মসূচিতে রূপ লাভ করে।  ১০ নভেম্বর সকাল থেকেই সচিবালয়ের চারদিকে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার মিছিল সমবেত হয়। তখন তোপখানা রোডের মুখে পুলিশ বক্স পেরিয়ে শুরু হয় নূর হোসেনদের সাহসী মিছিল, সাহসী যুবক উদাম গায়ে লিখেছিল ‘গণতন্ত্র মুক্তিপাক- স্বৈরাচার নিপাত যাক’।

সমাবেশ শুরুর সাথে সাথে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। পল্টন তখন রণক্ষেত্র। এরই মধ্যে খবর আসে পুলিশের গুলির্বষণে শহীদ হয়েছেন নূর হোসেন। আহত হয়েছেন অসংখ্য। নূর হোসেন আত্মদানের মাধ্যমে সেদিন গণতন্ত্রের নতুন সংগ্রাম শুরু হয়। সেই সংগ্রামের ধারায় ১৯৯০ সালের ৪ ডিসেম্বর তৎকালীন শাসক পদত্যাগের ঘোষণা দেয়।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী প্রদান করেছেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেন,  ‘১০ নভেম্বর বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। এ দিনে রাজপথ রঞ্জিত হয় শহিদ নূর হোসেনের রক্তে। আমি আজ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি গণতন্ত্রের জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহিদ নূর হোসেনকে। ’

বাণীতে রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, এ দেশের মানুষ জন্মগতভাবে গণতন্ত্রপ্রিয়। কিন্তু আমাদের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার পথ কখনো মসৃণ ছিল না। স্বাধীনতা বিরোধী ঘাতকচক্রের হাতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের আপনজনদের নৃশংসভাবে হত্যার মধ্যদিয়ে এ দেশে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা  রুদ্ধ হয়। উত্থান ঘটে স্বৈরশাসনের। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য বাংলার জনগণ আন্দোলন করে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তিপাক এই স্লোগান শরীরে ধারণ করে সাহসী নূর হোসেন ১৯৮৭ সালের এই দিনে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। মিছিলের পুরোভাগে থাকা এই অকুতোভয় যোদ্ধা অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে গেছেন। শহিদ নূর হোসেনের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। তাঁর আত্মাহুতির ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি বাংলাদেশের মাটিতে নূর হোসেনের মতো সাহসী মানুষ যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন এ দেশের গণতন্ত্র বিপন্ন হবে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার  বাণীতে বলেন, ‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশে ১০ নভেম্বর আন্দোলন-সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৮৭ সালের এই দিন যুবলীগ নেতা নূর হোসেনের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল ঢাকার রাজপথ। নূর হোসেন তাঁর বুকে-পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগান লিখে ১৯৮৭ সালের এই দিনে স্বৈরাচারবিরোধী গণ-আন্দোলনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৫ দলীয় জোটের বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন।

বানীতে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন,  মিছিলটি যখন জিরো পয়েন্টে পৌঁছে, তখন স্বৈরাচার সরকারের নির্দেশে মিছিল লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করা হয়। গুলিতে নূর হোসেনের বুক ঝাঁঝরা হয়ে যায়। এছাড়াও যুবলীগের আরেক  নেতা নূরুল হুদা ও কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের ক্ষেতমজুর নেতা আমিনুল হুদা টিটো শহিদ হন। তাঁদের এ আত্মত্যাগ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। আন্দোলন আরও বেগবান হয়। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে বাবুল, ফাত্তাহসহ আরো নাম না-জানা অনেকে আত্মাহুতি দিয়েছেন। অবশেষে স্বৈরশাসকের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়। ভোট ও ভাতের অধিকার ফিরে পেয়েছে জনগণ।

দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।  আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আজ সকাল ৭টায় গুলিস্তানস্থ নূর হোসেন স্কয়ারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে আজ শহীদ নূর হোসেন দিবস যথাযথ মর্যাদার সাথে পালনের জন্য আওয়ামী লীগের সকল সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহের নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com