আমজাদ খান চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

৪৫ বার পঠিত

দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প পরিবার প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মেজর জেনারেল (অব.) আমজাদ খান চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৫ সালের এই দিনে (৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

আমজাদ খান চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রধান কার্যালয় ও বিভিন্ন কারখানাসমূহে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

আমজাদ খান চৌধুরীর জন্ম ১৯৩৯ সালের ১০ নভেম্বর নাটোর জেলার সম্ভ্রান্ত চৌধুরী পরিবারে। ঢাকার নবকুমার ইনস্টিটিউট থেকে তার শিক্ষা জীবন শুরু হয়।

১৯৫৬ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ান স্টাফ কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন এবং তিনি ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন।

এরপর রংপুর ফাউন্ড্রি লিমিটেড (আরএফএল) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের যাত্রা শুরু করেন। ‘দারিদ্র্য ও ক্ষুধা জীবনের অভিশাপ। আমাদের লক্ষ্য: লাভজনক ব্যবসায়িক কার্যক্রমের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিপূর্বক মানুষের মর্যাদা ও আত্মসম্মান বৃদ্ধি করা’। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে তিনি ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেন।

ব্যবসায় ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য মেজর জেনারেল আমজাদ খান চৌধুরী ২০১০ সালে তিনি ডিএইচএল – দ্যা ডেইলি স্টার – বাংলাদেশ বিজনেস অ্যাওয়ার্ড কর্তৃক ‘বিজনেস পারসন অব দি ইয়ার’ হিসেবে পুরস্কৃত হন।

বর্তমানে প্রাণ-আরএফএল দেশের শীর্ষস্থানীয় খাদ্য ও প্লাস্টিক পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। এই গ্রুপে বর্তমানে সরাসরি কর্মরত রয়েছে ৮০ হাজারের অধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। বিশ্বের ১৩০টি দেশে নিয়মিত রফতানি হচ্ছে প্রাণ-আরএফএল এর পণ্য। রফতানি ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘প্রাণ’ পরপর ১০ বছর জাতীয় রফতানি ট্রফি এবং ২০১১ সালে এইচএসবিসি এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে।

আমজাদ খান চৌধুরী বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যিক সংগঠন যেমন- মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিইসি), ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (আইডিসিওএল), বাংলাদেশ ডেইরি অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের সভাপতি, পরিচালকসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়া তিনি রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব), বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা), আন্ডারপ্রিভিলেজড চিলড্রেন্স এডুকেশন প্রোগ্রাম (ইউসেপ) প্রভৃতি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

দেশের অসংখ্য বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি দেশের বেসরকারি সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যের বহুমূখী ব্যবহার এবং এ শিল্পের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে তিনি অগ্রণী ব্যক্তিত্ব হিসেবে অধিক পরিচিত। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে তার অবদান অনুকরণীয়। আর দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তার প্রচেষ্টা দেশের ব্যবসায় ক্ষেত্রে এনে দিয়েছে ব্যাপক সমৃদ্ধি এবং নান্দনিক সাফল্য।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সুব্রত দেব নাথ

সিনিয়র নিউজরুম এডিটর

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com