আজ বাচিকশিল্পী ও কবি সাফিয়া খন্দকার রেখার জন্মদিন

এই সংবাদ ৫৯ বার পঠিত

সাফিয়া খন্দকার রেখা সময়ের কণ্ঠস্বর। কবি ও কবিতা এবং কবিতা ও আবৃত্তি যার কাছে সম্পূরক। শরীরের ক্ষুধা তা হোক জৈবিক হোক বেঁচে থাকার তাগিদ এর ভিতরের ক্ষোভ-আকাঙ্ক্ষাকে নিয়ে বঞ্চিত শ্রেণির জীবন উপাখ্যান তার লেখনীর উপজীব্য। আজ এই গুণী কবি বাচিক শিল্পীর শুভ জন্মদিন। কবিকে সময় www.nobobarta.com  এর পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

সাফিয়া খন্দকার রেখার মা ও বাবা

সাফিয়া খন্দকার রেখার মা ও বাবা

সাফিয়া খন্দকার রেখার শুভ জন্মদিনে তার লেখা একগুচ্ছ কবিতা

আজ কোন তিথি!!!

একলা পথিক বলতে পারো আজ কোন তিথি?
আর একবার বাঁচার ইচ্ছে হয়,
তোমার লুকনো পাণ্ডুলিপি পড়া হয়নি আজও।
দেখতে দেখতে কুড়ি,ত্রিশ,চল্লিশ
সেই যে মাতৃ জঠর থেকেই ক্রমশ কমে যাই।
আজকের চেয়ে দূর– বহু দূর কবে
পৃথিবীর শরীর ছুঁয়ে দেখেছিলাম।

সৃজনের এই আলোক রশ্মিতে
দাঁড়িয়ে আছি হাজার বছর,
তবুও হয়নি পরিচয় আজো
ক্ষমাহীন স্নায়ুর সাথে।
প্রিয়তম মৃত্যু
তুমি কি কোন এক জন্মক্ষণে
নিতে আসবে!!!
অপেক্ষার অন্ধকারে হাঁটছি
আত্মার আয়নায় শুধাই
আদৌ কি মানুষ হয়েছি!!!
নাকি কেবলি পথময় ছড়ানো ধুলিকণা!!!

সাফিয়া খন্দকার রেখা

সাফিয়া খন্দকার রেখা

অবিশ্রান্ত বৃষ্টির গান

সে যেনো আজ সুখে থাকে
অনুভবের নীলাকাশে
আগুনের ফুল পাপড়ি মেলে
ভুলে থাকার ভুলে মিশে।
সেইতো প্রথম জানিয়েছিলো
কেমন করে গ্রহণ লাগে
শাবল চালায় কম্পিত হাত
বুকের মধ্যে আঘাত জাগে।
শ্বাস প্রশ্বাসের মাতাল হাওয়ায়
প্রবল এক ভূ কম্পন
নিবিড় সেই অস্থিরতায়
মৃত কোষের সেই স্পন্দন।
সে যেনো আজ ভালো থাকে
গোলাপ ফোঁটা মধ্যরাতে
স্মৃতির কুসুম নিরুদ্দেশে
মাধবকুণ্ডের জলপ্রপাতে।
দহন বেলার করুন রাগে
মাছে জলে প্রেমের খেলা
মানব জনম হাসে কাঁদে
পাড়ে লাগে জীবন ভেলা।
ঢেউয়ের ডগায় স্বপ্ন হাঁটে
সাদা কালো রঙিন জীবন
সে যেনো আজ সুখে থাকে
জীবন যাপন আপন জীবন।
অবিশ্রান্ত বৃষ্টির গান
রঙিন খামে লিখে দিলাম
তার কাছে যা জমা ছিলো
বিষণ্ণতায় চেয়ে নিলাম।
সে যেনো তার রাজ্যপাটে
রাজার মত বেঁচে থাকে
নগর নাগর কাক পক্ষী
মৌমাছিরাও তাকেই ডাকে।
বলবে পথিক ঐযে দেখো
সুখের রাজ্যে ভাসছে রাজা
বুকের ভেতর একটা অসুখ
সুখের মতই দিচ্ছে সাজা।

মুখ

তোমার মুখ আর কোন দিন দেখতে চাইবোনা,
এই এতো বড় পৃথিবীতে ঐ একটা মুখ
যার ছবি এঁকে নিয়েছি এখন মেঘের শরীরে।
রোজ দিন জানালায় বসে থাকা পাখিটি জানে
আমার চোখ কতটা নির্ঘুম কেটেছে।
ভোরের শিশির,
আযানের সুর
মধ্যরাতের চৌকিদার
সুপুরি গাছের মাথায় রাত ভর অপেক্ষা করেছিল
যে জ্যোৎস্না
ওরা সাক্ষী সবাই
শুধু তোমার মুখ দেখবো বলে আমার কতটা ব্যাকুলতা।
এখন ইচ্ছেগুলোতে ধুলো জমেছে
মেঘ শূন্য আকাশে এখন একটি নয়
এক জোড়া মুখ
তোমার আর তোমার মানবীর।
যে মুখের নেশায় ভুলে গেছো
আজন্ম আপন এ মুখ।
নক্ষত্রগুলো ঘিরে রাখে কি অদ্ভুত সুখে,
তুমিতো ভালো আছো এই ভাবনায়।
পৃথিবী কাঁপানো বৃষ্টি জলেও
ফোটে আগুনরঙা রক্তজবা।
তোমার মুখচ্ছবি গোপন ঈশ্বরের কাছে জমা রেখে
আমি ঘুমুতে গেলাম।
অনেক অনেক ঘুম পাওনা হয়েছে আমার।
ফেরে না কেউ
ইথারে ভাসছে শীৎকার
নাগরিক শরীর চলছে ঠিকঠাক।
শ্বাস নিঃশ্বাস নিচ্ছি যথা নিয়মে,
অচেনা নীলক্ষত গিলে খায় সব কিছু
পুড়ে যাচ্ছে মনের শরীর।
চেতনাবোধের ঈশ্বর ঠেলে দিয়েছেন ফের
পরিত্যক্ত অস্তিত্বে।
দিক-চিহ্নহীন অন্ধকারে তিনি আমাকে
আরও দু’বার ঠেলে দিয়েছিলেন।
যে বছর বাবা চলে গেলেন না ফেরার দেশে
আর সেই বছর রুদ্রর না ফেরা।
বৃত্তের পাথুরে দেয়ালে আবার দাঁড়িয়েছি,
ঈশ্বর তুমি দেখতে পাচ্ছো?
দেখতে পাচ্ছো নীলকণ্ঠ পাখির পাপচুম্বন!!
অজস্র বিস্ময়বোধক চিহ্নের ভেতরে
আর হাঁটতে পারছিনা
আর কতদূর হাঁটাবে????

সম্পাদনা: এ বি এম সোহেল রশিদ
ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com