২০১৮ সালের শুরুতেই শিশু বিষয়ক অধিদফতর

এই সংবাদ ৩২ বার পঠিত

২০১৮ সালের শুরুতেই শিশু বিষয়ক অধিদফতর গঠন করবে সরকার। এ প্রক্রিয়ার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রস্তাবিত এ অধিদফতর সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি সংগঠনকে সমন্বিত করে শিশু অধিকার সুরক্ষা, উন্নয়ন ও মানসিক বিকাশে কাজ করবে। ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান শিশু একাডেমিও থাকবে এর আওতায়। বৃহস্পতিবার মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ বলেন, ‘অধিদফতর গঠন করতে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। চলতি বছরের শেষ নাগাদ কিংবা আগামী বছরের শুরুতেই অধিদফতর গঠনের কাজ চূড়ান্ত হবে।’

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের মাঝামাঝি অধিদফতর গঠন করার উদ্যোগ নিলেও তা চূড়ান্ত করতে পারেনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ওই সময় শিশু একাডেমি আইন করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু অধিদফতর করার প্রয়োজনে শিশু একাডেমি আইন করা থেকে পিছিয়ে পড়ে মন্ত্রণালয়। শিশু একাডেমি আইন করার উদ্যোগ নেওয়ায় ওই সময় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি ওঠে।

সূত্র আরও জানায়, যোগ্য নাগরিক হিসেবে শিশুদের গড়ে তোলা এবং শারীরিক, মানসিক, সাংস্কৃতিক ও সুপ্ত প্রতিভার বিকাশে ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি একটি আইনের আওতায় নিলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়তে পারে বলে অভিযোগ তোলা হয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল থেকে। এরপর থেকে অধিদফতর করার বিষয়ে কাজ শুরু করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অধিদফতর করলে শিশু একাডেমি থাকবে এর আওতায়। এ বিষয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এর আগে জানিয়েছিলেন,  মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে মহিলা বিষয়ক অধিদফতর থাকলেও শিশু বিষয়ক অধিদফতর নেই। যদিও শিশু বিকাশের লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিশুদের সাংস্কৃতিক ও মানসিক বিকাশের একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে। তার পরেও অধিদফতর প্রয়োজন। সরকারের যেসব প্রতিষ্ঠান শিশুদের নিয়ে কাজ করে তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে ও মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরিচালিত কর্মসূচি সমন্বয় করে অধিদফতর করা হবে। বেসরকারি শিশু সংগঠনকে সহায়তা ও উৎসাহ দিতেও অধিদফতর ভূমিকা রাখবে।

সূত্র জানায়, শিশুদের সার্বিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সরকার শিশু অধিদফতর করার উদ্যোগ নিয়েছে। শিশুদের কল্যাণে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণায়ের আওতায় বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এসব কর্মসূচিও পরিচালনা করবে অধিদফতর। বর্তমানে কিশোর-কিশোরী সুরক্ষা কর্মসূচি পরিচালনা করছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এছাড়া রয়েছে কিশোর-কিশোরী ক্লাবসহ বিভিন্ন কর্মসূচি।

অন্যদিকে, বেসরকারি পর্যায়ে শিশুদের উন্নয়ন কল্যাণ ও শিশু বিকাশে রয়েছে খেলাঘর, কচি-কাঁচার আসরসহ বিভিন্ন সংগঠন। তবে মুকুল ফৌজসহ অনেক সংগঠন সরকারি পৃষ্টপোষকতা না পেয়ে বিলুপ্ত হয়েছে। এসব সংগঠন গড়ে উঠেছিল শিশুদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এবং তাদের শারীরিক, মানসিক, সাংস্কৃতিক ও সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে। শিশুদের বিকাশ ও কল্যাণে অধিদফতর মনে করলে নতুন করে কর্মসূচি হাতে নেবে স্বাধীনভাবে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিচ্ছিন্নভাবে শিশুদের উন্নয়নে যেসব কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। অধিদফতর হওয়ার পর ওইসব কর্মসূচি পরিচালিত হবে অধিদফতরের মাধ্যমে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com