আজ শুক্রবার, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ১লা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী, শরৎকাল, সময়ঃ সন্ধ্যা ৭:৪৮ মিনিট | Bangla Font Converter | লাইভ ক্রিকেট

ভোটনির্দেশনা দিতে শেখ হাসিনার বৈঠক ২০ মে

আসছে সংসদ নির্বাচনে দলের নেতা-কর্মীদের কাজ সম্পর্কে সার্বিক নির্দেশনা দেবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্য গণভবনে আগামী ২০ মে ক্ষমতাসীন দলটির জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন সভানেত্রী। বৈঠকে অভ্যন্তরীন কোন্দল মিটিয়ে সরকারের উন্নয়ন কাজের প্রচারনা চালাতে স্থানীয়ভাবে উদ্যোগ নেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হবে। বৈঠকে অংশ নিতে জেলা পর্যায়ের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক, প্রচার সম্পাদক ও তথ্য সম্পাদকদের ইতোমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন।

এদিকে, এর আগে মাঠ পর্যায়ে কোন্দল মেটাতে গত ২৩ এপ্রিল থেকে দলের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন জেলনার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) দলের সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকার তিন সংসদ সদস্য আসলামুল হক, ইলিয়াস মোল্লা এবং কামাল মজুমদারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

এছাড়া সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুরের উপস্থিতিতে নীলফামারী জেলার নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন ওবায়দুল কাদের। এর আগে ২৬ এপ্রিল সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট নেতৃবৃন্দ এবং সংস্কৃতি কর্মীদের সঙ্গে, ২৪ এপ্রিল যশোরের নেতৃবৃন্দ এবং ২৩ এপ্রিল কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এ প্রসঙ্গে বলেন, দলের মধ্যে কোনো ধরনের সমস্যা থাকলে তা সমাধান করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমাদের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জেলার নেতাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন- দলের মধ্যে কোনো ধরনের গ্রুপিং চলবে না।

বৈঠকে উপস্থিত কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনের জয়ের লক্ষ্যে দলের মধ্যে চলা সব সমস্যা ও কোন্দল সমাধান করতে জেলার নেতাদের প্রতি নির্দেশ  দেয়া হয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জেলার নেতাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দলের মধ্যে কোনো গ্রুপিং চলবে না। আগামী নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে সংগঠনকে গ্রুপিং মুক্ত রাখতে হবে। সেজন্য সমস্যা সমাধানে জেলার নেতাদের কাজ করার নির্দেশও দেন তিনি। এছাড়া প্রতিটি জেলার নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় স্থানীয় পর্যায়ে কোন্দলের কারণ তি তা জানতে চান দলের সাধারণ সম্পাদক। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোন সমস্যা হলে তড়িৎ গতিতে কেন্দ্রকে জানানো পরামর্শ দেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, সোমবার যশোরে বৈঠক চলার সময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেন। এ সময় উভয় নেতা বাগবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের উভয় নেতাকে থামিয়ে দিয়ে দলের স্বার্থে, নৌকার স্বার্থে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার নির্দেশনা দেন।

সূত্র আরও জানায়, গত রোববার বিকাল ৫টায় কুষ্টিয়া এবং চুয়াডাঙ্গার পর সোমবার বিকাল ৪টায় যশোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়। আগামী ৪ মে বিকাল ৫টায় সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং সংশ্লিষ্ট জেলার সংসদ সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে বসবে আওয়ামী লীগ। জানাগেছে, সাংগঠনিক জেলার পাশাপাশি গত ২৬ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সমর্থিত সংস্কৃতি কর্মীদের দুই পেশাজীবী সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনেও বৈঠক করা হয়েছে।

এছাড়া আগামী ৩০ এপ্রিল আইনজীবীদের সঙ্গে বসবেন ওবায়দুল কাদের। এর আগে গত ১৯ এপ্রিল আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর এক সভায় দলীয় বিরোধপূর্ণ জেলাগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মতবিনিময় সভায় দলের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, বি এম মোজাম্মেল, অসিম কুমার উকিল ও সুজিত রায় নন্দী উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, কেন্দ্র যখন তৃণমুলের দ্বন্ধ নিরসনে কাজ শুরু করেছে তখন দেশের বিভিন্ন স্থানে দলের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নেতারা। এসব ঘটনায় যেসব নেতা, এমপি বা মন্ত্রীরা ইন্ধন যোগাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও ভাবছে কেন্দ্র। খোদ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাও কারও কারও কর্মকান্ডে চটেছেন বলে দলের গুরুত্বপূর্ণ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই পক্ষের সংষর্ষ এবং হলতাল আহ্বান করায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক এবং র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপিকে তিরস্কার করেছেন তিনি। দ্বন্দ্ব  নিরসনে এ দুই নেতাকে নিয়ে বসার নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এরই মধ্যে তিনি উসকানিদাতাদের ব্যাপারে তথ্য নিচ্ছেন। তবে কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, বড় দলে এ ধরনের ছোট ছোট সমস্যা থাকা অস্বাভাবিক নয়। সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু করা হয়েছে। এ কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে।

এছাড়া চট্টগ্রামের দুই শীর্ষ নেতার দ্বন্ধের জেরে ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রামে পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এর পেছনের কারণ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের দ্বন্দ্ব।

কেন্দ্রের নির্দেশে দুই নেতা এক মঞ্চে ওঠার পরের দিনের ওই ঘটনা বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে কেন্দ্রীয় নেতাদের। এজন্য ২২ এপ্রিল চট্টগ্রামে স্থানীয় নেতাদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের ভেতরে কিছু নেতা বিদ্রোহে উসকানি দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন। এসব উসকানিদাতার ব্যাপারে তথ্য আছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। সময় হলেই টের পাবেন তারা। তাই সময় থাকতে ভালো হয়ে যান। তিনি বলেন, আমি আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে অনুরোধ করব, ছাত্রলীগকে স্বার্থ রক্ষার পাহারাদার হিসেবে ব্যবহার করবেন না। তাতে আপনাদেরও ক্ষতি হবে, ছাত্রলীগেরও ক্ষতি হবে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com