‘পঁচাত্তর পরবর্তী প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস শিখেছে’

৮৭ বার পঠিত

পঁচাত্তরের পর পুরো একটি প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস শিখে বিভ্রান্ত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি তো বলতে পারি, পঁচাত্তরের পর যে ঘটনা, যে অপপ্রচার চলেছে—তাতে অনেকে বিভ্রান্ত হয়েছে। সত্যিকার ইতিহাস জানতে পারে নাই। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে এবং চেতনাকে সমুন্নত রাখতে এ জাদুঘর বিশেষ ভূমিকা রাখবে।’

তাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত ঠেকাতে প্রতিটি জেলা-উপজেলায় সংক্ষিপ্ত পরিসরে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রোববার নবনির্মিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভবিষ্যতে কেউ যাতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভুলে না যায়, সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পঁচাত্তরের পর সমস্ত ইতিহাস বিকৃত হয়ে গেল। একজন ঘোষক হয়ে গেল, একজন একটা বাঁশি ফুঁ দিল তো মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। নানা ধরনের কাল্পনিক ইতিহাস দিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করা হলো। ২১টি বছর একটি জাতির জন্য কম সময় নয়। অনেক পানি গড়িয়েছে।’

১৯৯৬ সালের ২২ মার্চ রাজধানীর সেগুনবাগিচায় একটি ভাড়া করা বাড়িতে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের কার্যক্রম। ২১ বছর পর জাদুঘর তার নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর হলো। তিনটি বেসমেন্টসহ নয়তলা এ ভবন নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ সরকার জাদুঘর কর্তৃপক্ষকে জমি এবং আর্থিক অনুদান দিয়েছে। দেশের সবকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও অনুদান এসেছে এ জাদুঘর নির্মাণে।

১০২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় এক একর জায়গায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ৯তলা ভবন নির্মিত হয়েছে। এ ভবনের এক লাখ ৮৫ হাজার বর্গফুট আয়তনের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক প্রদর্শনে চারটি গ্যালারি রয়েছে। শব্দ ও আলোর প্রক্ষেপণের বিশেষ প্রদর্শনী থাকছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে। স্থপতি তানজিম হাসান সেলিমের নকশায় দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলীর জাদুঘর ভবনটি গড়া হয়েছে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com