সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে জনগণের সহযোগিতা লাগবে

এই সংবাদ ৩২ বার পঠিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ধরিয়ে দেওয়া, আইনের হাতে সোপর্দ করা এবং তাদের উপযুক্ত শাস্তির জন্য প্রত্যেক মানুষের সহযোগিতা লাগবে।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সাংসদ হাজি সেলিমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। এ সময় সংসদের সভাপতিত্ব করেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।
শেখ হাসিনা জনগণের নিরাপত্তায় সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘পুলিশ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করছি। তাদের সংখ্যা বাড়াচ্ছি। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও শক্তিশালী করা হচ্ছে। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটিগুলোকে সক্রিয় করা হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো দেশের মানুষকে সচেতন করা। সবার মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হলেই দেশকে আরও শান্তিপূর্ণ করা সম্ভব।’
বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছিটমহলগুলোর নিরাপত্তায় সব রকম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ৬৮ বছর ছিটমহলবাসীর কোনো দেশ ছিল না। তখন দুর্বৃত্ত থাকতে পারে। এখন এই দুর্বৃত্তরা কোথায় গেল, তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। তবে বিরোধীদলীয় নেতা কোনো তালিকা দিতে পারলে আমরা খুঁজে বের করতে পারব।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সংসদে যেকোনো বিষয় আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি সবচেয়ে বেশি উপস্থিত থাকি। অনেক সময় চেম্বারে থাকি। তবে যেখানেই থাকি, সংসদীয় কার্যক্রম শোনার সুযোগ থাকে আমার। আর কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলে আমি উপস্থিত থাকি।’
৫২টি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন: আবদুল ওদুদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি ৬১৮টি প্রতিশ্রুতি ও নির্দেশনা দিয়েছেন। এর মধ্যে গত সাত বছরে ৫২টি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়েছে। ২৮৫টি বাস্তবায়নাধীন আছে। প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ২৮১টি প্রতিশ্রুতি। এর মধ্যে ১০৬টি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ডিপিপি অনুমোদিত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে।
সাবেক ছিটমহলবাসীর জন্য পদক্ষেপ: সাবেক ছিটমহলবাসীর পুনর্বাসন ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে কাজী ফিরোজ রশীদের পক্ষে তাজুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সাবেক ছিটমহলবাসীর পুনর্বাসন ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী এই অর্থ ছাড় করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ছিটমহলবাসীর নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ইতিমধ্যে জেলাভিত্তিক বরাদ্দকৃত কোটার অতিরিক্ত বরাদ্দের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এ ক্ষেত্রে ৮৮তম ব্যাচে সিপাহি (জিডি) পদে ভর্তির ক্ষেত্রে ছিটমহলবাসীর জন্য অতিরিক্ত ৫০টি কোটা বরাদ্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিজিবিতে সিপাহি পদে এইচএসসি পাস প্রার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। কিন্তু ছিটমহলবাসীর নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করে এসএসসি পাস করা হয়েছে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সুব্রত দেব নাথ

সিনিয়র নিউজরুম এডিটর

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com