জব্দ গাড়িটি ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ পাবে না!

৭৫ বার পঠিত
আবুল কাশেম: রাজধানীর বারিধারার কূটনীতি পাড়া থেকে জব্দ হওয়া প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল রেঞ্জ রোভার গাড়িটির মালিকানা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। আইনগত ভাবে এই গাড়ির মালিক বাংলাদেশ সরকার। এক সময় এই গাড়িটির মালিক ঢাকায় নিযুক্ত মিশরের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহমুদ ইজ্জাত ছিলেন। তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া হলুদ নাম্বার প্লেট (নম্বর-দ ৬৮-০১৬) গাড়িটি কূটনীতিক মর্যাদায় ব্যবহার করেছেন। কিন্তু তিনি গোপনে এই গাড়িটি চট্টগ্রামের ইন্ট্রাকো গ্রুপ ও হোটেল আগ্রাবাদের এমডি রিয়াদ আলীর কাছে বিক্রি করেছেন। আর এই ব্যবসায়ীও গাড়ির বকেয়া ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে হলুদ নাম্বার প্লেট নম্বর-দ ৬৮-০১৬ গাড়িটি কূটনীতিক মর্যাদায় ব্যবহার করে যাচ্ছেন- যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আইনের দৃষ্টিতে গাড়িটির বিক্রেতা মিশরের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহমুদ ইজ্জাত এবং ক্রেতা ব্যবসায়ি রিয়াদ আলী দুই জনই অপরাধী। বিআরটি-এর সাবেক উপ পরিচালক তপন কুমার সাহা বলেন, শুল্কমুক্ত ও হলুদ নম্বরপ্লেট-যুক্ত বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। এটা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার। এখানে বিআরটিএ-এর কোনো ভূমিকা নেই। তিনি বলেন, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের টিম গাড়িটি জব্দের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। তবে গাড়িটি বিক্রেতা কিংবা ক্রেতার ফেরত পাবার সম্ভাবনা নেই। কারণ তারা দুইজনই আইন লঙ্ঘন করেছেন।

১৫ জানুয়ারি বারিধারার কূটনীতি পাড়ার ১১ নম্বর রোডের-০১ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের টিম গাড়িটি জব্দ করে। গাড়িটি ২০১৪ মডেলের জিপ গাড়ি। এই গাড়িটি এক সময় মিশরীয় কূটনীতিক ব্যবহার করলেও বর্তমানে অবৈধভাবে ব্যবহার করেন একজন ব্যবসায়ী। হলুদ নম্বর প্লেট লাগানো ২০১৪ সালের সাদা রঙের রেঞ্জ রোভার গাড়িটির (দ ৬৮-০১৬) গাড়িটির মালিক ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মিশরের সর্বশেষ রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক কোরের ডিন মাহমুদ ইজ্জাত। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ থেকে ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল ছাড় করানো ২৯৯৩ সিসির গাড়িটির মূল্য ৭৭ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৮ টাকা। ৬০১ শতাংশ শুল্ককর হিসেবে যার সম্ভাব্য শুল্ককর ৪ কোটি ৬৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭৫১ টাকাসহ গাড়িটির বর্তমান মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৬ কোটি টাকা।

কূটনীতিক কোরের ডিন মাহমুদ ইজ্জাত পরে গাড়িটি ব্যবসায়ী রিয়াদ আলী সেলিমের কাছে বিক্রি করেন। আর গাড়িটি ব্যবহার করেন ওই ব্যবসায়ী রিয়াদ আলী সেলিমের স্ত্রী মিসেস হুদা আলী সেলিম। টানা এক বছর ধরে তিনি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে গাড়িটি অবৈধভাবে ব্যবহার করেন। তাছাড়া কূটনীতিক মাহমুদ ইজ্জাতও শুল্ক কর পরিশোধ না করেই বিক্রি করে মিশর চলে যান। এদিকে ১৮ জানুয়ারি ক’টনীতিক মাহমুদ ইজ্জাত ঢাকার উদ্দেশ্যে মিশর থেকে রওনা হয়েছেন বলে মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী, দেশ ত্যাগের সময় গাড়িটি ফেরত বা হস্তান্তরের নিয়ম থাকলেও মাহমুদ ইজ্জাতের বেলা তা করা হয়নি।

 
যমুনা নিউজ
ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com