পড়াশোনা করেন না অধিকাংশ এমপি!

আরিফুল ইসলাম: শিক্ষার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। চলতে হলে জ্ঞান অর্জন করতেই হয়। আর এই জ্ঞান অর্জনের জন্য বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। একজন শিক্ষককেও পরদিন কী পড়াবেন তা দেখে আসতে হয়। শুধু পড়ানো নয়, প্রতিটা দায়িত্ব পালন করার আগে তার প্রস্তুতি থাকলে কাজটা সহজ হয়। জণগণের মুখপাত্র হিসেবে জাতীয় সংসদে কথা বলেন ৩৫০ জন সংসদ সদস্য। নাগরিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন তারা। বলা যায় নাগরিকদের ভবিষ্যৎ দায়িত্ব ও তাদের হতে। কিন্তু এই সাংসদদের মধ্যে অধিকাংশয় জ্ঞান চর্চা থেকে বিরত থাকছেন।

বর্তমানে জাতীয় সংসদের গ্রন্থাগারে আছে প্রায় ৯০ হাজারেরও বেশি বই। কিন্তু বিশাল সংগ্রহের এই গ্রন্থাগার ব্যবহার করেছেন মাত্র ১৭ জন এমপি।
সংসদ সচিবালয় সূত্র যমুনা নিউজ টোয়েন্টি ফোর ডটকমকে জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর এই তিন মাসে ৩৫০ জন এমপির বিপরীতে মাত্র ১৭ জন সংসদ গ্রন্থাগারে গিয়েছেন। এর আগে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রন্থাগারে গিয়েছেন মাত্র ৫৩ জন সংসদ সদস্য। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংসদ সদস্যদের মধ্যে ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সংসদের ভেতরে জ্ঞানভিত্তিক চর্চা কমে গেছে।

ব্যবসায়ীরা গ্রন্থাগারে না বসে ব্যবসায়ে মনোযোগী থাকবেন সেটাই স্বাভাবিক। যে কারণে অনেক সংসদ সদস্যের কাছে সংসদ ভবনের গ্রন্থাগারের অবস্থানও অজানা।  সংসদ সদস্যের অনাগ্রহে গ্রন্থাগারের ভেতরের পরিবেশও দিন দিন নাজুক হয়ে উঠেছে। দেশের বেশিরভাগ বড় গ্রন্থাগারে কম্পিউটারের মাধ্যমে বই ও তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি (ই-ক্যাটালগিং) চালু হলেও সংসদ গ্রন্থাগারে এটি এখনো পুরোপুরি চালু করতে পারেনি। দুর্বল শ্রেণিবিন্যাসের কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বই খুঁজে পাওয়া যায় না।

১৭ জন সদস্য সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে গ্রন্থাগার ব্যবহার করেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী, তালুকদার আবদুল খালেক, পঞ্চানন বিশ্বাস, আলহাজ অ্যাডভোকেট রহমত আলী, মো. হাবিবে মিল্লাত, নুরুল ইসলাম মিলন, আবুল কালাম আজাদ (জামালপুর-১), কাজী রোজী, আলী আশরাফ (কুমিল্লা), পীর ফজলুর রহমান, মোহাম্মদ আমান উল্লাহ, সাইমুম সরোয়ার কমল, আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, ফজিলাতুন নেসা বাপ্পী, বেগম নাভানা আক্তার, মইন উদ্দীন খান বাদল, বেগম সাগুফতা ইয়াসমিন।

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও লাইব্রেরি কমিটির সভাপতি মো. ফজলে রাব্বী মিয়া যমুনা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,লাইব্রেরি হচ্ছে জ্ঞানের ভাণ্ডার। সংসদ সদস্যদের বেশি করে লাইব্রেরি ব্যবহার করতে হবে। সংসদ লাইব্রেরি ব্যবহারের ফলে সংসদ সদস্যরা বেশি উপকৃত হবেন।
তিনি বলেন, লাইব্রেরিকে ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। আমি মনে করি সংসদ লাইব্রেরি ব্যবহার করে সংসদ সদস্যরা আরও বেশি বেশি আইন-কানুন সম্পর্কে জানবেন।

—যমুনা নিউজ
ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
১২৪ বার পঠিত
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com