বিমানের জরুরি অবতরণ, মাস্ক পরে বাঁচলেন ৩৮ যাত্রী

এই সংবাদ ২৫ বার পঠিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফ্লাইটের বিমানের নাট-বোল্ট ঢিলের ঘটনার রেশ না কাটতেই আবারও যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়েছে বিমানের আরও একটি ফ্লাইট। এবার ঢাকা থেকে মিয়ানমারগামী একটি ফ্লাইটে কেবিন এয়ার প্রেসারাইজেশান সিস্টেম বিকল হয়ে পড়ায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে হয়েছে। সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আকাশে অক্সিজেন সংকটে অসুস্থ হয়ে পড়েন শিশু-মহিলাসহ ৩৮ যাত্রী। বিমানের মধ্যে তাদেরকে অক্সিজেন মাস্ক পরিয়েই ঢাকায় আনা হয়।

বিমানের প্রকৌশল শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার আসাদুজ্জামান জানান, দুপুর দেড়টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইয়াংগুনের উদ্দেশে ছেড়ে যায় ওই ফ্লাইটটি। আধা ঘণ্টা উড়ার পর এয়ারক্রাফটের কেবিনের ভেতর এয়ার প্রেসারাইজেশন কন্ট্রোল সিস্টম অচল হয়ে পড়ে। এতে অক্সিজেন সংকটে যাত্রীদের দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। বাধ্য হয়ে পাইলট ঢাকায় ফিরে এসে শাহজালালে জরুরি অবতরণ করেন। পরে সন্ধ্যার দিকে ওই ত্রুটি মেরামতের পর সেটি আবার ইয়াংগুনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যায়।

প্রকৌশল শাখা সূত্রে জানা গেছে, ফ্লাইটটি শাহজালাল বিমানবন্দর ছেড়ে যাওয়ার পর যখন ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ওঠে তখন পাইলটকে এয়ারক্রাফটের ভিতরে বাতাসের চাপ ৪ থেকে ৫ হাজার ফুটের উচ্চতার সমান নিয়ে আসতে হয়। অন্যথায় আকাশে একদিকে এয়ারক্রাফটি দুমড়ে-মুচড়ে যাবে অন্যদিকে যাত্রীদের অক্সিজেন সংকট দেখা দেবে।

অভিযোগ আছে, বিমানের বেশ কয়েকজন অসাধু পাইলট আছেন যারা টেক-অফের পর ফ্লাইটটি যখন ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় উঠে যায়, তখন এয়াক্র্যাফটের দায়িত্ব ফাস্ট অফিসারদের ওপর ছেড়ে দিয়ে নানা আড্ডায় জড়িয়ে পড়েন কিংবা ঘুমিয়ে পড়েন। ফ্লাইট অবতরণের সময় আবার আসনে আসেন। এতে মাঝে মাঝে আকাশে নানা জটিলতার মুখে পড়ে এয়ারক্রাফট। অনভিজ্ঞ ফাস্ট অফিসাররা এসব সামাল দিতে পারেন না।

বিমান জনসংযোগ শাখার মহাব্যবস্থাক শাকিল মেরাজ জানান, দুপুর দেড়টায় ৩৮ জন যাত্রী নিয়ে বিজি-০৬০ (ড্যাশ এইট উড়োহাজাজটি) বিমানবন্দর ছেড়ে যাবার পর চট্টগ্রামে পৌঁছার আগেই বিদেশী পাইলট ক্যাপ্টেন হাতিম দেখতে পান কেবিন এয়ার প্রেসার কন্ট্রোল হচ্ছে না। চাপ আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছিল। বাধ্য হয়েই এক ঘণ্টা পর বেলা আড়াইটায় ঢাকায় ফিরে আসেন তিনি।

বিমানের এয়ার সার্ভিস শাখার মহাব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম হাওলাদার যুগান্তরকে জানান, যাত্রীদেরকে শাহজালালের লাউঞ্জে নিয়ে গিয়ে আপ্যায়ন করানো হয়েছে। পরে তাদেরকে সন্ধ্যার দিকে আবার ওই ফ্লাইটেই ইয়াঙ্গুন নিয়ে যাওয়া হয়। বিমান সূত্র জানায়, বিমানের এই ড্যাশ এইট উড়োহাজাটি মিশর থেকে লিজে আনা হযেছে। এর ক্যাপ্টেন হাতিমও মিশরের নাগরিক। তিনি পেশাদার হলেও ওয়ার্ক পারমিট ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে বিমানে চাকরি করছেন।

কেবিন এয়ার প্রেসারাইজেশান সিস্টেম নষ্ট হওয়ায় কি ধরনের বিপদ ঘটার আশংকা জানতে চাইলে বিমানের একজন প্রকৌশলী বলেন, আকাশে উড়ার পর যতোই ওপরের দিকে ওঠে ততোই অক্সিজেন ও বাতাসের চাপ কমে যায়। এয়ারক্রাফটের ভেতর ও বাইরের বাতাসের চাপের মধ্যে ব্যাপক ব্যবধান ঘটে। কেবিন এয়ার প্রেসারাইজেশান সিস্টেম এই ব্যবধানের মধ্যে প্রয়োজনীয় ভারসাম্য রক্ষা করে। এয়ারকন্ডিশনিং সিস্টেম ও কেবিন এয়ার প্রেসারাইজেশান সিস্টেমের মধ্যেও ভারসাম্য থাকে বলেই যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে থাকে।

বিমানের সাবেক একজন পরিচালক বলেন, ভূপৃষ্ট থেকে ১০ হাজার ফুট ওপরে ওঠলেই অক্সিজেন ও বাতাসের চাপ কমতে থাকে। ৪০ হাজার ফুট ওপরে ওঠলে সেটা আরও কমে যাওয়ায় ভেতরে যাত্রীরা স্বাভাবিকভাবে যে অক্সিজেন পায়, সেটা এই প্রেসারাইজেশান সিস্টেমের কারণে। এ কারণেই ফ্লাইট টেক-অফের আগেই কেবিন ক্রুরা যাত্রীরা এমন জরুরি পরিস্থিতিতে কিভাবে ওপরের কেবিনে থাকা মাস্ক পরতে হয় তার কৌশল জানিয়ে দেয়। অন্যথায় শ্বাসকষ্টে মৃত্যুও ঘটতে পারে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com