মন্ত্রিপরিষদ থেকে অপসারিত হতে পারেন : ছায়েদুল

৪৭ বার পঠিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সংখ্যালঘুদের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলার পর হিন্দুদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল  হক মন্ত্রিপরিষদ থেকে অপসারিত হতে পারেন। বিতর্কিত মন্তব্য করায় সরকার ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ে এই মন্ত্রীকে নিয়ে ক্ষোভ চলছে এবং তাকে অব্যাহতি দেয়ার বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে। দু’একদিনের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে বলেও গুঞ্জন চলছে। তবে সরকারের নীতি নির্ধারক পর্যায় থেকে এ বিষয়ে কোনো আভাস পাওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার রাতে নাসিরনগরের ডাকবাংলোতে স্থানীয় সংখ্যালঘু নেতাদের উদ্দেশ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোঃ ছায়েদুল হক বলেন, ‘মালাউনের বাচ্চারা বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করছে। আর এ ঘটনাকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে প্রচার করে অতিরঞ্জিত করেছে সাংবাদিকরা। অথচ ঘটনা কিছুই নয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, ইউপি নির্বাচনে রাজাকারপুত্রকে দলীয় মনোনয়ন এবং সম্প্রতি নাসিরনগরের ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলা এবং হিন্দুদের নিয়ে অশালীন মন্তব্যের কারণে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হকের ওপর অসন্তুষ্ট। এ ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগ ও নাসিরনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ কারণে তাকে নিয়ে অস্বস্থিতে রয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগেও। ফলে তাকে মন্ত্রিপরিষদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করছে বলে সূত্রগুলো জানায়। এদিকে গতকাল শুক্রবার রাজধানীতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ ও সমাবেশ থেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হকের পদত্যাগের দাবি উঠেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মন্দির ও হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ও শাহবাগে ২০টি হিন্দু সংগঠনের ডাকা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি করা হয়। সমাবেশে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার পাল বলেন, ‘ঘটনা ঘটার কয়েক দিন পরে মন্ত্রী ছায়েদুল হক এলাকায় গিয়েছেন। তিনি যাওয়ার পরেও সেখানে আবার হামলা হয়েছে। এতেই বোঝা যায় তিনি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত।’ এই ঘটনায় তিনি মন্ত্রী ছায়েদুল হকের পদত্যাগ দাবি করলে উপস্থিত বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা সমস্বরে তার প্রতি সমর্থন জানান। তাপস বলেন, ‘নাসিরনগরের ইউএনও চৌধুরী মোয়াজ্জেম ওইদিন সমাবেশের অনুমতি না দিলে এই হামলার ঘটনা ঘটত না। আমরা ইউএনওর অপসারণেরও দাবি জানাচ্ছি।’ এদিকে হিন্দুদের ওপর সহিংসতার পর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত নাসিরনগর থানার ওসি আবদুল কাদেরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার বুধবার দুপুরে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার আদেশ দিলেও রাতে মন্ত্রী ও নাসিরনগরের সংসদ সদস্য ছায়েদুল হক বলেছেন সে (ওসি) ভালো লোক। তাকে প্রত্যাহার করা যাবে না। তার আদেশ বাতিল করা হচ্ছে। মন্ত্রীর এমন ভূমিকায় এলাকায় সংখ্যালঘু এবং সুশীল সমাজের মধ্যে চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নাসিরনগরের সংখ্যালঘু নির্যাতনের পরিস্থিতি দেখতে বুধবার সেখানে যান বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত। সংখ্যালঘু নেতারা তাকে সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করে মন্ত্রী ছায়েদুল হকের কর্মকা-ও তুলে ধরেন। রানা দাশগুপ্ত বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার ক্ষমতায় থাকতে একজন মন্ত্রী হিন্দুদের নিয়ে এই কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য কীভাবে করলেন? এতে জাতি বিস্মিত। 

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সুব্রত দেব নাথ

সিনিয়র নিউজরুম এডিটর

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com