ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মন্দিরে হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি

২৭ বার পঠিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মন্দির ও ঘরবাড়ি ভাংচুরের ঘটনা তদন্তে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে ওই ঘটনায় নাসিরনগর থানায় পৃথক তিনটি মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘নাসিরনগরের সহিংসতায় পুলিশের দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে কী না তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কাদেরকে প্রত্যাহারের বিষয়টি সময়ের ব্যাপার মাত্র। প্রাথমিক তদন্তে তার অবহেলার প্রমাণ মিলেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘নাসিরনগর থানার সিসি টিভি ফুটেজ থেকে হামলাকারীদের শনাক্তের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে শনাক্তও করা হয়েছে। শিগগিরই তাদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু হবে। কেউ যেন অযথা হয়রানির শিকার না হয় সে জন্য সতর্কভাবে গ্রেফতার করা হচ্ছে।’

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দফতর) রাজন কুমার দাসসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি পোস্ট করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগ তুলে শনিবার সকালে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের জনৈক রসরাজ দাসকে (৩০) ধরে ইউপি কার্যালয়ে নিয়ে যায় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় রাতেই রসরাজের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা করা হয়।

এ ঘটনার জের ধরে রোববার উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের পাশাপাশি প্রায় শতাধিক হিন্দু বাড়িঘর এবং দত্তবাড়ি ও জগন্নাথ বাড়ি মন্দিরসহ অন্তত ১০টি মন্দিরে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় শতাধিক বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটেরও অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com