সন্ত্রাস দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান শেখ হাসিনার

২০ বার পঠিত

সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় সন্ত্রাসী ও চরমপন্থিদের প্রশিক্ষক, পরিকল্পনাকারী, সহযোগী, অর্থদাতা এবং অস্ত্র সরবরাহকারীদের খুঁজে বের করতে বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনোমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সন্ত্রাসী ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে বিমসটেকের মাধ্যমে সন্ত্রাস ও সহিংস চরমপন্থার উত্থান মোকাবেলায় আমাদের সহযোগিতা আরও জোরদার করা উচিত।’

রবিবার (১৬ অক্টোবর) ভারতের গোয়ায় বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রের নেতাদের এক সভায় যোগ দিয়ে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘বিমসটেক ভুক্ত  দেশগুলোর মধ্যে যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) হওয়ার কথা, এক যুগ পার করেও তা বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়নে জোটের নেতাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করতে হবে।’ এ সময় আগামী বছর বিমসটেকের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এফটিএ’র আওতায় চারটি চুক্তিতে উপনীত হওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করতে সাত জাতির এই জোটের প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘এতে আমাদের আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য জোরদার হবে, আর বিমসটেকের কার্যক্রমেও গতি আসবে।’ গোয়ার হোটেল লীলায় বিমসটেক নেতাদের রিট্রিট পর্বে অন্যান্য বিমসটেক নেতাদের সঙ্গে অংশ নিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয় সময় বেলা পৌনে চারটায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পাঁচ জাতির জোট ব্রিকস (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা) শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচে অংশ নিতে গোয়ায় রয়েছেন এই নেতারা। তার আগে এই বিমসটেকের রিট্রিট পর্বের আয়োজন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মূলত মোদির নিমন্ত্রণেই এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন বিমসটেক নেতারা।

বিমসটেক এর অন্য সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, মায়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সুকি, নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রযুত চান ওচা এবং শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপাল সিরিসেনা এতে অংশ নিচ্ছেন। নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের গোয়ায় আমাদের আমন্ত্রিত করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আজ এখানে ১৯৯৭ সালে বিমসটেকের প্রতিষ্ঠাকালীন চার জন নেতার একজন হিসেবে দাঁড়িয়ে আমি বলতে পারি গত বিশ বছরে আমরা আমাদের দুটি অঞ্চলকে সংযুক্ত করার পথে অগ্রগতি এনেছি। এটা ঠিক আমাদের এগিয়ে চলার গতি কিছুটা মন্থর, তবে এখন সময় সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজটি জোরদার করার।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি সমন্বয় ও সহযোগিতায় বিশ্বাসী। আর আমাদের প্রেরণা এসেছে আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকেই। ১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় তিনি প্রতিবেশীদের মধ্যে সংঘাতময় সম্পর্কের অবসানের আহ্বান জানিয়েছিলেন। আমাদের সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।’

বিমসটেক নেতাদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, বিমসটেককে আরও কিভাবে কার্যকর করা যায় এবং সে অনুযায়ী এই জোটকে কিভাবে আরও সক্রিয় করে তোলা যায়, সময় এসেছে সে ব্যাপারে ফিরে দেখার। এ সময় এফটিএ’র আওতায় চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় জোট নেতাদের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী ভাষণ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনিও বিমসটেককে কার্যকর করার জন্য সকল সদস্যের সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান। অন্যান্য নেতারাও তাদের বক্তব্যে বিমসটেককে কার্যকর জোটে পরিণত করার লক্ষ্যে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com