‘রামপালে বিদ্যুৎ প্রকল্প দ্বিতীয় শ্রেণির’ : সুলতানা কামাল

২২ বার পঠিত

বাগেরহাটের রামপালে প্রস্তাবিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দ্বিতীয় শ্রেণির বলে অভিযোগ করেছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ। এতে ব্যবহৃত প্রযুক্তি সেকেলে এবং অনুপযুক্ত বলেও মত তাঁদের। ফলাফলে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলার পাশাপাশি দেশের জন্যও এই প্রকল্প অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। শুক্রবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিশেষজ্ঞদের এই মতামত তুলে ধরেন সংগঠনের আহ্বায়ক সুলতানা কামাল।

সুন্দরবন মারাত্মক হুমকিতে পড়বে, এমন আশঙ্কায় বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি। এ জন্য বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের যুক্তিও তুলে ধরেছেন তাঁরা। একই দাবিতে এবার কয়েকজন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞের মতামত তুলে ধরলেন তাঁরা। বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আছেন বায়ুদূষণ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. রঞ্জিত সাহু, পানিদূষণ বিশেষজ্ঞ ডোনা লিসেনবি, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান ডেব নিয়েমিয়ার, ভূতত্ত্ববিদ চার্লস নরিস, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্লস এইচ জ্যাকব।

সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক সুলতানা কামাল বলেন, ‘এই নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞরা সর্বসম্মতভাবে একমত হয়ে বলেছেন, রামপাল প্রকল্প একটি দ্বিতীয় শ্রেণির বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট। যাতে রয়েছে সেকেলে ও অনুপযুক্ত প্রযুক্তি যা সুন্দরবন ও আশপাশের জনপদের ওপর অগ্রহণযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব প্রতিরোধে সক্ষম নয়।’

সুন্দরবনের জন্য সামান্য ঝুঁকিপূর্ণ কোনো প্রকল্পও যেখানে অনুমোদন পাওয়ার কথা নয়, সেখানে রামপাল প্রকল্প কীভাবে অনুমোদন পায় সেই প্রশ্নও তোলেন সুলতানা কামাল। তিনি বলেন, ‘সরকারের যাঁরা এসব চুক্তি করছেন, তাঁরা কোন ভিত্তিতে কী ধরনের চুক্তিগুলো করছেন। কারণ আপনারা দেখেছেন রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প বর্জ্য অপসারণে রাশিয়া কোনো রকম দায় নেবেই না। আমাদের রামপাল প্রকল্পেও কিন্তু এ রকম এমন অনেক কিছু আছে যেখানে দেখা যাচ্ছে পরবর্তী সময়ে সব দায়দায়িত্ব কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের ঘাড়ের ওপরই পড়বে।’  বিকল্প থাকার পরও সুন্দরবনের পাশ থেকে এই প্রকল্প কেন সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে না, সে প্রশ্নও তোলেন অনেকে।

অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ বলেন, ‘আমরা গ্যাস করতে পারি। কয়লাও আমরা আমদানি করছি, গ্যাসও আমরা আমদানি করব।… যদি আমরা করি। তাহলে অবভিয়াসলি (অবশ্যই) পলিউশন (দূষণ) কম হবে। এটা নিয়ে বিতর্ক হবে না। তাহলে একটা মাত্র কোয়েশ্চেন (প্রশ্ন) থাকবে। তা হলো, কস্ট (খরচ) কি এর চেয়ে কম পড়বে না বেশি পড়বে? এই কমপ্লিকেটেট ইকোনমিক এক্সারসাইজ (জটিল অর্থনৈতিক কাজটি) সরকার করছে না।’ রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিট যে যুক্তিতে বাতিলের চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার, একই যুক্তিতে প্রথম ইউনিটও বাতিলের দাবি জানান তাঁরা।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com