‘পুলিশের কেউ মারা যায় নি; এতেই যতো আপত্তি তাই না’ : মনিরুল ইসলাম

কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে জঙ্গি নির্মূলে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশে সবচেয়ে বড় সাফল্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষিতে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল (সিটি) ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম। ফেসবুকে তিনি তার বক্তব্য তুলে ধরেন। বুধবার এক স্ট্যাটাসে কল্যাণপুর অভিযান সম্পর্কে সব ধরণের সমালোচনার জবাব দিয়ে মনিরুল ইসলাম লিখেন, ‘পুলিশের কেউ মারা যায় নি কিংবা কেউ গুরুতর আহত হয় নি-এতেই তো আপনার যতো আপত্তি তাই না, বন্ধু!’

অভিযানের বর্ণনা দিয়ে তিনি লিখেন, আনুমানিক রাত একটার কাছাকাছি পুলিশের প্রথম দলটি বাসাটিতে নক করে এবং প্রথম দফা সংঘর্ষের পরে প্রায় সারারাত বিল্ডিংটা কর্ডন করে রাখা হয়। চূড়ান্ত অভিযান শুরু হয় ভোর ৫.৫০ এর দিকে। মনিরুল ইসলাম আরও লিখেন, সারারাত মুহুর্মুহু গোলাগুলি হয়েছে এ রকম কোন তথ্য আমার জানা নাই। আমি যতটুকু জানি যখনই পুলিশ বাসাটিতে ঢুকতে চেষ্টা করেছে ততবারই গুলি চালানো হয়েছে। চূড়ান্ত অভিযান হয়েছে একঘণ্টার কাছাকাছি। ঐ সময়েই মূলত: চূড়ান্ত গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পুলিশের সাফল্য মানতে না পেরে এমন সমালোচনা কিনা- এ নিয়ে প্রশ্ন রাখেন এ অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার।

মনিরুল ইসলামের ফেসবুক স্ট্যাটাসের পুরোটা-
“কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানকালে সন্ত্রাসীদের গ্রেনেড নিক্ষেপে পুলিশের ৪ কর্মকর্তার মৃত্যু, আহত ৪২ কর্মকর্তা, তিন জঙ্গি গ্রেফতার হলেও বাকীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে!” দুঃখিত, বন্ধু, এ রকম একটা খবর যদি আপনি আশা করে থাকেন তাহলে আমরা আপনার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারি নি! প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় আপনি যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমরা সত্যিই দুঃখিত! “নাম-ঠিকানা না জেনে জঙ্গি বলছেন কিভাবে?” “জঙ্গিরা এ রকম পাঞ্জাবি, কেডস পরে ঘুমাতে গিয়েছিল কেন?” “৪টি পিস্তল দিয়ে কিভাবে সারারাত মূর্হূ মূর্হূ গুলি চালানো সম্ভব?” “কেন তাদের জীবিত ধরা গেল না?” এ রকম অনেক যৌক্তিক প্রশ্ন কারো মনে আসতেই পারে।

আমি যদি বলি আপনি বুঝে ও না বোঝার ভান করছেন আপনি খণ্ডাবেন কি করে? গোটা সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে আলোচনা হচ্ছে যে প্রতিবেশীরা বলছে, ঐ বাসার লোকেরা সারারাতই কথিত জিহাদের স্বপক্ষে শ্লোগান দিয়েছে, তাদের রুমে কথিত আইএসের পতাকা পাওয়া গিয়েছে, প্রচুর সংখ্যক উগ্রবাদী বইপুস্তক পাওয়া গেছে। তারপরও এরা জঙ্গি কিনা তা বোঝার জন্য কি রিসার্চের প্রয়োজন আছে?

আনুমানিক রাত একটার কাছাকাছি পুলিশের প্রথম দলটি বাসাটিতে নক করে এবং প্রথম দফা সংঘর্ষের পরে প্রায় সারারাত বিল্ডিংটা কর্ডন করে রাখা হয়। চূড়ান্ত অভিযান শুরু হয় ভোর ৫.৫০ এর দিকে। এতদীর্ঘ সময় তারা ঘুমিয়ে ছিল কিনা, এই পোষাক পরার সময় পেয়েছিল কিনা তা বোঝার জন্য বুদ্ধিজীবী হওয়ার প্রয়োজন আছে কিনা দয়া করে ভেবে দেখবেন কি?

সারারাত মূর্হূ মূর্হূ গোলাগুলি হয়েছে এ রকম কোন তথ্য আমার জানা নাই। আমি যতটুকু জানি যখনই পুলিশ বাসাটিতে ঢুকতে চেষ্টা করেছে ততবারই গুলি চালানো হয়েছে। চূড়ান্ত অভিযান হয়েছে একঘণ্টার কাছাকাছি। ঐ সময়েই মূলত: চূড়ান্ত গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। আপনার বিশ্বাস এ তথ্য আপনার অজানা নয়। তাহলে কেন এ রকম প্রশ্ন তুলছেন? পুলিশের সাফল্য মানতে পারছেন না তাইতো!

আপনি তো সবজান্তা অথচ আপনি এই ধরনের অপারেশন গুলোর ইতিহাস জানেন না। দেশে এবং দেশের বাইরে কোথায় এই ধরনের অপারেশনে কতজন জীবিত গ্রেফতার হয়েছে জানালে বাধিত হবো। আসলে, পুলিশের কেউ মারা যায় নি কিংবা কেউ গুরুতর আহত হয় নি-এতেই তো আপনার যতো আপত্তি তাই না, বন্ধু!’

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
২৭ বার পঠিত
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com