লাভ-লোকসানের হিসাবে বাংলাদেশ

২৭ বার পঠিত

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলবে কিনা তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। শুরু হয়েছে লাভ-লোকসানের হিসাব। খোদ বৃটেনে বসবাসরত প্রবাসি বাংলাদেশীদের মধ্যেই চলছে এ হিসাব। লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসের মুখপাত্র নাদিম কাদির বলেন, ‘‘যুক্তরাজ্যে, বিশেষ করে লন্ডনে বাংলাদেশী কমিউনিটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দ্বিধা বিভক্ত ছিল, এখনো আছে। যারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হওয়ার পক্ষে ছিলেন তারা মনে করছেন এখন এখানে কাজের সুযোগ বাড়বে, দেশ থেকে আত্মীয়-স্বজনকে আনা যাবে, পড়াশোনার সুযোগ বাড়বে। আর যারা এর বিরোধিতা করেছেন তারা বলছেন এর ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে, সামাজিক নিরাপত্তা কমবে।”

এটা বাংলাদেশের জন্য ভয়ের ব্যাপার বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘তবে আশঙ্কার কথা, যুক্তরাজ্যে এখন মধ্যপন্থীদের খারাপ অবস্থা। হয় চরম ডান, নয় চরম বাম। ফলে এরা চাইবে বাংলাদেশীদের জন্য সুযোগ সুবিধা কমাতে। সাহায্য কমিয়ে দিতে চাইবে। চাইবে শুল্কমুক্ত সুবিধাসহ অন্যান্য সুবিধা কমিয়ে দিতে। এটা বাংলাদেশের জন্য ভয়ের ব্যাপার। তাই এখন থেকেই বাংলাদেশকে সবদিক দিয়ে সতর্কভাবে এগোতে হবে।”

নাদিম কাদির জানান, ‘‘বিষয়টি যুক্তরাজ্যের জন্যই স্বস্তির নয়। তারাও একটি জটিল সময় পার করছে। আগামী তিনমাসে আরো অনেক বিষয় স্পষ্ট হবে। নতুন প্রধানমন্ত্রী হবে। আমাদেরও এই সময়টি খেয়াল রেখে এগোতে হবে।” ২০১৩-১৪ অর্থবছরে যুক্তরাজ্যে ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ। আমদানির দিক থেকে যুক্তরাজ্যের জন্য বাংলাদেশ তৃতীয় বৃহত্তম দেশ। এর একটি অংশ শুল্কমুক্ত সুবিধায় রপ্তানি হয়।

২৮টি ইউরোপীয় দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইইউ-র সিদ্ধান্ত ও অঙ্গীকার সব সদস্যের জন্য কার্যকর ছিল, কিন্তু এখন এ জোট থেকে বের হয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণে যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না। নাদিম কাদির বলেন, “গণভোটের পরে যুক্তরাজ্যের মুদ্রা পাউন্ড দুর্বল হয়ে ১৯৮৫ সালের পর্যায়ে নেমে গেছে এবং এর প্রভাব সাথে সাথে না পড়লেও নিকট ভবিষ্যতে পড়বে। আর যদি প্রভাব নেতিবচক হয় তাহলে তার ক্ষতি আমাদেরও নিতে হতে পারে।” 

তিনি বলেন, ‘‘ব্রেক্সিট নিয়ে সারা পৃথিবীতেই এখন নানা ধরণের হিসেব-নিকেশ চলছে। বাংলাদেশও তার বাইরে নয়।” গণভোটের আগে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত যুক্তরাজ্যের এমপি রুশনারা আলী বলেন, “ব্রেক্সিট হলে পাঁচ লাখ বাংলাদেশীর চাকরি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। ইইউ থেকে বেরিয়ে গেলে অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে বাংলাদেশীসহ এথনিক মাইনোরিটির লোকজনরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

তবে যুক্তরাজ্যে প্রায় ১০ হাজার কারি রেস্টুরেন্ট চালু অবস্থায় আছে এবং প্রায় এক লাখ লোক এখানে কাজ করে। প্রতিবছর এর ব্যবসার পরিমাণ প্রায় ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন পাউন্ড। কারি হাউজের শেফদের মধ্যে সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশীদের প্রাধান্য রয়েছে। ইইউতে থাকার কারণেই বাংলাদেশসহ ইউরোপের বাইরের দেশ থেকে কারি শেফ আনতে ভিসা পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ কেউ মনে করছেন, এই সুযোগটি এবার পাওয়া যাবে। তবে তা নির্ভর করছে যুক্তরাজ্যের ভিসা নীতি সহজ হয় কিনা তার ওপর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘‘আসলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্রেক্সিটের কী প্রভাব পড়বে তা বুঝতে আরো সময় লাগবে। কারণ, এর ফলে যদি যুক্তরাজ্য বা ইইউ’র প্রবৃদ্ধি বা অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হব। এখন আমরা ইইউ এবং যুক্তরাজ্যে পণ্য রপ্তানি করছি। আমরা যদি আমাদের প্রাইস লেভেল এবং মান ঠিক রাখতে পারি, তাহলে চাহিদা কমার কারণ নেই।”

তিনি আরো বলেন, ‘‘যুক্তরাজ্য ইইউ থেকে বের হয়ে গেলেও সুবিধাটা নিতে চাইবে। ফলে তাদের ইইউ’র অনেক শর্ত মানতে হবে। কেউ চাইবে না অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হোক। তবে একসঙ্গে থাকার সুবিধা ছিল। একসঙ্গে থাকলে প্রবৃদ্ধি অর্জন সহজ হয়।”

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com