নিজামীর ফাঁসি কার্যকর

এই সংবাদ ২৯ বার পঠিত

জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১১টা ৫৫ থেকে রাত ১২টার মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। বিভিন্ন সূত্র থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মতিউর রহমানের ফাঁসি কার্যকর হলো।

মঙ্গলবার মতিউর রহমান নিজামী রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করেন। এরপরেই শুরু হয়ে যায় ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি।

মঙ্গলবার রাতে নিজামীর স্বজনদের কারাগারে ডাকা হয়। পরিবারের ২১ জন সদস্য শেষ দেখা করেন। পরিবারের সদস্যরা বের হওয়ার পরপরই কারাগারে ঢোকেন আব্দুল মালেক মৃধা ও ঢাকা জেলা প্রশাসক মো. সালাহউদ্দীন।

এর আগে, গতকাল সোমবার রাত ৯টার দিকে নিজামীকে রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেওয়া রায় পড়ে শোনানো হয়। সেদিন বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেওয়া রায় প্রকাশ করেন। এরপর বিকেল ৫টার কিছু পর আপিল বিভাগের একটি প্রতিনিধিদল রায়ের কপি ট্রাইব্যুনালে পৌঁছে দেয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সেদিন সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে লাল কাপড়ে মোড়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি নিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের দিকে রওনা হয়। পরে ৭টা ৫ মিনিটে জ্যেষ্ঠ জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবীর রায়ের কপি নেন।
 
গত রোববার রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মতিউর রহমান নিজামীকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসা হয়।
 
গত ৫ মে আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন। বেঞ্চের অপর তিন সদস্য হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনায় হত্যা, ধর্ষণ ও বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে নিজামীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন জামায়াত নেতা। পরে আপিলের রায়েও তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
 
জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে প্রমাণিত অপরাধগুলোর মধ্যে রয়েছে- সাঁথিয়া উপজেলার বাউশগাড়িসহ দুটি গ্রামে প্রায় সাড়ে ৪০০ মানুষকে হত্যা ও প্রায় ৩০-৪০ জন নারীকে ধর্ষণ, ধুলাউড়ি গ্রামে ৫২ জনকে হত্যা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ও সুপেরিয়র রেসপনসিবিলিটি।

এর আগে মানবাধিকার অপরাধে চার জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামির তিনজন ও বিএনপির একজন।

জামায়াত নেতারা হলেন, দলের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আব্দুল কাদের মোল্লা। বিএনপির নেতা হলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com