শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে সব পক্ষকে এক হয়ে কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

৫২ বার পঠিত

পার্বত্যাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পার্বত্য শান্তিচুক্তির পুরোপুরি বাস্তবায়নে সব পক্ষকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। রোববার রাজধানীর বেইলী রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সের ভিত্তি ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, তিন পার্বত্য জেলায় ৪টি ছাড়া বাকি সব সেনাক্যাম্প তুলে নেয়া হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নত করতে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে—ইতোমধ্যে শান্তিচুক্তির মাধ্যমে সংঘাত বন্ধ ও নানা অবকাঠামো উন্নয়ন করা আর যেটুক বাকি আছে, সেটুকু করে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, এ অঞ্চলে সবাই যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারে সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে— সেক্ষেত্রে সব পক্ষকে কাজ করতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। পার্বত্যাঞ্চলের উন্নয়নেও কাজ করছি। এ অঞ্চলে পর্যটকরা যেন আরও বেশি আকৃষ্ট হন, সেজন্য ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, পার্বত্যাঞ্চলে একসময় সংঘাত ছিল—আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সেই সংঘাত বন্ধে শান্তিচুক্তি করেছে অথচ বিএনপি সেই শান্তিচুক্তির বিরোধিতা করেছিল তারা হরতাল ডেকেছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে যখন অস্ত্র সমর্পণের আয়োজন করা হয়, তখন বিএনপি হরতাল ডাকে। তারা বলেছিল অস্ত্র সমর্পণ করা যাবে না। বিএনপি নেত্রী সেসময় বলেছিলেন, এই চুক্তি হলে নাকি ফেনী থেকে পুরো পার্বত্যাঞ্চল ভারতের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। দেশের ভেতর থেকেই এই চুক্তির বিরোধিতা হয়েছে। কেন হয়েছে তাও জানি না, তবু সেই চুক্তি হয়েছে। পার্বত্যাঞ্চলে শান্তি ফিরেছে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের সুসম্পর্ক ছিল এবং আছে। যে কারণে শান্তিচুক্তি করা সম্ভব হয়েছিল। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তিচুক্তি হয়েছিলো। যদিও শান্তিচুক্তি এতো সহজ ছিলো না। পাহাড়ি অঞ্চলে রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষে হয়েছে। এখন সেই পরিস্থিতি নেই। শান্তিচুক্তির অধিকাংশ ধারা আমরা বাস্তবায়ন করেছি।‘ শান্তিচুক্তি হলেও ২০০১ বিএনপি ক্ষমতায় এসে পার্বত্য অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ক দেয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেন নেটওয়ার্ক দেয়নি জানি। আমরা ক্ষমতায় এসে সেখানে মোবাইল নেটওয়ার্কের ব্যবস্থা করেছি।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন প্রমুখ। বেইলী রোডের অফিসার্স ক্লাব সংলগ্ন দুই একরের নির্ধারিত স্থানে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবন গড়ে তোলা হবে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com