চাকরিতে বয়স ৩০-এর বেশি নয় : প্রধানমন্ত্রী

এই সংবাদ ২৬ বার পঠিত

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছরের বেশি বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দশম সংসদের দশম অধিবেশনে বুধবার বিকেলে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম ওমরের এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে তিনি সংসদে এ কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ৩০ বছর পার হয়ে গেলে আর কেউ যুবক থাকে কি না―এ ব্যাপারে সন্দেহ আছে? এক সময় কিন্তু এই ৩০ বছর পার হয়ে গেলে বিয়ের কনে পাওয়া যেত না। কাজেই সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছরের বেশি বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই।

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যেই আমি বলেছি, বেকার যুবকদের জন্য একটি কর্মসংস্থান ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছি। যেখান থেকে তারা বিনা জামানতে অল্প সুদে ঋণ নিতে পারে। এ রকম সুযোগ আমরা সৃষ্টি করে দিয়েছি। তারা যদি এই সুযোগগুলো গ্রহণ করেন তাহলে নিজেরাই নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন। পাশাপাশি আরও অনেক মানুষকে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে পারবেন।’

সংসদ নেতা বলেন, ‘লেখাপড়া শিখে মাস্টার্স ডিগ্রি নিতে কিন্তু ২৪ থেকে ২৫ বছরের বেশি সময় লাগে না। আর এখন আমরা পড়াশোনার ওপর জোর দিয়েছি। নিয়মিত পড়াশোনা হচ্ছে। সেখানে কিন্তু আর সেশনজট হচ্ছে না। আমরা সেশনজট দূর করেছি। কাজেই ছেলেমেয়েরা যদি ১৫-১৬ বছরে এসএসসি পাস করে তাহলে সে ১৭-১৮ বছরে এইচএসসি পাস করে যাচ্ছে। আর সে যদি অনার্স নিয়ে পড়ে তাহলে ২২ বছরের মধ্যে সে অনার্স এবং ২৩ বছরে মাস্টার্স পাস করছে। কাজেই তার কিন্তু চাকরির জন্য যথেষ্ট সময় রয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘৩০ বছরের বেশি বাড়ালে হয়তো যুবকদের জন্য চাকরি হবে না। যারা প্রৌঢ় হয়ে যাবেন তাদের জন্য চাকরি হবে কি না সেটা আপনি বলতে পারেন? কারণ, ৩০ বছর পার হলে তারা যুবক থাকছেন কোথায়? অবশ্য এখন আমরা ৭০ বছরেও মনে করি যুবক। ওইভাবে যদি ধরেন সেটা আলাদা কথা। কাজেই এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই। বরং আমরা বলবো ছেলে-মেয়েরা সময়মতো পড়াশোনা করে পাস করে চাকরিতে প্রবেশ করুক। যাতে যুবক বয়সে তাদের যে মেধা ও শক্তি, তা আমরা জাতি গঠনে কাজে লাগাতে পারি।’

পদ্মা সেতুতে কুয়েতের সহায়তা

বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদের এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু থেকে পায়রা বন্দর যাওয়ার জন্য পায়রা সেতু নির্মাণে কুয়েত আর্থিক সহায়তা করছে। পাশাপাশি লেবুখালি সেতুও কুয়েত সরকারের অর্থায়নে হচ্ছে। স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য আকাশ থেকে ভূমিতে চলে এসেছেন। আমরা পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি। নির্মাণও খুব দ্রুত হচ্ছে। সেই সাথে রেল সেতুও হয়ে যাবে। এর সাথে একটি সুখবর দিচ্ছি। মান্যবর কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী এখানে (সংসদে) উপস্থিত আছেন। আমরা কিছুক্ষণ আগেই আলোচনা করেছি এবং কতকগুলো এগ্রিমেন্ট সই করেছি।

সেখানে পায়রা বন্দরে যাওয়ার জন্য পায়রা সেতু নির্মাণে কুয়েত আমাদের আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। তা ছাড়া লেবুখালি সেতুটিও কিন্তু কুয়েতের অর্থায়নে হচ্ছে। কাজেই এইদিক থেকে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যাচ্ছি। এ সময় সংসদে উপস্থিত থেকে অধিবেশন পর্যবেক্ষণ করছিলেন কুয়েত প্রধানমন্ত্রী শেখ জাবের আল-মুবারক আল-হামাদ আল-সাবাহসহ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। প্রধানমন্ত্রী কুয়েতের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ ৩১ শতাংশ সম্পন্ন

ময়মনসিংহ-৮ আসনের সদস্য ফখরুল ইমামের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ প্রায় ৩১ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আমরা পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করতে পারব।’ মাগুরা-১ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এ টি এম আবদুল ওয়াহাবের অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে। জাজিরা প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ ৬৫ শতাংশ, মাওয়া প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ ৭৩ শতাংশ, সার্ভিস এরিয়া (২) এর কাজ ৭৮ শতাংশ, মূল সেতু নির্মাণকাজের ২১ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া নদীশাসন কাজের অগ্রগতি ১৮ শতাংশ, প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি ৩৪ শতাংশ এবং সার্বিক অগ্রগতি ৩১ শতাংশ হয়েছে।

২০২২-এর মধ্যে পদ্মা রেল সেতু

প্রধানমন্ত্রী সংসদকে আরও জানান, এইচআর ওয়ালিংফোর্ড নামের একটি ব্রিটিশ কনসাল্টিং ফার্মকে পায়রা বন্দরের কারিগরি ও আর্থিক সম্ভাব্যতা যাচাই ও মহাপরিকল্পনা করার জন্য নিয়োগ করা হয়েছে। পদ্মা রেল সেতু সংযোগ প্রকল্পের বিষয়ে তিনি জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়কাল ২০১৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত। এর প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা।

২৫ থেকে ২৮-এ বিনিয়োগ বৃদ্ধি

বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, গত দশ বছরে মোট বিনিয়োগ বেড়ে জিডিপির ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ হতে ২৮ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং অনুসৃত স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং সংস্কারমূলক কার্যক্রমসমূহের সফল বাস্তবায়নের ফলেই বাংলাদেশ নিম্নমধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের অর্থনৈতিক চাঙ্গা অবস্থা প্রতিফলিত হয়েছে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী আমরা এ অর্থবছরে ছাড়িয়ে যাব আমাদের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ শতাংশ, যা ৭ দশমিক ০৫ শতাংশ হবে মর্মে আমরা আশা করছি।

তিনি বলেন, গত দশ বছরে মোট বিনিয়োগ বেড়ে জিডিপির ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ হতে ২৮ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। চলতি অর্থবছরেও মোট বিনিয়োগ ৫ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকার ওপরে হবে বলে আমরা আশা করছি। যা জিডিপির ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ। ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় আমাদের লক্ষ্য হলো মধ্য মেয়াদে ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ জিডিপির ২৬ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত করা। একই সময়ে আমরা সরকারি বিনিয়োগও জিডিপির ৭ দশমিক ৮ শতাংশে উন্নীত করব।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন

সংসদ সদস্য এম এ আউয়ালের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের নারী ও শিশু অপহরণ, নানাভাবে হত্যা নির্যাতনকারীদের শাস্তি প্রদানে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার স্থাপন এবং নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতন প্রতিরোধের লক্ষ্যে সারা দেশে ৪৪টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি জানান, নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি হিসেবে প্রচলিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ২০ (৩) ধারা মোতাবেক বিচারের জন্য মামলা প্রাপ্তির তারিখ হতে ১৮০ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সমাপ্ত করার বিধান রয়েছে। এ আইনের কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমানের অপর এক প্রশ্নের উত্তরে সংসদ নেতা বলেন, সাইবার স্পেসকে জনগণের জন্য নিরাপদ করা এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ আইসিটি অবকাঠামো সুরক্ষায় সরকার ২০১৪ সালে ‘জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি কৌশলপত্র’ অনুমোদন করেছে। এ ছাড়া সাইবার অপরাধ দমনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন-২০১৬-এর সময়োপযোগী সংশোধন করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৩ সালে এ আইনের সংশোধন করা হয়েছে।

তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে সাইবার অপরাধ শনাক্তকরণ ও দমনে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সাইবার অপরাধ তদন্তে সহায়তার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব প্রতিষ্ঠা করেছে। এ ছাড়া ফেসবুক, মাইক্রোসফট, গুগল ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানসহ সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে। এ ছাড়াও সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে সাইবার থ্রেট ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স নামক প্রকল্প অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com