আজ নায়ক রাজ রাজ্জাক -এর শুভ জন্মদিন

৯৬ বার পঠিত
শুধু বাংলাদেশ বা ভারত নয়, সারা পৃথিবী জুড়ে বাংলা চলচিত্রের ন্যূনতম খোঁজখবর যারা রাখেন তাদের মাঝে এমন কেউ নেই যে তার নাম জানেন না। পৃথিবী নামক এই গ্রহে আজ পর্যন্ত যতজন ক্ষণজন্মা, গুণী অভিনেতা এসেছেন তাদের মাঝেও একদম প্রথম দিকেই রাখতে হবে তাকে। বাংলা চলচিত্রে অভিনয় করেছেন প্রায় অর্ধশতাব্দি ধরে। আজ তিনি ছিয়াত্তরে পা দিয়েছেন। নববার্তা ডটকমের পক্ষ থেকে ‘শুভ জন্মদিন’ নায়ক রাজ আব্দুর রাজ্জাক।

আব্দুর রাজ্জাকের জন্ম ১৯৪২ সালে অবিভক্ত, পরাধীন ভারত বর্ষের কোলকাতায়। ১৯৬৪ সালে শরণার্থী হয়ে ভারত থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা ঢাকায় আসেন। কিন্তু ভাগ্য তাকে শরনার্থী করে রাখেনি। তার অভিনয়ের প্রতিভা আর পরিশ্রম তাকে নিয়ে গেছে কিংবদন্তির কাতারে। তিনটি সিনেমায় ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয় করার পর ১৯৬৭ সালে মুক্তি পায় নায়ক হিসেবে তার প্রথম ছায়াছবি বেহুলা। নায়িকা ছিলেন সুচন্দা। সেই থেকে শুরু। খরস্রোতা নদীর মত আজও তিনি বহমান। ২০১৫ সালেও তার অভিনীত একটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে।

তার অভিনীত প্রায় তিনশটির মত বাংলা ও উর্দু ভাষার চলচিত্র মুক্তি পেয়েছে। তিনি ছায়াছবি পরিচালনাও করেছেন। তার পরিচালিত ১৬টি ছবি এ পর্যন্ত মুক্তি পেয়েছে। অভিনয় ও পরিচালনার পাশাপাশি নায়ক রাজ রাজ্জাক প্রযোজনাও করেছেন। ১৯৭৬ সালে ‘আশঙ্কা’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। তার প্রযোজনা সংস্থা এমএস প্রোডাকশন থেকে এ পর্যন্ত ২০টি চলচিত্র মুক্তি পেয়েছে।

এসবের পাশাপাশি বর্তমানে জাতিসংঘের (ইউএনএফপিএ) বিশেষ দূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন রাজ্জাক। এতসব কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি স্বীকৃতিও পেয়েছেন। এ পর্যন্ত মোট পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।  ছবিগুলো হল- কি যে করি (১৯৭৬), অশিক্ষিত (১৯৭৮), বড় ভাল লোক ছিল (১৯৮২), চন্দ্রনাথ (১৯৮৪) এবং যোগাযোগ (১৯৮৮)।  চ্যানেল আই আয়োজিত চলচ্চিত্র মেলা-২০০৯ এ চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদান রাখার জন্য নায়ক রাজ রাজ্জাকের পুরো পরিবারকে সম্মাননা জানারো হয়। তবে সবচেয়ে বড় যে সম্মাননা তিনি পেয়েছেন তা হল অগণিত মানুষের ভালবাসা। তিনি যুগ যুগ বেঁচে থাকবেন কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com