পুলিশের নাটকে দুই সাংবাদিক এলাকাছাড়া : থানায় জিডি, র‌্যাবে অভিযোগ

২৪ বার পঠিত

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) সংবাদদাতা: পুলিশের নাটকের ফাঁদে পড়ে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার স্থানীয় দুই সাংবাদিক তিনমাস ধরে এলাকাছাড়া। অপরাধ ও অপরাধীদের তথ্য দেয়ায় পর তথ্যদাতা হিসেবে দুই সাংবাদিকের নাম প্রকাশ করেছে পুলিশের এক কর্মকর্তা। এরপর থেকেই সন্ত্রাসীদের উৎপাতে জীবনের নিরাপত্তা না পেয়ে এলাকাছাড়া রয়েছেন অনলাইন নববার্তা.কম ও দৈনিক ভোরের ডাকের উপজেলা প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম ও দেশের সময়ের উপজেলা প্রতিনিধি মোস্তফা কামাল। তাদের পরিবারের লোকজন এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে। সন্ত্রাসীরা প্রতিনিয়ত তাদের পরিবারে হুমকি ধামকি অব্যহত রেখেছে। নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে সাংবাদিক নজরুল ইসলামের পরিবার।

বিষয়টি পুলিশ ও র‌্যাবের উর্ধতন কর্মকর্তাদের লিখিত-মৌখিকভাবে অবহিত করা হলেও কোনো সুফল মেলেনি। এবিষয়ে গত ৫অক্টোবর নন্দীগ্রাম থানায় (জিডি নং- ৭০২/১৬) করা হয়েছে। এছাড়া বগুড়া র‌্যাব ১২ এর কোম্পানি কমান্ডারের কাছে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ করেছে। বগুড়া র‌্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মেজর আজমল হোসেন ও বগুড়া পুলিশের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) গাজীউর রহমান ব্যবস্থা গ্রহন এবং নিরাপত্তা প্রদানের আশ্বাস দিলেও তিনমাস ধরে এলাকাছাড়া রয়েছেন দুই সাংবাদিক। এনিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
সাংবাদিক নজরুল ইসলাম ও মোস্তফা কামাল জানান, নন্দীগ্রাম থানার এসআই মনিরুল ইসলাম প্রকাশ্যে বলেছে আমরা নাকি পুলিশের তথ্যদাতা। এরপর থেকেই অপরাধীরা আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উৎপাত শুরু করেছে।

আমাদের উপর বেশকয়েকবার হামলা ও মারপিট করেছে। থানার মধ্যে পুলিশের সামনে মারপিটের ঘটনায় একটি মামলা করেছেন সাংবাদিক নজরুল। মামলার অভিযোগপত্র এখনো আদালতে দাখিল করেনি পুলিশ। মোস্তফা কামাল বলেন, এসআই মনিরুল ইসলাম ফাঁদ পেতে বিভিন্ন মামলার রহস্য উদঘাটনে আমাদেরকে দিয়ে নাটক সাজিয়ে অপরাধীদের সাথে কৌশলে কথা বলাতেন। ওসি সাহেব এবং কর্মকর্তারা যেভাবে নাটক করে অপরাধীদের কথা বলিয়েছে, আমরা সেভাবেই কথা বলেছি।

সেইকথা গুলো মোবাইলে রেকর্ড করে ষড়যন্ত্র করছে থানা পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা। তবে থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক ও এসআই মনিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং ক্যাশিয়ার নাজির হোসেন বলেন, দুই সাংবাদিক প্রায় তিনমাস ধরে এলাকাছাড়া। যদি কেউ পুলিশে তথ্য দিয়েই থাকে, তাহলে তথ্যদাতার নাম প্রকাশ হবে কেন। বিষয়টি মেনে নেয়ারমত নয়। এপ্রসঙ্গে বগুড়ার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান দু:খ প্রকাশ করে জানান, আমি বিষয়টি জেনেছি। অভিযুক্ত এসআইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। দুই সাংবাদিকের নিরাপত্তা প্রদানের আশ্বাস দেন তিনি।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com