মুক্তিযোদ্ধার মা : সাইফুল ইসলাম

এই সংবাদ ২০৬ বার পঠিত

মুক্তিযোদ্ধার মা | সাইফুল ইসলাম মধ্যরাতের হঠাৎ গুলির শব্দ। সে শব্দ আর গোলার আলোর ঝলকানিতে ভীত হয়ে পড়ে পাখিরা। কিচিরমিচির শব্দ তুলে উড়াল দেয় আকাশে। ডোবানালায় বন্ধ হয়ে যায় ব্যাঙের ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর ডাক। যারা গ্রাম পাহারা দিচ্ছিল তারা চমকে ওঠে। ঢং ঢং করে টিন বাজিয়ে নিরাপদে সরে যেতে বলে গ্রামের মানুষকে। গুলির শব্দে জেগে ওঠে মিরাসের মা। অন্ধকারে কোলে তুলে নেয় দেড় বছরের শিশুকে। ফিসফিস করে ডাক দেয় আ বড় গ্যাদা, এই মিরাসের বাপ। কই গ্যালেন?

– খাড়া অ, ঠাওড় কইরা নেই কী অইত্যাছে।
কুড়ে ঘরের মধ্যে কুণ্ডুলি পাকিয়ে শুয়েছিল আরো ছয়
-সাত জন নারী-পুরুষ। মিরাসের বাপ আস্তে আস্তে ডাক দেয়, এই সালাম, মোবারক- উঠছোস নি?
– হ।
– কী অইত্যাছে রে?
– মনে অয় থানার কাছে যুদ্ধ শুরু অইছে।
– তা অলি? এহুন?
– নও যাই, নায়ে কইরা বিলপাড়ের হিজলতলা যাই।
ঘর থেকে হামাগুড়ি দিয়ে বের হয়ে ঘাটে বাঁধা নৌকায় চড়ে বসে সবাই। বৈঠার টানে নৌকা ছুটতে থাকে হিজলতলার দিকে। গুলির শব্দে সবাই ডরার মধ্যে ঘাড় গুঁজে ইয়া নবছি ইয়া নবছি জবতে থাকে। আসলে গরিবের মরণ সবখানেই। ঘরে-বাইরে; নিস্তরঙ্গ মুহূর্তে, আন্দোলনের সময়েও মরণ পিছু ছাড়ে না তাদের। যুদ্ধের সময় বিপদ আরো কামড়ে ধরে। লড়াই ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না তখন। মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই লড়তে হচ্ছে সুবর্ণগাঁতী গ্রামের মানুষকে। মাঝে মধ্যেই শোর ওঠে, মিলিটারি আসছে পালাও পালাও। যার যার মতো জীবন হাতে নিয়ে ছুটে যায় গ্রামের পাশের জঙ্গলে।

ইতিউতি তাকিয়ে দেখে যে কেউ আসেনি, তখন আবার ফিরে আসে যার যার বাড়িতে। কিন্তু ভয় কাটে না। ভয়ে গ্রাম ছাড়ে ধনী হিন্দুরা। বর্ডার পার হয়ে চলে যায় ইন্ডিয়ায়। তাদের পিছে পিছে যায় হিন্দু গরিবগুঁড়াও। মহুকুমা শহরে মিলিটারি আসার পর জোতদার মুসলমানরাও গ্রাম ছাড়ে। তাদের সঙ্গে গ্রাম ছেড়ে যায় গরিব মানুষগুলোও। কারণ, মহুকুমা শহরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এসেছে, এখন থানায়ও আসবেই। আর থানার পাশেই সুবর্ণগাঁতী গ্রাম। মাঝখানে দিয়ে বয়ে গেছে ছোট্ট খাল। সে খাল তিন দিক থেকে ঘিরে রেখেছে থানাকে। যে পাশে খাল নেই, থানা থেকে সে পাশ দিয়ে একটি রাস্তা বের হয়ে সোজ চলে গেছে মহুকুমা শহরে। গ্রামের মানুষের ভয়টা এখানেই। কিন্তু গরিবের তো আত্মীয়স্বজনও নেই, পালিয়ে থাকবে কোথায়! গরিব অনাত্মীয়রা অবশ্য থাকতে দিতে চায়, কিন্তু খেতে দেবে কী? থাকতে দেবে কোথায়? তাই তাদের ফিরে আসতে হয়, নিজের গ্রামেই পা রাখতে হয় শক্ত করে।

খাঁ খাঁ গ্রাম। বড় বাড়িগুলোতে মানুষজন নেই। তারা যাওয়ার সময় খুলে দিয়ে গেছে মহিষ, গরু, ছাগল, ভেড়ার গলার দড়ি। লাগায়নি হাঁস-মুরগির খোপের দরজা। বাড়ির উঠোনে অবাধে চড়ে বেড়াচ্ছে এসব পশুপাখি। সাবাড় করছে পালানের গাছ-গাছড়া, শাক-সবজি। স্বাধীনতা পেয়ে পশু-পাখিগুলো কেমন যেন বন্য হয়ে উঠেছে। ফিরে আসা মানুষগুলোকে দেখে ভয় তো পায়ই না, দাঁড়িয়ে থাকে পথ আগলে। মানুষকেই ওদের পাশ কাটিয়ে চলে যেতে হয় ছোট্ট খালটি অবশ্য ফিরে আসা মানুষকে সাহস দেয়। তারা শুনেছে পাকিস্তানিরা সাঁতার জানে না। তার ওপরে বর্ষার পানিতে টইটম্বুর খাল। তাই খাল পার হয়ে এপারে আসতে পারবে না পাকিস্তানিরা। কিন্তু প্রথম প্রথম থানার দিকে আসতে সাহস পায় না গ্রামের মানুষ। লুকিয়ে লুকিয়ে দেখে পাকিস্তানিদের লেফট-রাইট চলাফেরা করা। বিভিন্ন গ্রাম থেকে মানুষজন ধরে এনে নির্যাতন করে, তার শোরগোল, মানুষের কান্নাকাটির শব্দ শোনা যায় অনেক দূর থেকে।

ধীরে ধীরে যুদ্ধটা স্পষ্ট হতে থাকে। বুঝতে পারে যে, খামাখা পালিয়ে বেড়ানোয় যেমন লাভ নেই, তেমনি বোকার মতো দাঁড়িয়ে থাকলেও মারা পড়তে হবে। কায়দা আয়ত্ত করতে পারলেই কেবল সহজ হবে বেঁচে থাকা। দক্ষিণপাড়ার থানার কাছে যাদের বাড়ি তারা চলে আসে উত্তরপাড়ায়. আর দক্ষিণপাড়ায় পাহারা বসায় যাতে বাইরের কেউ গ্রামে আসলে সঙ্গে সঙ্গে খবর পৌঁছে যায় সবার কাছে। সবাই তখন চলে যেতে পারে নিরাপদ স্থানে।
মিরাসের বাপ-মা, সালাম, মোবারকরা হিজলতলায় এসে দেখে তাদের আগেই দুই নৌকায় পাঁচ পরিবারের আরো প্রায় তিরিশ নারী-পুরুষ তাদের শিশুদের নিয়ে এসেছে। ওদিকে, খালের এপারে ওপারে গোলাগুলি চলছে।

 

সে গুলি কখনো কখনো শোঁ শোঁ শব্দ তুলে ছুটে যাচ্ছে হিজলতলার ওপর দিয়ে। এর মধ্যেই ভয়ে ভয়ে কেউ কেউ ডাঙ্গায় নামে। ছেলেমেয়েদের হাগামোতা করায়। নিজেরা হাত-মুখ ধোয়। গ্রাম থেকে আরো নৌকা আসে হিজলতলায়। মানুষ হয়ে ওঠে শতাধিক। দিনের তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের সাহসও বাড়তে থাকে। হিজলতলার পাশ দিয়ে দুটি নৌকা বাইচ দিতে দিতে চলে যায়। মিরাসের বাপ গলা ছেড়ে জিজ্ঞেস করে কই যাও গো তোমরা?

– যুদ্ধে যাই যুদ্ধে। থানায় পাকিস্তানি বাহিনী সঙ্গে যুদ্ধ লাগছে মুক্তিযোদ্ধাগোর। নৌকার একজন রাইফেল উঁচু করে দেখায়। হিজলতলার সবাই তা অবাক হয়ে দেখে। নৌকা দুটি চলে যায় গ্রাম ছাড়িয়ে। বেশ কিছুক্ষণ থম ধরে থাকে সবাই। তারপর আবার নিঃশ্বাস নেয়ার মতো স্বাভাবিক নিয়মে সচল হয় যে যার মতো। মিরাসের বাপ মোবারককে ফিসফিসিয়ে বলে যাবি?
– কোন হানে?
– যুদ্ধ দেইহা আসি।
– বউ-পোলাপান থুইয়া যামু? ওরা ভয় পাইব না?
– আমরা তো যামু আর আসমু। অবস্থা দেইহা আইসা ওগোরে নিয়া যামু।
– নও যাই। এই তোমরা থাকো, আমরা দেইহা আসি, পরে তোমাগোরে নিয়া যামু।
– যুদ্ধের মধ্যে যায়া কী কাম। দরকার নাই যাওয়ার। বলে মোবারকের বউ।
– তোরা থাক, আমরা তো যামু আর আসমু। ওরা চলে যায়।
এ ভাবেই হিজলতলায় আসা পুরুষগুলো একে একে চলে যায়। আর শিশুদের আগলে রাখে নারীরা।

সুবর্ণগাঁতীর খালের পাড়ের আলকে আড় করে অবস্থান নিয়েছে গনি আর মনসুর। গনির হাতে এসএলআর আর মনসুরের হাতে থ্রিনটথ্রি। আলটা বেশ লম্বা, তাই ঠাঠা ঠাঠা করে কয়েকটি গুলি ছুড়েই অবস্থান পাল্টে ফেলে ওরা। থানা থেকে ট্যাট ট্যাট ট্যাট ট্যাট শব্দ তুলে পাল্টা জবাব দিচ্ছে পাকিস্তানিরা। সে গুলির বেশিরভাগই চলে যাচ্ছে মাথার উপর দিয়ে। কখনো কখনো সে গুলি সামনের আলে লেগে মাটি ছিটিয়ে দিচ্ছে ওদের গায়ে। ওরা চিৎকার চেঁচামেচি করে শালা, বানচোত, কুত্তার বাচ্চা বলে গালি দিচ্ছে পাকিস্তানিদের। মাঝে এক সময় দু’জন কাছাকাছি চলে আসে। মনসুর চিত হয়ে শুয়ে আকাশের দিকে মুখ তুলে গনিকে জিজ্ঞেস করে মাহবুব ভাই কতক্ষণ যুদ্ধ চালাইবো রে?

– জানি না।
– সেই ফজরের আগে পজিশন নিছি, এখন দুপুর বেলা। ক্ষিদেয় পেট চো চো করছে।
– ওই আমন ক্ষেতের পানি খা।
– দুই বার খাইছি, আর কত? খালি পানি পেটে থাকে নাকি? কিছুক্ষণ দম ধরে থাকে, তারপর ফিসফিস করে বলে বিস্কুট আছে নাকি রে, দে না একটা।
নিজের পেটে ক্ষুধা নিয়ে মরছে, তারপরে আবার মনসুরের ঘ্যান ঘ্যান ভাল্লাগে না গনির। ফেলে দেয়া বিস্কিটের প্যাকেটের দিকে তাকায়, যে বিস্কিট ওরা ঘণ্টা চারেক আগে ভাগ করে খেয়েছে। কোনো খাবারই আর অবশিষ্ট নেই ওদের কাছে। এক ঝাঁক গুলি শোঁ শোঁ শব্দ তুলে ওদের উপর দিয়ে চলে যায় গ্রামের দিকে। ওরা মাটির সঙ্গে বুক ঠেকিয়ে শুয়ে থাকে পাশাপাশি। পাল্টা গুলি চালানোর তাগিদ পায় না, কারণ গুলির পরিমাণও কমে এসেছে। হিসাব করে গুলি খরচ না করলে পরে পস্তাতে হবে। কতক্ষণ যুদ্ধ চলবে কে জানে।

 

 কিছুক্ষণের মধ্যে কমান্ডার মাহবুব ক্রলিং করতে করতে এসে ওদের মাঝখানে শুয়ে পড়ে। জিজ্ঞেস করে— কী খবর তোমাদের?
– গুলি কইমা গেছে।
– হিসাব কইরা খরচ কর।
– আর খিদার কথা নাই বল্লাম।
– সবারই একই অবস্থা।
– শালারা ভাগে না ক্যান?
– সেই সাহসও হারায়া ফালাইছে। পূবে কাজী আলম তার গ্রুপ নিয়া পজিশন নিছে, আর পশ্চিমে পজিশনে আছে রতনরা। তাদের সঙ্গে যোগ দিছে এলাকার মানুষ। ওদের জন্য একমাত্র দক্ষিণের পথ খোলা আছে। ওরা মনে করতাছে, ওই রাস্তায় আমাগোরে অ্যাম্বুশ আছে, তাই বাইর হওয়ার সাহস পাইতাছে না। এখন উড়াল দেয়া ছাড়া আর কোন পথ ওগোর সামনে খোলা নাই। তোমরা পজিশন ছাইড়ো না। আমি আলমগোর খোঁজ নিয়া আসি। ক্রলিং করতে করতে চলে যায় মাহবুব কমান্ডার। মনসুর ওর যাওয়া দেখে বলে শালা অসুর, কোনো শোদবোধ নাই।

হিজলতলার শিশুরা যুদ্ধকে কোনো পাত্তাই দিচ্ছে না। ৭-৮ বছরের শিশুরা গাছের গোড়ায় খেলনাপাতি নিয়ে সংসার সাজিয়ে খেলতে শুরু করেছে। ছোট্ট শিশুরা মায়ের কোলে ঘুমাচ্ছে অথবা ক্ষুধায় কাঁদছে। মা তাদের ঘুম পাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। যে সব নারীর সন্তান নেই তারা মাটিতে দাগ কেটে সাদা-কালো কচুর ডাগর কেটে ঘুঁটি বানিয়ে বাঘ-ছাগল খেলছে। পুরুষগুলো সেই যে গেছে, এখনো ফেরার নামগন্ধ নেই। যাদের ঘর-সংসার, বাচ্চাকাচ্চা আছে তারা বাড়িতে যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছে। তারা কোনো সময় পুরুষদের গালাগাল দেয়, বাঘ-ছাগল খেলে, আবার শিশুদের মারধর করে। এক সময় মিরাসের মা উঠে দাঁড়িয়ে বলে, এই চল যাই সবাই, বাড়িত ফিরা যাই।

– ক্যান যুদ্ধ কি শেষ অয়া গেছে নাহি? বাঘ-ছাগল খেলতে থাকা ১৫-১৬ বছরের বালিকা রহিমা খেলতে খেলতেই এ কথা বলে।
– না, যুদ্ধ শেষ অয় নাই। পুরুষগুলা সেই যে চইলা গেল, আর খবর নাই। পোলাপান খিদায় কান্দে, নিজেরাও না খাওয়া। আর খালের পাড়ে মুক্তিযোদ্ধারা না খায়া যুদ্ধ করতাছে। যুদ্ধের উছিলায় পলায়া থাইকা বাঘ-ছাগল খেললি তো চলব না। নও বাড়িত যাই। মেলা কাম আছে। এই বলে সবাইকে দাবড়ে নিয়ে নৌকায় ওঠে মিরাসের মা।

দুপুর গড়িয়ে বিকেল। খালের পাড়ে অবস্থান নিয়ে আছে গনি আর মনসুর। রাইফেল, এসএলআর তাক করা আছে থানার দিকে। ওপার থেকে পাগলের মতো গুলি ছুড়ছে পাকিস্তানিরা। আর মুক্তিযোদ্ধারা যে আছে তা জানান দিতে মাঝেমধ্যে গুলি ছুড়ছে ৪-৫ রাউন্ড করে। এর মধ্যে এসএলআর থেকে এমনভাবে একটানা গুলি ছোড়া হচ্ছে যাতে পাকিস্তানিরা মনে করে এলএমজির ব্রাশ ফায়ার, মানে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতেও ওই অস্ত্র আছে। এর মধ্যেই রাইফেল আঁকড়ে ধরে যুদ্ধকে গালাগাল দিচ্ছে মনসুর। বাংলা, ইংরেজি, উর্দুতে দুনিয়ার খিস্তি ছুড়ে দিচ্ছে পাকিস্তানিদের উদ্দেশ্যে। মাঝে মধ্যে ক্ষুধায় কাতর হয়ে কাঁদছে। আবার কখনো কখনো নিশ্চুপ, যেন ঘুমিয়ে পড়েছে।

আমন ক্ষেতের মধ্যে পানির খলবলানি শব্দে কান খাড়া করে দু’জনেই। মনে হয় পেছন থেকে পানিতে হাঁটু মুড়ে কে যেন আসছে। শত্রু পেছন থেকে ঘিরে ধরছে না তো! দু’জনের চোখাচোখি হয়। এক ঝটকায় থানার দিকে থেকে রাইফেল ঘুরিয়ে পেছনে তাক করে। দেখে, তিরিশ বছর বয়সী একজন মহিলা আমন ক্ষেতের মধ্যে দিয়ে হাঁটু মুড়ে একটি বড় খলুই টানতে টানতে ওদের দিকেই আসছে। ওরা দু’জনেই অবাক। একজন মহিলা এই যুদ্ধের মধ্যে খলুইটা কেন টানতে টানতে এদিকে আসছে তা ভেবে পায় না ওরা। মহিলাটা পাগল না কি? জানের ভয় নেই নাকি তার?

মহিলা পানির কিনারে এসে বসে। ঠিকঠাক করে পরণের ভেজা কাপড়। তাকায় গনি আর মনসুরের দিকে। মহিলার তাকানো দেখে বিরক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে যায় মনসুর। ধমকে উঠে বলে, আপনের কী আক্কেল পছন্দ নাই নাহি! এই যুদ্ধের মধ্যে কী কামে আইছেন এহানে? মহিলা মুচকি হাসে। সে অবশ্য এর মধ্যেই শিখে নিয়েছে যে, সামনে আড় থাকলে শত্রুর গুলি তার গায়ে লাগবে না। সে দিকে লক্ষ্য রেখে মহিলা হামাগুড়ি দিয়ে খলুইটা টেনে ওদের আরো কাছে আসে।

তার মধ্যে হাত ঢুকিয়ে কয়েকটি মুঠা পিঠা বের করে। তা তুলে দেয় ওদের হাতে, বলে কাইল থাইক্যা তো যুদ্ধ করতেছো, প্যাটে দানাপানি পড়ে নাই। মায়ের মন, তাই কয়েকটো পিঠা বানায়া আনলাম। নিজেরা কয়েকটি খাও, আর অন্য মুক্তিযোদ্ধাগোর পৌঁছায়া দিও। বিস্ময়ে হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে ওরা। মহিলা তাগাদা দেয়, খাওনা কেন? তার কথা শুনে হুঁশ ফেরে ওদের। মনসুর চিৎকার করে বলে আর চিন্তা নাই রে। মায়ে আমাগোর জন্য পিঠা বানায়া নিয়া আইছে। পিঠা খায়া এহুন যুদ্ধে ঝাঁপায়া পড়মু। পাকিস্তানিগোর দাবড়ানি দিযা স্বাধীন কইরা ফালামু দেশ। জয় বাংলা। গনিও পিঠায় কামড় দিয়ে চিৎকার করে স্লোগানের উত্তর দেয় ‘জয় বাংলা।’ সে স্লোগানে উত্তর আসে অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে থেকে। আর তা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের গ্রামগুলোতে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com