আহমেদ রব্বানী’র একগুচ্ছ কবিতা

এই সংবাদ ৫০ বার পঠিত

খুনে রাঙা পতাকা

ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের এই দেশ
একটাই মানচিত্র
একটাই পতাকা
কেড়ে নিতে তৎপর আজও হায়েনার দল!
পাহারায় জেগে আছি-
আমরা লাখো-কোটি জনতা।
জাগ্রত প্রতিটি ক্ষণ, প্রতিটি মুহূর্ত।
তিরিশ লক্ষ শহিদের খুনে রাঙা
পতাকা আর
মানচিত্র
কারো দানে পাওয়া নয়
দু’লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের দামে কেনা তা-
সাধ্য কার, কেড়ে নিতে পারে?
বীর বাঙালি
বীরের জাতি-
ভীরু কাপুরুষের দল নই কোনো।
বায়ান্ন, উনসত্তর আর একাত্তরে
দেখিয়েছি তা বারবার।
আমাদের আছে সালাম, বরকত, শফিউর
আছে আসাদ, মতিউর
নূর হোসেন, ডা.মিলন-
ভয় কী আমাদের?
ওরাই পথ দেখাবে চিরদিন- এই বাংলায়।

দুঃসময়ের মুখোমুখি

বড় অসময়ে জন্মেছ হে মানব সন্তান। যখন
দুঃসময়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মানুষ। তিমির জনপদে
হায়েনার নগ্ন থাবা মেলে বসে আছে ওরা
ওঁত পেতে-
চিল-শকুনের লোলুপ চাহনিতে!

আজ এখানে নগ্নতা আর যৌনতার ছড়াছড়ি
প্রতিপদে নিগৃহীত আমার বোন- সে এক
ভীতু হরিণী যেন
শিকারি বাঘের থাবা হতে মুক্তি নেই কোনো।
আজ এখানে
শকুনের নখরে বাংলাদেশ
নিত্য চলে মৃত্যুর উদাম নৃত্য।
জীবনের কোলাহল থেমে গেছে, বেসাতি চলছে মৃত্যুর দামে।
নিলামে উঠেছে সব।
জীবনের কোনো মূল্য নেই
এ এক ভয়ঙ্কর মৃত্যুপুরী।
হা হা হা হাসিতে ওঠে রোল ক্রন্দনের-
এই বুঝি ঝরে গেল কোনো তাজা প্রাণ!
সংশয়ে সদা প্রিয়জন।
বিষাক্ত  বাতাসে ভেসে আসে সংবাদ
খবরের পাতায় ঠাঁই হয় না অন্য কোনো খবরের!

স্বাধীনতা এক সোনার হরিণ

শ্বেত কপোত উড়ে যায়
উড়ে যায় বকপক্ষী
ওরা স্বাধীনতার গল্প বলে যায়।
একদিন সাম্যের পৃথিবী গড়বে বলে
কৃষাণ-মজুর-তাঁতী-জেলে সবাই এক কাতারে এসে দাঁড়ায়।
ছাত্র-শিক্ষক-চাকুরে হাতে হাত রেখে করে শপথ।
শপথের মালা ছিঁড়ে যায়,
তবু স্বাধীনতার গল্প থামে না।
এখন সবাই স্বার্থের টানে অন্ধ।
স্বাধীনতার জন্যে যারা জীবন দিল
কিংবা দিল বলিদান
তাঁদের আত্মা আজও কেঁদে ফেরে।
কেন সেদিন যুদ্ধ করেছিল তারা- সেই অপশক্তি
ক্ষমতার দন্ড হাতে দাঁড়িয়ে!
ক্ষমতাসীনদের চরিত্র এতটুকু বদলায়নি-
ক্ষমতা নিয়ে কামড়া-কামড়ি চলছেই।
ত্যাগীরা সামান্য স্বার্থের কাছে বলি দিচ্ছে ত্যাগ!
সবুজ ধানখেত পুড়ে যায়
পুড়ে যায় শস্যভূমি,
ধানের গোলা
গোয়ালঘর
জলভরা পুকুর
স্বপ্নভরা কৃষকের আঙিনা-
স্বাধীনতার জন্যে আজও হাহাকার করে ওঠে।
শিশুর কোমল মুখের হাসি
পিতার কঠিন পেশীবহুল শরীর
মায়ের নরম বুক
সবকিছুকেই পণ্য বানিয়েছে ওরা!
ছাত্রজীবনের ব্যাকবেঞ্চাররা কর্মজীবনে এসে হয় হেড মাস্টার!
বড় বড় পদ দখল করে নেয় দাপটে! অথচ
ওদের হালচাষ করার কথা ছিল।
বলদের পিছেপিছে দৌড়াচ্ছে আজ মেধাবীরা। এটাকেই স্বাধীনতা বলে
দিব্যি ক্ষমতার মসনদে বসে আছে ওরা।
আজ এখানে স্বপ্নপোড়া আগুনে দগ্ধ সময়
দলিত মানবতা,
বিবেকবানরা বিবেক হারিয়ে পথেপথে ভিক্ষা মাগে-
দু’পয়সায় বিকিয়ে দেয় সম্ভ্রম!
এর নাম যদি স্বাধীনতা হয়, তবে
চাই না সেই স্বাধীনতা।
অমন প্যাকেটে মোড়ানো স্বাধীনতার অর্থ আছে কী?
স্বাধীনতা এক সোনার হরিণ
শুধু মরীচিকার পিছেপিছে ছুটে মরা।

সত্যরা গেছে নির্বাসনে

কত রাত সোলেমানী খাবনামা বুকে করে ঘুমিয়েছি,
কত বিনিদ্র রজনী করেছি পার!
একটি সুন্দরের আশায় কত নিশি কেটে গেছে
কত না প্রহর আমার!
সে আসবে স্বর্গপুরী হতে
সে আসবে মর্ত্যলোক হতে
সে আসবে পাতাল ফুঁড়ে
সোনার কাঠি রুপোর কাঠি হাতে আসবে সে
আমার স্বপ্নকে সত্যি করতে-
আমি অপেক্ষায় থেকেছি তার।
সে আসে নি।
তবে কি সুন্দরের আশা করাটাই ভুল?
মিথ্যের বেসাতি এত বেড়ে গেছে, সত্যরা গেছে নির্বাসনে।
আমার স্বপ্নগুলোও তাই স্বপ্নই রয়ে যায়- সত্যি হয় না কোনোদিনই।

সুবাস ছড়ায় না কামিনী-বকুল

চারদিকে গোলাপের স্তুপ- অথচ সুবাস নেই!
চারপাশে ফুলবন, মৌমাছি গুনগুন। ভ্রমর উড়ছে ডালে ডালে,
ফুলকলিতে ছেয়ে আছে বনানী। উদ্যানে নৃত্যের তালে
পাখিদের বিচরণ; পাখিদের গান নেই!
থেমে গেছে সুর
কেটে গেছে তাল!
কোলাহল শূন্য চারিধার!
শিশুরাও নীরব, চিৎকার-চেঁচামেচি নেই কোনো
ভয়ে ভীত পশুরা। ওদের হিংস্রতাও হার মেনেছে আজ!
মাঝির কন্ঠে ভাটিয়ালি নেই
পড়ে আছে নাও
শূন্যে ছেঁড়াপাল।
কলিরা ফুল হয়ে ফোটে না আর
সুবাস ছড়ায় না কামিনী-বকুল!
চারদিক আজ বিষবাষ্পের আধার।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com