আজ শুক্রবার, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ১লা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী, শরৎকাল, সময়ঃ সন্ধ্যা ৭:৫২ মিনিট | Bangla Font Converter | লাইভ ক্রিকেট

সাব্বির আলম চৌধুরী – এর একগুচ্ছ কবিতা

বাজমাতি

সেদিন বলেছিলে বেড়াতে যাবে
অচেনা মায়াবী বট বৃক্ষের বুকে
থাকবে সেথায় অনন্ত কাল ধরে
প্রহরের শেষ আলো ভেজানো পর।

অথচ শ্রাবন্তী চলে গেলে দূরে
চেনা যানা অন্য কোন ভীন দেশে
সেথায় কি পেলে আমায় চেড়ে
না অট্টালিকার হিম সাগড়।

বন্ধরা আজও তোমায় ভাবে
আধারের চাননী রাতের তরে
সেথায় আজ আমি নেই তুমি নেই
আছে এখনো বট বৃক্ষ ঠিক দাড়িয়ে।

সেকালে কে ছিলে বলো তো
নাকি খবের জল পরী স্রুত
ঠিব তাই মনে পরে
ফিরিনো আজও ঘরে।

মন্দির আছে মসজিদ আছে
গিরজা আছে আছে পেগোড়া
কথা গুলো তব বাজে কানে
খবে নেমেছে বলো কেন খড়া।

তপ্ত হিম বয়ে যায় নিধন
আঙ্গার বাশির কাঁদে মন
বেন্ডার উলানি জাইলা বাজি
হগলে টাহা হলো কারি কারি।

বাজমাতি নাহি আমি বাড়ি
নাই গাড়ি নাই বাড়ি নারী
সোনা দানা তোমাকে মুড়াইনি
শ্রাবনের ধারা আজও ভুলিনি।

ভাবনার আকাশটা

ভাবনার আকাশটা অনেক বড়
এ মনে আকাশ তার চেয়ে বড়
গড় গড় গড় বন্ধু তুমি আমার
এ আকাশে স্বপ্নের কুড়ে ঘর।

ছুটে চলে বাতাসের তালে তালে
অজানা রং নাম্বারের সন্ধান করে
এমনি করে ভাবে চৌধুরী নিরবে
নতুন রূপে কি বা কার আসে

নিরাকারের আকার খুঁজে
লাভ কি বলো জুয়ার সঙ্গে
শূণ্যের তুরুক ছাড়ছে জুয়ারী
আমি যে বলো কার মনও মাঝী

ঘুড়ি দিলো হাওয়ায় ছাড়ি
নাটাই সুতা রেখেছে হাতে বাধি
ইচ্ছে হলে দেয় যে সে সুতা টান
তুরুক ঘুড়ি নাটাই পরাণ বাধাই।

আমি চৌধুরী শুধুই ভাবি
নেইতো ভালোবাসার দাবী।।

কিছু বুঝো না

হায়রে হায়… এতো দেখি জব্বর লোক
ধরলে ছাড়ে না…… সহজে ধরা গেয় না। 
আর কতো তাড়াবে….. এবার শান্ত হও
শত লোককে ……. শান্তি তবুও দিলো না।
এতো ভাব লও…. যেনো কিছু বুঝো না
অভিনয় এবার ….. একটু তুমি ছাড়ো না।

ভাবনা

চলে যাবে সে সেথায় যাকনা
নেই কেনো এতে ভাবনা
কমবে মাথা থেকে
অযথা চাপটা
প্রাণ খুলে হাসবো আমি
হাহা হাহা
লোকে বললে বাহ্ বাহ্
চলে যাবে কোথায়
আমায় ছেড়ে যাক না
ওসব কথা এখন থাক না
ফিরে আসবে ঠিক
যখন যাবো পাবনা
ভাববে তখন ভাবনা।

ফুল দানীত

দুঃখ করে রবে বলো কি হবে
যে যাবার সে তো সময় হলে যাবে
যখন যেথায় মন তাহার চায়
সুযোগ পেলেই শুধু হাড়ায়।

মনকে বলো যাক না
অন্য কোথায় থাকনা
ফুলগওলো সব
ফুল দানীতে থাক না।

মধুর খোজে ভোমর আসিবে
মধু শেষে যাবে ভোমর চলে
ছলেবলে মনকে নিয়ে
কেনো খেলা করে।

পুরনো দিনের কথা ভেবে 
কি হবে আর হিসেব কষে
পুরোনো স্মৃতি দিসরে মুছে
নতুন ভাবনা খুঁজে পেলে।

সময় হয়ে এলো

আমার যাবার সময় হলো
তুমি এবার বিদায় বলো
তোমার পথে তুমি চলো
বাঁচার মতো বন্ধু বাচো।

মিছে মায়ার দেখালে সপ্ন
কতো দিন করলে তুমি গল্প
ভালোবাসার হলাম অন্ধ
বিদায় বলা নয় তো মন্ধ।

এবেলায় আমার ডাক এলো
পড়ন্ত বিকেলের হাওয়ায় ভেসে
পশ্চিমা ঐ সূর্য হেসে হেসে বলে
তোমার সানাই বুঝি বাঝলো।

রং তুলিতে স্বপ্ন একে নাহি রাখো
কবির কবিতায় কেনো তারে ডাকো
স্রষ্টার সন্ধানে এবার রাত জাগো
ছাড়ো আমার পিছু ডাকা ছাড়ো।

অন্ধ জীবনের পথ চলা ভুলো
রূপবতী নারীর রূপ হলো কালো
কালি কালি বলে যারে ডাকি 
সে বুঝি দিলো এ বেলায় ফাকি।

বৃষ্টি ঝরার চিঠি

অধরা দেখো অঝরে বৃষ্টি ঝরে
তুমি আছ নিরবে ঘরে বসে
দু’জনের মনের মাঝে কতো না
ঝিরি ঝিরি না বলা কথা ঝরে।

সে দিন দুপুরে বৃষ্টির জলে
স্নান করে বাড়ি ফিরার পথে
নিয়েছিলে আমার খোঁজ
অভিমান করে দিয়েছে দোশ ।

অথচ আজ তুমি বসত করো
ঠিকানা বিহীন নির্জন পর্বতে
এখনও প্রতিটি পরতে পরতে 
আত্মনাথ করো কি ভেবে?

অধরা এখনও বৃষ্টি দেখি
জালানার দো’পাট্টা খুলে
ভাবি তুমিও বুঝি ভাবছ
ঠিক এমন করে আমাকে।

সেই দিন গুলি ভুলি নাই
আবার ফিরে যেতে চাই 
তোমর বার বছরে আর
আমার একুশ বছরের কৌশরে।

অধরা এখন তুমি আঠের বছরের যুবতি
আমি আঠের শেষ করে এখন সাতাশ আবদি
পথ চেয়ে পেক্ষার বৃষ্টি স্নাত দিন গুনছি
দেখনা অঝরে এখনো ঠিন বৃষ্টি ঝরছে ঝরছে….।

আজ তিনদি তোমাকে খুব মনে পরে
রাত যখন ঘোর অন্ধকার চলে
বৃষ্টি যখন ঝুম ঝুম ঝুম শব্দে ঝরে
আকাশে বিদ্যৎ চোখ মেরে বলে
অধরা ভুলে গেছে চৌধুরী তোমাকে
ভুলে গেছে বৃষ্টিকে ভুলে গেছে আমি
বিজলী বিদ্যৎকে ভুলে গেছে স্মৃতিকে
ভুলে গেছে ভালোবাসা নামক পৃতি কে।

অধরা আমি ভাবছি ভাবছি ভাবব
এখানে বসে বৃষ্টির ছন্দে তালে সুরে
আর ভাবছি তোমায় কবিতা লিখে দিবো
কোন ছন্দ তাল লয় অলংকার থাকবে না।

বৃষ্টি কে ধরা যায় হাত বাড়িয়ে
তোমাকে ধরতে গেলে দাও তাড়িয়ে
ভালোবাসো কিনা বললে বলে
না করো মাথা নাড়িয়ে নাড়িয়ে।

অদ্ভুত তোমার ভালোবাসা নামক অভিনয়
দেখো এই কুড়ে ঘরে তোমার ঠাই হবে
যেদিন তোমার অট্ট্রালিকা ভেঙ্গে যবে
বৃষ্টি স্নাত মধ্য রজনীতে নিরবে।

অধরা এ তোমার জন্য অভিশাপ নয়
এ হলো তোমার জন্য প্রাণপন আশ্বিরবাদ
সুখের দিন গুলে কাটিয়ে যাও অট্ট্রালিকায়
ফিরে এসো বৃষ্টিময় শীতল রজনীর আদ্রতায়।

না

কিছু না 
হবো না 
পিছু পা
চলে যাবে
যা
তুই রাধা
নেই তোর
কোন তুল না
লোকে বলে
বাহ্ বাহ্
না কিছু না!

অধরা তোমার জন্য

আজ কাল ট্রেন বড্ড পিছিয়ে আছে
সময় মতো হুইসেল বাঝে না
যাত্রিরা অপেক্ষায় যাত্রি ছাউনিতে
আর এক দল তাকিয়ে থাকে
দামী দামী বড় বাঠনের মোবাইলের দিকে
ভাবছি আমি কি দেখব? আকাশ 
নীল আকাশ, উড়ো মেঘের ভেলা।
ইচ্ছে করে অধরা আমি তুলো হই
বুক ফেটে বসে থাকবো গাছে
মাঝে মাঝে উড়তে উড়তে চলে যাবো
নীল সাগরের উড়ো স্রোতে।
তখন আর দেখবে না
অপেক্ষার মিস্রিত ছবিটি।
কোলাহল জাগবেনা মনে
কেনো বসে আছি
কার জন্য অপেক্ষায় সময় গুনা?
এই ট্রেন স্টেশনের মেঝে।
অধরা অনেক্ষন হলো
কতো ট্রেন এলো আর
কতো ট্রেন ফের চলে গেলো
কই তুমি তো ফিরে আসো নি।
দেখি অধরা যে ট্রেনের জন্য
এতোগুলো যাত্রি বসে আছে
সেই ট্রেনে ফিরে আসো কি না
আসা অবধি অপেক্ষায় আছি অধরা।
আজ না হয় কাল আসবে
কাল না হয় পরশু আসবে
একদিন তুমি আসতেই হবে
কমলাপুর ট্রেন লাইনে
কারণ তুমি সে দিন আসবে
যেদিন মাথা ঠাঁই দেবার মতো
তোমার আর কোন জায়গা থাকবে না
তখন এসো আমি ঠিক তোমায় চিনে নিবো
এতো টুকও ভুল হবে না আমার।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com