মোকসেদুল ইসলাম-এর একগুচ্ছ কবিতা

এই সংবাদ ৩৬ বার পঠিত

শোক-সন্তাপ

ঝলসানো রাতে সবুজ বনানী পুড়ে ছাই
সম্ভোগ সুখ আর ঈশ্বর ভুলে মিছে মায়ায় থাকি ডুবে
স্রষ্টার হেঁয়ালিতে পিঙ্গল ঢেউ আছড়ে পড়ছে বুকে
অভিভাবক চোখে চেয়ে যে বিড়াল সেও ঘুমিয়ে গেছে
আঁধারের আস্কারায় বাড়ছে ইদুঁরের আনাগোনা
মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে সমস্ত রাত্রিকথন
মগজের কোষে কোষে বেদনার ঝড়
হেঁটে চলা শামুক জীবনে হয়ে যায় সব পর
রঙিন স্বপ্নরা দ্বিধায় থাকে অন্ধকারে বেড়ে যায় শোক।

ইচ্ছেবেলা

আমারও ইচ্ছেছিল কোন এক ঘনকালো বিকেল বেলায় রোদ্দুর ছুঁয়ে দেখবো। ঈশ্বরের দখলে ছিল যে আশ্রম সেখানে অরণ্যসফর শেষে ভাতঘুম দেবো বলে আয়োজন করবো এক জলসভার ।সংকটকে ঘনীভূত করে তোলে যারা তাদেরকে মাপকাঠির মতো করে মেপে দেখেছি তারা আসলেই সংখ্যায় অল্প। যারা লম্বা করেছিল নিয়মাবলীল ফর্দটা তারাই এখন দেখায় স্থিতিশীলতার নির্দশন। সভ্যতা! সেও তো এক বিলাসী ক্ষুধায় অসহ্য যন্ত্রণা। অমীমাংসিত দ্বন্দ্ব বিভোর সময়ে কিছুটা সুখ চাওয়াও অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এই হলো আমাদের বৈষয়িক সংসার, গৃহকোণে যারা পড়ে থাকে অনাদরে তারা তো জানে না শূন্য থেকেই সৃষ্টি হয়েছে পৃথিবীর। চলো তবে আজ জলের গল্পে মাতি। ভাঙ্গা গড়ায় যদি কেউ পায় উড়ো পাখির সুখ তবে উত্তুঙ্গ জলের সাথে আমিও মেতে উঠবো কামজ কৌতুকে।

পুনরুজ্জীবনের কাহিনী

খুচরা পয়সার মতন খসে পড়ছে বিবেক বোধ
পতঙ্গের স্বাভাবিক ক্রিয়া ব্যাহত হয় জীবনের জটিল সমীকরণে
ঝুলে থাকা সময়ে শুয়োপোকাদের চিৎকারে
আড়মোড়া ভেঙ্গে জেগে ওঠে নিয়মের চাতক পাখি
ভুল মন্ত্রজপে মৃত্যুযন্ত্রণা দিয়ে যায় ঈশ্বরী।

কেউ কেউ গর্ভাশয়ে লিখে রাখে অনাগত ভবিষ্যৎ
বুড়ো আঙুল গুনে খোঁজ করে বেঁচে থাকার ইতিহাস
বিষাদ বিলাপে হলদেটে আকাশের ভাঁজে লিখে রাখে দিনযাপনের গ্লানি
প্রাত্যাহিক বঞ্চনায় সারসের ঠোঁটের আঘাতে ক্ষত হয় মানবিক মন।
মরতে পারি না তাই বেঁচে থাকতে হয় আমাদের
ঈশ্বরের পাওনা বুঝে না দিয়ে নিয়ত অবাধ্য হই।

ব্যথার শ্রাবণ

এবার তবে মৃত্যুতেই মুক্তি হোক
খন্ডিত যুক্তির আলোয় ভেঙ্গে যাক অভিমান
অবারিত বৈভবে নতমুখী মন
মুখোমুখি বসে আমি আর ব্যথার শ্রাবণ
ঠোঁটের কোণায় লেগে আছে পরাজিত হাসি
রাস্তা আগলে দাঁড়িয়ে আছে সমস্ত আয়োজন।
সম্ভাবনা বাড়িয়ে দ্যায় বানের নয়া পানি
ঠাট্টা নয় ঠাট্টা নয় এবার সত্যটুকু বলি
বরশিতে মাছ নেই চারদিকে শুধুই চিনে জোঁক।

সব আয়োজন তোমার জন্যে

নিমগ্ন বৃষ্টির রাত
আমি তোমাতে লীন হবো নিষিক্ত বীজের মতো
ঝলসানো বুকে বয়ে যাক জীবনের নওবাহার
ক্লেদাক্ত জীবনে ছড়িয়ে দাও ক্রোধের উত্তাপ।

রিমঝিম শ্রাবণে
ঝরে যাক বিবাগী রাতে কষ্টগাঁথা
তোমার বিবর্ণ ক্ষেতে সবুজের চাষ করি
তৃষ্ণার্ত ঠোঁটে ঢেলে দিই স্বর্গের অমৃত।

আষাঢ়ের ভরা বন্যায়
আমি তো ভেঙ্গে পড়ছি পাড় ভাঙ্গার মতো করে
তোমার বিমোহিত সৌন্দর্য়ে ডুবে যাচ্ছি গলা জলে
নিজস্ব খোলস ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছি ফিরিয়ে দেবে কি করে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com