ত্রিশাখ জলদাস-এর একগুচ্ছ কবিতা

এই সংবাদ ১৮১ বার পঠিত

অপেক্ষা

 

জলে ডুবে আছি…
একটি দুর্বিনীত রাত অপেক্ষা করছে নিকটে।

খিলানের ওপাশে হলুদ পাপড়ির ফুল—
পাহাড়ের গ্রীবা থেকে তুলে আনি পাখি।

ফের ফিরে যাই— বসি আগুনের পাশে,
আড়াআড়ি দেখি;
ফেলে আসা ছায়াপথ পুড়ে যাচ্ছে দূরে।

দহন

আমি একটি করাতকলের পাশে বসে আছি।
এইপাশে নগ্ন ঘরে ছড়ানো টেবিল—
এক টুকরো আপেল উপুড় হয়ে পড়ে আছে।
 
আমি আপেলের পুরুষ্টু আঙুলে জিভ ছোঁয়ালাম।
তার রক্তনালীগুলো মিহিদানার মতো ফেটে পড়ছে।
 
অসংখ্য লাল বিন্দু দাঁতের ভেতর জড়িয়ে যাচ্ছে
আর আমার ইন্দ্রিয়গুলো রূপান্তরিত হচ্ছে অখণ্ড করাতকলে।

বিস্মৃতি

স্মৃতিঘর থেকে ফিরে যাচ্ছে নদী,
আমরা বসে আছি প্রাচীন পাহাড়ের খাঁজে।
আমাদের আঙুলে ফুটে আছে রাত্রি
ছুড়ে দেয়া মায়াজল, সুগন্ধি সকাল।
 
আমরা মায়া-তাস খেলি…
ছুঁয়ে দেই লতাগুল্ম, মায়াফুল,
তুমি রাজকন্যা আমি কালো বাজ।
 
আমরা ধরেছি বাজি তিনটি লাল শালুক…
 
স্মৃতিঘর থেকে চুঁয়ে পড়ছে জল
আমরা খুটে খাচ্ছি কালো মোহরের দানা।
 

অগ্রন্থিত গান

মায়ামুখ দেখে
ওড়ে পাখি,
ওড়ে চাঁদ,
বিহ্বলতা-
মাটি ও পাহাড়।
আর নক্ষত্রের সম্ভোগে
জাগে রাত্রি
ছায়া-ঘুম –
ফুল ও আকাশ।
 
প্রণয়ের
প্রতিটি তাপ
ভালোবাসা নয়
এই জেনে
কিছু কিছু
বিবর্ণ পাতা
উড়ে যায়
পালা বদলের রাতে।
 
ও আমার বিষণ্ণ মেঘ
ফিরে যাও
একা একা …
তিতাসের দীর্ঘশ্বাসে
পড়ে থাক
পালিত রোদ্দুর।
 

স্বাদ

একটি হাফহাতা বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দিল আমাকে
তাই আমি তোমাকে পরিপূর্ণভাবে
ভালোবাসতে পারছি না ।
 
মনে হচ্ছে অর্ধ-সিদ্ধ এক খণ্ড মাংস জমে আছে জিভে।
বস্তুত জিভে স্বাদের পূর্ণতা জেগে উঠলে
আমরা পরিতৃপ্ত হই,
আবার ভোগেও আমরা কুশলী।
 
ফলে আমি ক্রমাগত উত্তাপ বাড়াচ্ছি এবং
মাংস খণ্ডের পুরোটাই সেদ্ধ করে নিচ্ছি।
 

কান্নার ক্লেদ

পা বাড়ালে পাতা ঝরা শব্দ
পাশাপাশি পড়ে থাকে বৃষ্টি ও রোদ্দুর ।
প্রেম এক নীল অরণ্য
রক্তের ভেতর লুকিয়ে রেখেছি
মুদ্রিত বিনাশ ।
 
ও আমার লাল চাঁদ,
আমাদের নগ্ন উঠোনে তুমি আজ খেলা করো…
বায়ুস্তর ভেদে ফিরে যাক শীত-ঘুম।
 

অবয়ব

আমি তাকে স্থাপন করেছি জলবৃক্ষে,
তার ডানা মায়াময় পনিরের মতো গলে যাচ্ছে।
 
ফলের ভেতর ফুটে আছে শব্দ
আর তার প্রতিটি অক্ষর স্বতন্ত্র
 
আমি ভাবছি একটি দীর্ঘ কবিতা লিখবো…
 
আমি অনেকগুলো রঙ পেন্সিল কিনেছি,
আমার ভেতর হেঁটে যাচ্ছে বিব্রত দুপুর।
 

শীত

চোখের সামনে থেকে সরে যাচ্ছে রোদ,
তুমি জলকে মিশিয়ে দিচ্ছো হাওয়ায়,
 
একটি বিষণ্ণ বিকেল
জরাগ্রস্ত বৃদ্ধের মতো
সামনে এসে দাঁড়ালো …
 
এমন বিষাদ আচ্ছন্ন ছবি আঁকতে চাইনি,
আমি একটিও উজ্জ্বল রঙ খুঁজে পাচ্ছি না।
 
হিমনগ্ন বালিকারা
আমার শরীর থেকে
শুষে নিচ্ছে তাপ…
 
আর আমি ডুবে যাচ্ছি একটি পরিপূর্ণ শীত সঙ্গমে ।
ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com