আজ বৃহস্পতিবার, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ২৮শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী, শরৎকাল, সময়ঃ রাত ১২:২৭ মিনিট | Bangla Font Converter | লাইভ ক্রিকেট

সুশান্ত হালদার-এর একগুচ্ছ কবিতা

দাবানল

ঝড়ো বাতাসে গোলাপ যদি ঝরে যায় অসময়ে
তবে কী অলিরা আসবে না ভাঙা ডালের মর্মর শব্দ শুনে
নাকি বিরহের সুখস্মৃতি নিজেই খুঁজবে করাত কলে বসে

কতদিন বলেছি
এখানে সুখের ঘরে আগুন লেগেছে চৈত্রের দাবানলে
পুড়ে ছাই হৃদয় কাবা মন্দির
যেখানে ছিলাম আমি নিজেই পুরোহিত,
এখন ভুল মন্ত্রে উচ্চারিত হয় দেবীর সন্ধ্যা আরতী
তবে কী ভুল,ভুল পথের অভিযাত্রী আমি
যে শুধু বেদীমূলে দিতে চাইছে ফুল আর্য অনাদির

তুফান উঠেছে মহাসমুদ্রে, ঝড়ো বাতাস শনশন
তরীর পাল গেছে ছিঁড়ে হঠাৎ আসা ঝড়ে
তবুও আমি সুখের এ্যালবাট্রস
যে নিজের কথা না ভেবে-,ভেবেছে পথ অন্যের!

ভেঙেছে শিকল কালোমেয়ে

প্রিয়তমা,
চেয়েছিলে সকালের সোনারোদ
গা গতরে মেখে বসে থাকবে তক্তপোষে
যেন গহন অরণ্যে একাকী সন্ন্যাসিনী
ধ্যানী না হয়ে হয়েছে হরিণ শাবকের দুগ্ধদায়িনী!

এখানে সুখের কোলে বসে
কষ্টেরা খেলছে কানামাছি
দুঃখের সাগরে শান্তির ভরাডুবি
এখানে সন্ধ্যা নামলেই
শেয়াল শকুনের দাপাদাপি
মন্দিরবেদীতে কুকুরের আসন
করছে মানুষ পাকাপাকি!

চেয়েছিলে উজ্জ্বল আলোয় স্বপ্নীল পৃথিবী
এখানে বাসা বাঁধবে না অন্ধকার রাত্রি
এখানে জোছনার খেলায় নক্ষত্র হবে আবেগী
এখানে চন্দ্রের বুকে সূর্য হবে বৈরাগী
এখানে ধূমকেতুর হবে না মরণ
জ্বালবে আগুন সারারাত্রি

প্রিয়তমা-
এখানে ভোরের আলোয় দাসত্বের কালোমেয়ে
শিকল ভাঙা আফ্রিকার মুক্তিকামী ম্যাণ্ডেলা!

বেরাহাম

বলেছিলে
সময় বড় কৌতুক হাসে
চার আঙ্গুল কপালে সেও ধিঙ্গি নাচন নাচে
যখনই জমা করেছি রাশি রাশি আলোর বাক্স পেটরা
চারদিকে চিৎকার, চেঁচামেচি
ক্ষুধার্ত বাতাস করে মস্করা
এ যেন আঁধার রাতে বেণুবনে জোছনার খেলা!

আকাশের বুকে হাজারো ক্ষত
বইছে রক্তের ধারা
সময় বড় বেরাহাম
তারকাটা,পেরেক,সোনামুখী সুঁই এরাও খাড়া
কখন সমূলে বিদ্ধ করবে সময় সুযোগ বুঝে!

বলেছিলে
জন্মেই যদি দেখতাম
এখানে মানুষগুলো ভয়ানক চণ্ডাল
চোখে হিংসা, মুখে বিষাক্ত লালা
হাতে শাণিত তলোয়ার
রক্তমাখা মুখে বলছে- আমিই সেই জানোয়ার
যে পৃথিবীর বুকে এঁকে দিয়েছে রক্তনদীর ধারা,
তাহলে তাঁকেই ডেকে বলতাম
‘এখানে উৎকৃষ্ট মানুষ চাই
যার মুখে থাকবে শান্তির অমিয় বার্তা’;
সময় বড় বেরাহাম!

ভালোবাসা

শামুকের মতো গুটিয়ে নিয়েছি আলখেল্লা
ভেতরে অজস্র পোকা মাকড়ের বাসা
সারাক্ষণ শুধু কামড়িয়ে করছে ফাঁপা ঘুণপোকা

তবুও ক্ষতে লাগিয়েছি মলম ঐ মায়াবী হাতে
যে হাতে রেখেছিলাম চুম্বন থরোথরো করে
কারো কারো গায়ে ছিল নীল শার্ট,সাদা পাজামা, ধূতি, পাঞ্জাবী, শেরওয়ানি
তুমি বললেই ওরা হয়ে যেত হীরা চুনি পান্না
ভালোবাসা এখনো নদীর বুকে জোছনার আছড়ে পড়া

দিন যায়,মাস আসে,মাসের পর বছর
এভাবেই পৃথিবী ঘুরে নিজের কক্ষ পথে
অসীম আকাশ তবুও ডুকরে ডুকরে কাঁদে
পৃথিবী নাকি তাকে ভালোবেসেও রেখেছে দূরে, বহু দূরে!

[৩১ জুলাই, ২০১৭/সোমবার]

মৃত্যুরও হবে মরণ

চোখের ভাষা যদি বুঝে থাকি
তাহলে অশ্রুজলে ভাসিয়েছি সাগর নদী,
জিভে না হয় চেখে নেবো নোনাজলের মরণ
মৃত্যু যদি আসে, আসুক
এবার মৃত্যুরও হবে মরণ!

দুরুদুরু মনে এখনো ভাবি
তৃষ্ণা আমার বড় বেশি
সেদিনও দেখেছিলাম ওষ্ঠে তোমার মৃত্যুর হাতছানি
রেখেছিলাম অধরোষ্ঠ, মরণ ছিল তুচ্ছ
মনের গহনে শুধু উঁকি দিয়েছিল
দু’টি সদ্য ফোটা নীল পদ্ম!

মৃত্যু আসন্ন, দিয়েছি হুঙ্কার অনবরত
তবুও ঈশ্বর যদি হয় অবিবেচক
করেণ আমায় অবরুদ্ধ
তবে মৃত্যুরই হবে মরণ,
এ তো আমি চাইনি –
মরণ নিয়ে মরণ খেলায় মেতে উঠবেন ঈশ্বর!

চোখের ভাষা যদি বুঝে থাকি
তাহলে বাঁচাবেন আমায়
ভালোবাসার মানস কন্যা ঈশ্বরী!

[২২ জুলাই,২০১৭/শনিবার]

অভিলাষ

আমি জানতাম মানুষগুলো এখনো সেতার
ডুগডুগি, হারমোনিয়াম, ভারমিলিয়ন
কিন্তু না,বাজাতে চাইলাম হৃদকম্পনে সুরের ঝঙ্কার
বেজে উঠলো অশনি সংকেত কাড়া নাকাড়ার
শোণিতে ভেসে যায় মাঠ আবার কুরুক্ষেত্রের,
শুধু বিদুর করে বিলাপ
‘পণ্ড করেছে সব ধৃতরাষ্ট্রের অন্ধ অভিলাষ’!

আমি জানতাম মানুষগুলো এখনো মাউথ অর্গান
ঠোঁটের যাদুকরী স্পর্শে বেজে উঠবে সুরেলা ঝঙ্কার
যুদ্ধের ডামাডোলেও কথা বলবে হৃদয়বীণার তার
শত্রুর শাণিত অস্ত্রে রাঙাবে নিজের প্রাণ
এ যেন খুনির হাতে শোভা পায় নিষ্পাপ গোলাপ,
ভণ্ড আর ভণ্ডামিতে ঘুণে ধরা আজকের নির্বোধ সমাজ!

অথচ আমি ঠিকই জানতাম
মানুষগুলো এখনো হয়নি বকুল, পলাশ,শিমুল জাত
যে গন্ধ বিলাবে মনের সুখে যুদ্ধের ময়দানে,
বারুদের গন্ধে আসেনি ঘুম আমার কোনকালে!

ছুরির ফলায় রেখেছি প্রাণ

ছুরির ফলায় এখনো রেখেছি প্রাণ
যদি বাঁচতে চাও হৃদপিণ্ডে মারো টান
আর তা যদি না পারো তবে নিজেই প্রস্তুত হও
শাঁখের করাতে এবার বধিবো তোমার প্রাণ।

হে নপুংসক! উদ্ধত শিশ্নে করেছো যারে অপমান
সে যে আমারই বোন,কন্যা,জায়া
হতে পারে জন্মদাত্রী জননী আমার
জীবন নিয়ে যার টানাপোড়েন বারোমাস
আকাশে উড়তে গিয়েও
ডানা ভাঙা পাখি ঝাপটিয়ে মরে বারবার
তুমি তাকেই দিয়েছো মৃত্যুবাণ উপহার!

হে অন্ধ সমাজ!মুখোশের আড়ালে ঢেকো না মুখ আর
লজ্জায় অবনত হও এবার
ঈশ্বর যদি মুখ ঘুরিয়েও নেয় আবার
বিবেকবোধে জাগ্রত করো মনুষত্বের হাতিয়ার,
ছুরির ফলায় যদি পরীক্ষা করো ধার
তবে পোঁচটি দিও ধর্ষকের শিশ্ন বরাবর।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com