মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি আর তৌকির আহমেদ

১২৮ বার পঠিত
তৌকীর আহমেদ স্থাপত্যবিদ্যায় উচ্চশিক্ষা নিলেও বাংলাদেশের মানুষের কাছে অভিনয়শিল্পী হিসেবে বেশি পরিচিত। তৌকীর আহমেদের প্রথম নাটকে সফলতার পর তিনি বিটিভি’তে প্রচারিত নাটকসমূহের রোমান্টিক চরিত্রের শীর্ষ অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি পরবর্তীতে তিনি নাট্য ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো।

তিনি ১৯৮০’র দশকের শেষের দিকে তার অভিনয় জীবনের শুরু হয়। নাটক ও চলচ্চিত্র দুই মাধ্যমেই তিনি অভিনয় করেন। পরবর্তীতে লন্ডনের রয়্যাল কোর্ট থিয়েটার থেকে মঞ্চ নাটক পরিচালনার প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং নিউইয়র্ক ফিল্ম একাডেমি থেকে চলচ্চিত্রে ডিপ্লোমা করে তিনি নাট্য ও চলচ্চিত্র পরিচালনা শুরু করেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র জয়যাত্রা পরিচালনার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া তার পরিচালিত কয়েকটি চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে উৎসবে অংশগ্রহণ করে এবং পুরস্কার লাভ করে। পাশাপাশি তার রচিত তিনটি বই অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে।

তৌকীর আহমেদ ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে এস এস সি এবং এইচএসসি সম্পন্ন করেন। ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ-এ পড়াকালীন তিনি মঞ্চ নাটকে অভিনয় শুরু করেন। তারপর তিনি স্থাপত্যে স্নাতক অর্জন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল এবং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে। তিনি ১৯৯৫ সালে লন্ডনের রয়্যাল কোর্ট থিয়েটার থেকে মঞ্চ নাটক পরিচালনার প্রশিক্ষন নেন এবং ২০০২ সালে নিউইয়র্ক ফিল্ম অ্যাকাডেমি থেকে চলচ্চিত্রে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি নিয়ে তৌকীর বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা ছোট ছিলাম। আমার বাবা লে. কর্নেল কফিল উদ্দিন আহমেদ তখন পাকিস্তান আর্মিতে চাকরি করতেন। পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের বিভিন্ন ক্যাম্পে বন্দী ছিলাম আমরা। এটা আমাদের মানসিক জীবনে গভীর ছাপ ফেলেছে। আমার শৈশবের অভিজ্ঞতার মধ্যে ভীতি আছে, বিভীষিকা আছে।

স্বাধীনতার স্মৃতি মনে করে বলেন, আমার যতটা মনে পড়ে, বন্দী থাকা অবস্থায় প্রতিটি মুহূর্ত অমানবিক অবস্থার মধ্য দিয়ে পার করতে হয়েছে। আমরা পাঁচ-ভাইবোন, বাবা-মা, এক মামাও ছিলেন। বাবার অপমান, পারিবারিক অসচ্ছলতা দেখেছি। পরে সেসব অভিজ্ঞতাই আমাকে জয়যাত্রা বানাতে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি মনে করি, জয়যাত্রা আমার মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষের যে ত্যাগ, তা আমি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। জয়যাত্রা এ দেশের সাধারণ মানুষের বীরত্বগাথা।

মুক্তিযুদ্ধের ছবি নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের সীমাবদ্ধতা এত বেশি যে সাহস পাই না। মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা বানাতে গেলে যে পরিমাণ অর্থ ও সহযোগিতার দরকার পড়ে, তা কেউ দিতে চায় না। মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ছবি করা ব্যয়সাপেক্ষ। জয়যাত্রা নিজের টাকা দিয়ে করেছি। ব্যক্তিমানুষের সীমাবদ্ধতা থাকে। যখন স্বল্প বাজেটে কাজ করতে হয়, তখন গল্প সেভাবে বাছাই করতে হয়। কী করে স্বল্প বাজেটে সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা বলতে হয়, তার একটি নিরীক্ষা ছিল আমার অজ্ঞাতনামা ছবিটি।

তৌকীর ১৯৯৯ সালের জুলাইয়ের ২৩ তারিখে বাংলাদেশের আরেকজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিপাশা হায়াতকে বিয়ে করেন। তাদের এক মেয়ে আরিশা আহমেদ ও এক ছেলে আরীব আহমেদ। রাজধানী ঢাকার মহাখালীর ডিওএইচএসে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রায় ১০ বিঘা জমির উপর দাঁড়িয়ে তৌকীর- বিপাশা দম্পতির আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট ও কনফারেন্স সেন্টার।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মানিক ওমর বিনোদন প্রতিবেদক#

+8801766310000

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com