সু চি এখনই ব্যবস্থা না নিলে ট্র্যাজেডি ভয়ংকর রূপ নেবে: অ্যান্তোনিও গুতেরেজ

এই সংবাদ ৩৩ বার পঠিত

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেজ বলেছেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাসদস্যদের হামলা বন্ধে দেশটির কার্যত নেতা ও শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চির সামনে এখন রয়েছে ‘শেষ একটি সুযাগ’।’ জাতিসংঘের সারাধণ অধিবেশন সামনে রেখে বিবিসির হার্ডটকে দেওয়া বিবিসির সাক্ষাৎকার ভিত্তিক ‘হার্ড টক’ অনুষ্ঠানে এমন অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি। জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, ‘সু চি এখনই ব্যবস্থা না নিলে ট্র্যাজেডি ভয়ংকর রূপ নেবে।’

মিয়ানমারের চলমান সহিংসতা জাতিগত নির্মূলে রূপ নিতে পারে বলে এর আগে হুঁশিয়ার করেছে জাতিসংঘ। তবে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত মাসে প্রাণঘাতী জঙ্গি হামলার বদলা নিচ্ছে তারা, বেসামরিক লোকজনকে এর লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে না।

জাতিসংঘে চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে জাতিসংঘের মহাসচিব বিবিসিকে বলেন, ‘মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণেই সেনাদের সাঁড়াশি অভিযান বন্ধে শেষ সুযোগ পাবেন সু চি।  তিনি (সু চি) যদি অবস্থার পরিবর্তন না করেন, তাহলে আমি মনে করি এই ট্র্যাজেডি ভয়াবহ রূপ নেবে এবং এর পর নিরাশার সঙ্গে বলতে হবে, আগামী দিনে এই সমস্যা কীভাবে বদলাবে, তার দিশা আমি দেখছি না।’

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অবশ্যই নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরতে দেওয়া উচিত বলে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন গুতেরেজ। তিনি আরও বলেন, ‘মিয়ানমারে এখনো কলকাঠি নাড়ছে সেনারা এবং রাখাইনে যা চলছে তা চালু রাখতে চাপ দিচ্ছে তারা।’ প্রসঙ্গত, গত ২৪ আগস্ট রাতে রাখাইন রাজ্যে একসঙ্গে ২৪টি পুলিশ ক্যাম্প ও একটি সেনা আবাসে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে।  এই ঘটনার পর মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে।  এরপর প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে ছুটে আসতে থাকে রোহিঙ্গারা।  ইতোমধ্যে এ সংখ্যা চার লাখ নয় হাজারে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে দেশটির উত্তর-পূর্ব রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত মুসলিম রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা চালায় দেশটির সেনাবাহিনী।  সে সময় সহিংসতার শিকার হয়ে প্রায় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।  এর আগে ২০১২ সালের জুনেও রাখাইন রাজ্য সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় আক্রান্ত হয়েছিল।  তখন প্রায় ২০০ রোহিঙ্গা নিহত হন।  ওই সময় দাঙ্গার কবলে পড়ে প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com