শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী আর বর্ণবাদ বিরোধীদের দাঙ্গায় অশান্তিতে যুক্তরাষ্ট্র

২৮ বার পঠিত

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে বর্ণবাদবিরোধীদের একটি সমাবেশে শ্বেতাঙ্গ উগ্র জাতীয়তাবাদীদের একটি মিছিল প্রবেশ করলে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে একজন নিহত ও ১৯ জন আহত হয়। শান্তিপূর্ণ ওই সমাবেশে একটি গাড়ি ঢুকে পড়লে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এ ধরনের ঘটনাকে অত্যন্ত নেতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এক সময় দাসপ্রথার বিরুদ্ধে লড়াই করা এই দেশটিকে মত প্রকাশের স্বাধীনতার উর্বর ভূমি হিসেবেই দেখা হতো এতদিন। সম্প্রতি দাসপ্রথা টিকিয়ে রাখতে লড়াই করেছিলেন, এমন এক কনফেডারেটপন্থি মার্কিন জেনারেলের মূর্তি অপসারণ করা হয়েছে। আর এর প্রতিবাদেই শারলটেসভাইল শহরে শত শত শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী মিছিল করেন। পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশও করছিল বর্ণবাদবিরোধীরা।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বার্তাসংস্থা ও গণমাধ্যম জানিয়েছে, মশাল হাতে শত শত শ্বেতাঙ্গ মিছিলে শ্লোগান দেন ‘ইহুদীরা আমাদের জায়গা নিতে পারবে না’ এবং ‘শ্বেতাঙ্গদের জীবনেরও মূল্য আছে।’ মিছিলের সময় বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। সেখানেই ভীড়ের মধ্যে গাড়ি তুলে দেয়া হয়। ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সমাবেশে গাড়ি তুলে দেয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শ্বেতাঙ্গদের আধিপত্যের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গাড়ি তুলে দেয়া হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়িটি অন্য গাড়িকে ধাক্কা দিচ্ছিলো এবং মানুষরা ছিটকে পড়ে যাচ্ছিলো। পরে সেই চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফটোগ্রাফার প্যাট জ্যরেট বলেন, ‘একটি ধুসর গাড়ি একটি সেডান ও মিনিভ্যানে জোরে এসে ধাক্কা দেয়। মানুষগুলো যেন মুহূর্তেই উড়ে গেল। সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। কাছাকাছি থাকা সবাই জানে একটা অবশ্যই সহিংস হামলা ছিলো। চালক পরে গাড়ি ঘুরিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তার গাড়ির সামনের পুরো অংশ ভেঙে গেছে।’

শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা আর সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছেন শার্লটসভিলের মেয়র মাইক সিঙ্গার। শ্বেতাঙ্গ জাতীয়বাদীদের এই মিছিলকে ‘বর্ণবাদী’ আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা করেছেন তিনি। এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমি খুবই মর্মাহত যে একজনকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। আমি সবাইকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাই।’ সংঘর্ষের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের জরুরি অবস্থা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই সংকট বহুমুখী। এক টুইটারে তিনি বলেন, ‘আমাদের সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হবে এবং ঘৃণার প্রতিবাদ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে এমন সহিংসতার কোনও স্থান নেই। চলুন সবাই এক হই।’

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com