হিন্দু মৌলবাদীদের প্রধান রাজনৈতিক শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন সুভাষ বসু

২২২ বার পঠিত

অতনু সিংহ, কলকাতা # পঁচাত্তর বছরেরও বেশি সময় আগে হিন্দু মৌলবাদীদের প্রধান রাজনৈতিক শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন সুভাষ বসু! এখন সেই শত্রু কয়েকগুণ ডালপালা ছড়িয়ে বসেছে। কিন্তু পশ্চিমের বাঙালী যাতে আরও বেশি করে ইতিহাস বিস্মৃত হয়ে যায়, তাই সুভাষের রাজনীতিকে বিকৃত করতে হিন্দুত্বের বাঁদররা তাঁর মতাদর্শে গেরুয়া প্রলেপ দিতে চায়, যেভাবে নৈরাষ্ট্রিয় বিপ্লবী কমিউনিস্ট ভগৎ সিংকেও ব্যবহার করছে চাড্ডিরা! আর তথাকথিত কমিউনিস্টরাও ইতিহাসের সত্যতা সামনে আনতে নারাজ! যেহেতু প্রাতিষ্ঠানিক কমিউনিস্টদের থেকে অনেকটা এগিয়েছিলেন, কেননা ভূমি উৎপাদনের প্রধান কারিগর অর্থাৎ বাঙালী কৃষক, মজুরদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ণের জন্যে বর্গ বা সাংস্কৃতিক ফ্যাক্টরকে বা মুসলিম, দলিত, আদিবাসীর পরিচিতিসত্ত্বাকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

বাংলায় মুসলিম লীগের সঙ্গে সুভাষের জোট পাক-ই-স্তান প্রস্তাবের সহায়তায় নয়, বরং বাংলার মেহনতি জনতার অধিকাংশ সাংস্কৃতিক প্রশ্নে যে রাজনৈতিক প্লাটফর্মের মধ্যে রয়েছে তার সঙ্গে একাত্ম হয়ে অখণ্ড বাংলার ভিত্তিপ্রস্তর রচনাই হয়ত তাঁর লক্ষ্য ছিল। যে লক্ষ্যে তাঁর বড় ভাই প্রকাশ্যেই রাজনীতি করেছেন এ কে ফজলুল হকদের সঙ্গে নানা সময় এক মঞ্চে এসে। অন্যদিকে সমাজতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ ভারতীয় ইউনিয়ন গঠন করতে চেয়েছিলেন সুভাষ,যাতে ভাষা ও সংস্কৃতি নির্ভর নানা পৃথক দেশ একসাথে থাকতে পারে। বলা ভালো এই ইউনিয়ন গঠনের কাজেও তাঁর প্রধান কমরেডরা মুসলমান, দলিত ও মহিলা।

সাংস্কৃতিক প্রশ্নকে গুরুত্ব না দিয়ে সো-কল্ড কমিউনিস্টরা সুভাষের বিরোধিতা করে গ্যাছে এবং তাঁকে বাধ্য করেছে আন্তর্জাতিক ফ্যাসিস্ট ক্যাম্পের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে। এমনটা না হয়ে যদি বাম মনস্কের সুভাষের সঙ্গে কমিউনিস্ট পার্টির সম্পর্ক মজবুত হোতো, এবং সেই সূত্রে মুসলিম লীগ, কৃষক প্রজা পার্টি প্রভৃতি দলগুলির সঙ্গে কমিউনিস্টদের সমঝোতা প্রবল হোতো, তাহলে শুধু বাংলাই নয়, গোটা উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ভিন্ন খাতে বইতো। বাংলাও অখণ্ডভাবেই স্বাধীনতা অর্জন করত।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com