রামনবমীর পর ফের মহরমের আগের দিন বিজয়া দশমীতে অস্ত্রের আস্ফালন দেখাবে বিজেপি

সুকুমার মিত্র, কলকাতা # রামনবমীর পর বিজয়া দশমীতে ফের অস্ত্র মিছিল হবে রাজ্য জুড়ে এমনটাই অস্ত্র হাতে নিয়ে ৯ এপ্রিল ডায়মন্তহারবারে ঘোষণা করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। অস্ত্রের আস্ফালন দেখিয়ে বিজেপি বাংলা দখল করতে চায়। এই জন্য আইন-শৃঙ্খলার অবনতির অজুহাতে প্রয়োজনে কেন্দ্র হস্তক্ষ‌েপ করবে এমন হুমকি দিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। ঘুরিয়ে রাজ্যে ৩৫৬ ধারা প্রয়োগের হুমকিও দিয়েছেন তিনি। মহরমের ঠিক আগের দিন বিজয়া দশমী। মহরমের আগের দিন শিয়া মুসলিমরা মহরমের মহড়া দিয়ে থাকেন। সেই দিন অস্ত্রের মিছিল করে অশান্তি সৃষ্টি করে মহরমের অনুষ্ঠানকে বানচাল করার কৌশল নিয়েছে বিজেপি।

আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি ছাড়াও রাজ্যে জাল নোটের কারবারকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র হস্তক্ষ‌েপ করতে পারে এমনটাই হুমকি দিয়েছেন বিজেপি নেতা কৈলাশ বিজয় বর্গীয়। একটি নির্বাচিত ও বহু মানুষের সমর্থিত রাজ্য সরকারকে ভেঙ্গে দেওয়ার হুমকি তো দেশে স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করা। জরুরি অবস্থা জারি না করেই জরুরি অবস্থাকেও ছাপিয়ে গিয়েছেন বিজেপি নেতা কর্মীরা। তাঁদের হম্বি তম্বি ও আস্ফালন আসলে সাধারণ মানুষকে সন্ত্রস্ত করে তাদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে দূরে সরিয়ে ফেলার কৌশল। তবে এই কৌশল খুব সহজেই যে হবে না তা হয়তো জেনেই করছেন। বিজেপি ভালই জানে যে জোর জবরদস্তির রাস্তায় বেশি হাটার কর্মসূচি নিলে বাংলার শুভবুদ্ধি সম্পন্ন প্রগতিশীল মানুষ তাকে গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিহত করবে। তবে তা হবে এক রক্তক্ষ‌য়ী পরিস্থিতি। সেই পরিস্থিতি যাতে না হয় তার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে। আর এই ধৈর্য্যকে বিজেপি নেতারা শাসক দলের দুর্বলতা বলে ভাবছে।

অন্যদিকে রাজ্যে গেরুয়া বাহিনীর বাড়বাড়ন্তে কোনও মাথা ব্যাথা নেই প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস ও তার সঙ্গী সিপিএমের। তারা ভাঙড়ে পাওয়ার গ্রিডের লাইনের বিরোধিতার আন্দোলন নিয়েই ব্যস্ত। বিজেপির অস্ত্রের আস্ফালনের বিরুদ্ধে নয়, ২৫ এপ্রিল ভাঙড়কাণ্ড নিয়ে কলকাতায় মিছিলের ডাক দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। মানুষের জীবন যখন বিপন্ন হয়ে পড়ছে তখন জমি, জীবিকা, বাস্তুতন্ত্র নিয়ে বেজায় চিন্তিত সিপিএম, কংগ্রেস সহ বেশ কিছু দল ও এনজিওরা।

সংঘ পরিবার ও বিজেপি অস্ত্র হাতে মিছিল নিয়ে যত সমালোচনা হোক না কেন তাতে তারা পিছু হঠছে না এটাই স্পষ্ট কথায় রবিবার ডায়মন্তহারবারের সভায় জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি এই জানিয়ে দিয়েছেন এবারে বিজয়া দশমীতে মা-বোনেরা অস্ত্র হাতে নিয়ে মিছিল করবে। সংঘ পরিবারের মহিলা সংগঠনের নাম দূর্গাবাহিনী। তবে বজরং দল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, আরএসএস, হিন্দু সংহতি-সহ সকলস্তরের বিজেপি নেতা কর্মীরা যে থাকবে সেই ইঙ্গিত বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে রবিবার বারুইপুরে বিজেপির মিছিল ছিল সশস্ত্র। সর্বত্র বাবরি মসজিদের জায়গা রাম মন্দির বানানো ও হিন্দু রাষ্ট্রের ডাক দেওয়া হয়েছে বিজেপির পক্ষ‌ থেকে।

মুখে রাম নাম  হাতে অস্ত্র নিয়ে বিজেপি’র বাংলা দখলের এই কৌশলকে প্রতিহত করতে প্রস্তুত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মেরুকরণের এই রাজনীতিকে প্রতিহত করতে ধারাবাহিক নানা কর্মসূচি নিয়েছে রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেস। অস্ত্র নিয়ে নয় বিজেপিকে ঠেকাতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদই যথেষ্ট এমনটা দাবি করা হয়েছে সংগঠনের পক্ষ‌ থেকে। দলীয় কর্মীদের রাজনীতি ও সামাজিক ইতিহাস, ঐতিহ্য সম্পর্কে শিক্ষ‌া শিবির, সেমিনার, আলোচনা সভা ও বৈঠকের কর্মসূচি নিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। সিপিএম ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য মানুষকে বোঝাবেন, জাতের লড়াই নয়, লড়াইটা ভাতের লড়াই। আন্দোলনের অভিমুখ ঘোরাতেই এমন কৌশল নিয়েছে সিপিএম নেতৃত্ব। তবে তাঁরা এই রকম কঠিন পরিস্থিতিতেও দায় দায়িত্ব জ্ঞানহীনভাবে দুই দলকে একই ব্র্যাকেটে ফেলায় বিস্মিত রাজনৈতিক মহল। একটি ফ্যাসিস্ট শক্তিকে একটি গণতান্ত্রিক জাতীয়তাবাদী দলকে তাঁরা একই সঙ্গে প্রতিহত করার যে ডাক দিয়েছেন তা কার্যত সংঘ পরিবারের হাতকেই শক্ত করবে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
২১০ বার পঠিত
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com