ট্রাম্পের নতুন মুসলিম নিষেধাজ্ঞাও আটকে গেলো

৭২ বার পঠিত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন সংশোধিত মুসলিম নিষেধাজ্ঞাও আটকে দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) মধ্যরাত থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু তার কয়েকঘণ্টা আগেই হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের এক ফেডারেল বিচারক ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশকে আটকে দেন।  স্থানীয় সময় বুধবার রাতে ডিস্ট্রিক্ট জাজ ডেরিক ওয়াটসন এক আদেশে ওই নিষেধাজ্ঞা আটকে দেন। যেসব অঙ্গরাজ্য মুসলিম নিষেধাজ্ঞা বন্ধের চেষ্টা করে যাচ্ছে, হাওয়াই হচ্ছে তারই একটি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই রায়কে অভূতপূর্ব বিচারিক আদেশ বলে অভিহিত করেছেন।
 
ট্রাম্পের নতুন নিষেধাজ্ঞায় ছয় মুসলিম দেশের নাগরিকদের আগামী ৯০ দিন এবং শরণার্থীদের ১২০ দিন আমেরিকায় প্রবেশে নিষিধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।  ট্রাম্প বলছেন, আমেরিকায় সন্ত্রাসীদের প্রবেশ ঠেকাতে এই উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এই আদেশ বৈষম্যমূলক।
এরআগে জানুয়ারিতে আরোপিত মূল নিষেধাজ্ঞাটি আন্দোলন ও আইনি চ্যালেঞ্জে হেরে যায়। আগের নিষেধাজ্ঞা সংশোধন করে নতুন নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে বলে দাবি করা হলেও আদতে তা আগের নিষেধাজ্ঞার মতো করেই মুসলিমদেরকে টার্গেট করা হয়েছে।
 
ক্ষমতা গ্রহণের পরই ২৭ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে এক নির্বাহী আদেশে সাত মুসলিম-প্রধান দেশ- ইরাক, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। নোবেল বিজয়ী শিক্ষা অধিকারকর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতিষ্ঠাতা, বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ট্রাম্পের এ নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেন।
 
পরে সিয়াটলের একজন বিচারক ট্রাম্পের ওই নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের আদেশ দেন। ট্রাম্প প্রশাসন ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলেও সান-ফ্রান্সিসকোভিত্তিক তিন বিচারকের প্যানেল তা খারিজ করেন। এরপর সাত মুসলিম-প্রধান দেশের নাগরিকদের ওপর স্থগিত হয়ে যাওয়া নিষেধাজ্ঞা সংশোধন করে ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। নতুন জারি করা নিষেধাজ্ঞায় আগের তালিকায় থাকা ইরাককে বাদ দেয়া হয়। তবে অপর ছয়টি দেশের নাগরিকদের জন্য নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়।

ন্যাশভিলে দেয়া এক ভাষণে বুধবার ট্রাম্প বলেন, হাওয়াই বিচারকের রায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দুর্বল করে দিয়েছে। তাই নতুন নির্বাহী আদেশ কার্যকর করতে তিনি যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হবেন। হাওয়াই রাজ্যের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে পর্যটন, বিদেশি ছাত্র ও কর্মী নিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

<

p style=”text-align: right;”>–বিবিসি।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com