জাপানে ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা

২০ বার পঠিত

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে। জারি করা হয়েছে সুনামি সতর্কতা। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ফুকুশিমা অঞ্চলে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে রিখটার স্টেলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এখনো পর্যন্ত প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ভূপৃষ্ঠের ৩০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল। সুনামির প্রাথমিক সতর্কতা বার্তায় বলা হয়, ১০ মিটার উচ্চতার ঢেউ উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে সকাল ১০টার পর সতর্কতার মাত্রা কমিয়ে দেওয়া হয়।

মায়াগি প্রিফেকচারেও সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেনদাই বন্দরে ৪ দশমিক ৬ ফুট উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানতে দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) প্রথম দিকে ভূমিকম্পের তীব্রতা ৭ দশমিক ৩ জানালেও পরে তারা জানায় রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূকিম্প হয়েছে। তবে তা জাপানের আবহাওয়া সংস্থার পরিমাপ থেকে কম।

ফুকুশিয়ার উপকূলের পাশে ৩ দশমিক ৩ ফুট উচ্চতার ঢেউ আঘাত হেনেছে। ২০১১ সালে ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামিতে ফুকুশিমা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে টোকিও ইলেক্ট্রিক পাওয়ার নামের প্রতিষ্ঠান। জাপানের মন্ত্রিসভার মুখ্যসচিব ইয়োশিহাইদ সুগা টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুকেন্দ্রের তৃতীয় চুল্লির কুলিং সিস্টেম (শীতলীকরণ ব্যবস্থা) বন্ধ হয়ে গেছে। তবে তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। অন্য কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতিরও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ফুকুশিয়া পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের অপারেটর পরে জানান, কুলিং সিস্টেম আবার চালু হয়েছে। নিরাপদ সীমার মধ্যেই সামান্য তাপমাত্রা বেড়েছে মাত্র। তবে এতে আশঙ্কার কিছু নেই। ২০১১ সালে সুনামির পর ফুকুশিমার সব চুল্লি বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যবহৃত পরমাণু জ্বালানি সংরক্ষণের জন্য এখনো কুলিং সিস্টেম প্রয়োজন হয়। এ ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তেমন পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, বেশ কিছু লোক সামান্য আঘাত পেয়েছেন। টোকিওতে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে এবং কয়েকটি উপকূলীয় অঞ্চল থেকে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে চলা হয়েছে।

জাপানের সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, ফুকুশিমার ওনাহামা বন্দরে ২ ফুট উচ্চতা এবং সোমা বন্দরে ৩ ফুট উচ্চতার ঢেউ আঘাত করেছে। ভূমিকম্পের চার ঘণ্টা পর সুনামি সতর্কতার মাত্রা কমানো হয়েছে। তবে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের আশপাশ থেকে লোকজনকে সরে যেতে বলা হয়েছে এবং উপকূলীয় অঞ্চল এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জাপান ভূমিকম্পপ্রবণ একটি দেশ। বিশ্বে প্রতিবছর ৬ মাত্রার ওপরে যেসব ভূমিকম্প হয়, তার ২০ শতাংশই হয়ে থাকে জাপানে। গত এপ্রিল মাসে কুমামাতো অঞ্চলে শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে মারা যায় কমপক্ষে ৫০ জন। ২০১১ সালে ফুকুশিমায় ভূমিকম্প ও সুনামিতে মারা যায় অথবা নিখোঁজ হয় প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষ।

তথ্যসূত্র : বিবিসি অনলাইন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com