সত্যই কি ভেঙে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

৩৭ বার পঠিত

প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হওয়ার পর ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের বাসিন্দারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা হওয়ার দাবি তুলেছেন। ‘ইয়েস ক্যালিফোর্নিয়া ইন্ডিপেন্ডেন্স’ ক্যাম্পেইন নামে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের হওয়ার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন। ২০১৯ সালের ব্যালটে ক্যালিফোর্নিয়ার স্বাধীনতা নিয়ে একটি গণভোটের আয়োজন করতে চায় তারা।

বার্তা সংস্থা সিএনএন এর খবরে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৬০ শতাংশ ভোট পেয়েও হিলারি ক্লিনটন হেরে যাওয়ায় রাজ্যটিতে স্বাধীনতার দাবি আরও জোরালো হয়েছে। নতুন করে তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের হতে চাইছেন। এজন্য ২০১৯ সালের ব্যালটে ক্যালিফোর্নিয়ার স্বাধীনতা নিয়ে একটি গণভোটের আয়োজন করতে চায় তারা।

২০১৫ সালেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের হওয়ার জন্য রাজ্যজুড়ে এ গণভোট আয়োজনের লক্ষে ৯টি গণস্বাক্ষর সংগ্রহের উদ্যোগ চালান ইয়েস ক্যালিফোর্নিয়ার প্রেসিডেন্ট লুইস ম্যারনেলি। কিন্তু কোনোবারই প্রয়োজনীয় ৪ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে পারেননি তিনি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ম্যারিনেলি ও তার অনুসারীরা আবার নতুন করে কাজ শুরু করেছেন।

ইয়েস ক্যালিফোর্নিয়া তাদের ওয়েবসাইটে বলেছে, ‘বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতি হলো ক্যালিফোর্নিয়া। অর্থনৈতিকভাবে ফ্রান্সের চেয়ে বেশি শক্তিশালী এটি। এর জনসংখ্যা পোল্যান্ডের চেয়েও বেশি। প্রতিটি পয়েন্টে অনেক স্বাধীন দেশের সঙ্গে তুলনীয় ক্যালিফোর্নিয়া, স্রেফ বাকি ৪৯টি রাজ্যের সঙ্গেই নয় কেবল।’ এ রাজ্যটি ঐতিহ্যগতভাবেই ডেমোক্রেট ঘেঁষা অঙ্গরাজ্য। এবারের নির্বাচনেও ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে বিপুল ভোটে জয়ী করেছে রাজ্যের ভোটাররা। কিন্তু সামগ্রিকভাবে জিতেছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে রাজ্যটিতে প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে বেশ। এরই মাঝে স্বাধীনতার দাবিতে এ আন্দোলন হালে পানি পাচ্ছে।

তবে কোনো রাজ্যই এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের হতে পারেনি। এ বছরের শুরুর দিকে টেক্সাস অনেক চেষ্টা করেছে, তবে সফল হয়নি। মার্কিন সংবিধানে একটি রাজ্য কিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে, তার প্রক্রিয়া লিপিবদ্ধ আছে। কিন্তু কিভাবে বের হবে, তার কোনো পথ নেই। তবে ম্যারিনেলি মনে করেন, উপায় বের করা যাবে।

মারিনেলি নিজেও স্বীকার করলেন, সামনের পথ অনেক দীর্ঘ। তবে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে যা হচ্ছে, তার চেয়ে এখানকার পরিস্থিতি অনেক আলাদা।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি চাই ক্যালিফোর্নিয়া যতদূর সম্ভব নিজের মতো হোক। আমরা অনুভব করি যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংযোগের কারণে আমাদের সম্ভাবনার তুলনায় পিছিয়ে পড়ছি।’

সূত্র: সিএনএন

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com