বিশ্বের ১৮টি দেশে কার্যক্রম চালাচ্ছে আইএস, রয়েছে বাংলাদেশও

৩৩ বার পঠিত

বাংলাদেশে একের পর এক ভিন্ন মতাবলম্বী ও সংখালঘু হত্যাসহ গুলশান ও শোলাকিয়ার জঙ্গি হামলা, কল্যাণপুরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানের সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে আইএস রয়েছে— পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো এমন প্রচারণা চালালেও সরকার আইএসের অস্তিত্ব বরাবরই অস্বীকার করে বলছে, দেশিয় জঙ্গিগোষ্ঠীরাই এসব হামলা করছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এবং এনবিসির প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আইএস ও বাংলাদেশে জঙ্গি হামলা নিয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ।

কোন কোন দেশে আইএস বিস্তার লাভ করছে- হোয়াইট হাউসের এ বিষয়ক এক গোপন নথির বরাতে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল এনবিসি। ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের ওই নথিতে জঙ্গিদের কার্যক্রম পরিচালনার সর্বশেষ মানচিত্রে দেখা গেছে, আইএস বিশ্বের ১৮টি দেশে কার্যক্রম চালাচ্ছে। নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মোট ১৮ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালি, ফিলিপাইন, মিসর ও সোমালিয়ায় শিকড় গাড়তে অবকাঠামো তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে আইএস।

সিরিয়া থেকে জার্মানিতে পালিয়ে আসা হ্যারি সারফো নামের সাবেক এক আইএস জঙ্গির সাক্ষাতকার নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক টাইমস। পত্রিকাটি জার্মানিতে আটক সারফোকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, আইএসের এমনি নামের একটি বিশেষ সেলের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানোর জন্য সক্ষম জঙ্গিদের চিহ্নিত করে দায়িত্ব দেয়া হয়। আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকার বাইরের জঙ্গি হামলাগুলোর পরিচালনা ও সমন্বয় করে এমনি। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, প্রশিক্ষিত জঙ্গিদের বাংলাদেশসহ অস্ট্রিয়া, জার্মানি, লেবানন, তিউনিসিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছে।

আইএসের এমনি প্রশিক্ষিত শত শত যোদ্ধা নিজেদের দেশে ফেরত গেছে বলেও জানিয়ে সারফো বলেন, অবকাঠামো তৈরিতে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার আল কায়েদা প্রশিক্ষিতদের দলে টানছে আইএস। এদিকে, বাংলাদেশে আইএস রয়েছে, নেই আইএস— এ বিতর্কের মধ্যেই ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজানে ঘটে গেছে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ আর এর সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করে হামলার সামর্থ্য ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জানানও দিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠীটি।

শুধু তাই নয়, গত ২৬ জুলাই কল্যাণপুরে পুলিশের জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত ৯ জঙ্গির কাছেও মিলেছে আইএসের পোশাক ও পতাকা। এছাড়াও দেশের বেশ কয়েকজন ভিন্ন মতাবলম্বী ও সংখ্যালঘু হত্যার দায়ও স্বীকার করেছে আইএস।তবে দেশে আইএসের অস্তিত্ব বরাবরই অস্বীকার করে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এসব হামলার পেছনে আইএস নয়, রয়েছে আইএস নাম ব্যবহার দেশিয় জঙ্গি সংগঠনগুলো।

৩ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, সাম্প্রতিক জঙ্গি কর্মকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে যাদের নাম প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পুলিশ, তাদের অনেককেই নিজেদের কর্মী বলে দাবি করেছে আইএস। বাংলাদেশে গত মাসে যে ২৬১ জনের নিখোঁজ তালিকা প্রকাশিত, এর মধ্যে জিলানি বা আবু জিদাল, সিরিয়ায় লড়াইতে নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে, সিঙ্গাপুরভিত্তিক রাজারত্মম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষক রোহান গুনারত্নার গবেষণার উল্লেখে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জঙ্গিরা ইসলামিক স্টেটের কাছ থেকে অর্থ সহায়তা ও নির্দেশনা পাচ্ছে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com