১০/২০ মিনিট বন্ধ থাকবে ইন্টারনেট সেবা

৩৮ বার পঠিত

রাজধানীর গুলশান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া হামলার মতো ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের যোগাযোগের মাধ্যম ইন্টারনেট তাৎক্ষণিক বন্ধের মহড়া করতে যাচ্ছে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। সোমবার বিকেল থেকে মধ্য রাতের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় স্বল্প সময়ের জন্য এ মহড়া চালানো হবে বলে জানিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, আজ (সোমবার) বিকেল থেকে মধ্যরাত অবধি ঢাকার কোনো কোনো এলাকা এ মহড়ার আওতায় আসবে— তবে এলাকার নাম বলা যাবে না। তিনি আরো বলেন, মোবাইল ইন্টারনেট থেকে শুরু করে তারযুক্ত ইন্টারনেটসহ (ফিক্সড ব্রডব্র্যান্ড) সব ধরনের ইন্টারনেট সেবা এ মহড়ার অন্তর্ভুক্ত হবে আর এ মহড়ায় ১০ মিনিট থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত হতে পারে।

যেসব এলাকার ইন্টারনেট বন্ধ থাকবে ওইসব এলাকার গ্রাহকদের আগে থেকে জানানো হবে কি-না? বা এভাবে সেবা বন্ধ রাখলে গ্রাহক স্বার্থ লঙ্ঘিত হবে কি-না? সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেন, আগে থেকে জানানো সম্ভব হচ্ছে না কারণ বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র কিছু সমস্যা তো মেনে নিতেই হবে। ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের (আইএসপিএবি) সেক্রেটারি এমদাদুল হক বলেন, এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা বিটিআরসি পাঠিয়েছে—কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা যায় কি-না? তা পরীক্ষা করতে এ মহড়া হবে।

তিনি আরো বলেন, খুবই কম সময়ের জন্য, কোনো কোনো এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হবে তা বিটিআরসি জানায়নি। তাৎক্ষণিক নির্দেশনা পাওয়ার পর ইন্টারনেট বন্ধ করা হবে। ইন্টারনেট গেইটওয়ে (আইআইজি) প্রতিষ্ঠান ফাইবার অ্যাট হোমের স্ট্রাটেজি অফিসার সুমন আহমেদ সাবির বলেন, আইআইজি, আইএসপি, নেশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দেশনা পাওয়া মাত্র ইন্টারনেট বন্ধ করতে পারে কি-না? তা দেখতেই এ মহড়ায় অংশ। বর্তমানে দেশে ২৭টি ইন্টারনেট গেইটওয়ে প্রতিষ্ঠান এবং বিটিআরসির হিসাবে ৪৯০টি আইএসপি ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে।

বিটিআরসির হিসাবে জুন পর্যন্ত দেশে ইন্টারনেট গ্রাহক ছিল ৬ কোটি ৩২ লাখের বেশি। এর মধ্যে ৫ কোটি ৯৬ লাখের বেশি গ্রাহক মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই (শুক্রবার) রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হত্যাযজ্ঞ চালায় জঙ্গিরা। ১২ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর জিম্মি সংকটের রক্তাক্ত অবসান ঘটে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সেনা নেতৃত্বাধীন সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে। অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের জঙ্গিরা আগেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছিল।

এ ২০ জনের মধ্যে ১৭ জন বিদেশি নাগরিক ও ৩ জন বাংলাদেশি। উদ্ধার অভিযানে নিহত হন আরো ৬ জন। এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথম দফা উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। আহত হন কমপক্ষে ৪০ জন। গত ১ জুলাই রাতে একদল অস্ত্রধারী তরুণ গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালালে দেশি-বিদেশি অতিথিরা ভেতরে আটক পড়েন। জিম্মি সঙ্কটের মধ্যে জঙ্গিদের ঠেকাতে গিয়ে বোমায় নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা।

ওই পরিস্থিতিতে জঙ্গিদের যোগাযোগের পথ বন্ধ করতে গুলশান ২ নম্বর সেকশনের ৭৯ নম্বর সড়ক ও আশপাশের ব্রডব্যান্ড সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হলেও মোবাইল ইন্টারনেট চালু থাকে। পরদিন ভোরে কমান্ডো অভিযান চালিয়ে সশস্ত্র বাহিনী ওই ক্যাফের নিয়ন্ত্রণ নেয়। অবশ্য তার আগেই ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। গভীর রাতেই তারা রক্তাক্ত লাশের ছবি ইন্টারনেটে তুলে দেয়, যা আইএস এর বরাত দিয়ে প্রকাশ করে সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ।

সেই রাতে ক্যাফের জঙ্গিরা বিশেষ একটি অ্যাপ ব্যবহার করে বাইরে যোগাযোগ করেছিল বলে পরে গণমাধ্যমে খবর আসে। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করায় সে সময় মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয়নি। মোবাইল যোগাযোগ ঠিক রেখে ডেটা ট্রান্সফার বন্ধ রাখা সম্ভব কি না- এ নিয়ে পরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়। এ প্রেক্ষাপটেই বিটিআরসি মহড়া করার উদ্যোগ নিল।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com