বিনা ওষুধে আরোগ্য লাভ

১৩১ বার পঠিত

অনেক রোগের জন্য কোন ওষুধের প্রয়োজন হয়না। রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য যথেষ্ঠ প্রতিরোধক শক্তি আমাদের আছে। এই প্রাকৃতিক প্রতিরোধক ক্ষমতা সুস্বাস্থ্যের জন্য ওষুধের চেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে। সাধারণত সর্দি-জ্বর ও ইনফ্লয়েঞ্জাসহ অনেক অসুখই আপনা আপনি ভাল হয়ে যায়। এসব রোগগুলো থেকে বাচতে হলে দরকার বিশ্রাম, পরিচ্ছন্নতা ও খাদ্য।

জীবাণু গঠিত বিভিন্ন গুরুত রোগের ক্ষেত্রে ওষুধ লাগে। কিন্তু বহু রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসক শরীরকে সাহায্য করার জন্য কিছু মেডিসিন লিখেন। ডাক্তারা একে সান্তনামূলক ওষুধ বলে থাকেন। শরীর নিজেই অনেক ব্যাধিকে হটিয়ে দেয়। এরজন্য পরিচ্ছন্নতা, বিশ্রাম এবং পুষ্টিকর খাবারের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। স্বাস্থ্য পরিচর্যা কখনও ওষুধের ব্যবহারের উপর নির্ভরশীল নয়। আপনি যদি কখনও এমন পরিস্থিতিতে পরেন যেখানে আধুনিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না তবে ঘাবড়াবার কিছু নেই। যদি আপনি জানেন সুস্থ্য থাকার উপায়। নিজেই নিজেকে চিকিৎসা করতে পারবেন।

শুধু পানির সঠিক ব্যবহারে সারে বহু রোগ:

মানুষ ওষুধ ছাড়া বাচতে পারে কিন্তু, পানি ছাড়া বাচতে পারেনা। প্রকৃত পক্ষে মানুষের শরীরের বেশিরভাগ পানি। মানুষ যদি পানির সঠিক ব্যবহার করেন রোগ ও মৃত্যুর হার বিশেষ করে শিশু মৃত্যুহার অনেক কমে যেতো। যেমন, ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানার চিকিৎসা ও প্রতিরোধে পানির সঠিক ব্যবহার খুব গুরুত্বপূর্ণ। দূষিত পানি পান করার ফলে পাতলা পায়খানা হয়।

পান করার এবং খাবার তৈরি করার জন্য পানি ফুটিয়ে ব্যবহার করলে ডায়রিয়া থেকে রেহাই পাওয়া যায়। শিশুদের খাবারের পাত্র নিরাপদ পানি দিয়ে ধুয়ে ব্যবহার করা উচিত। খাবারের আগে, খাবার তৈরির আগে ও প্রাকৃতিক কর্ম সারার পর, অবশ্যই সাবান বা ডেটল দিয়ে ধুয়ে নেওয়া উচিত। শুধু, বাংলাদেশের

হোটেল,রেস্টুরেন্ট ও খাবার তৈরির প্রতিষ্ঠানকে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা শেখানো গেলে দেশ থেকে অর্ধেক রোগ চলে যাবে গ্যারান্টি। আমরা কি ভয়ংকর অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, খাবার সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে এতো অজ্ঞ লোক দিয় হোটেল রেস্টোরেন্ট বা খাবার তৈরির প্রতিষ্ঠান চলে ভাবতেও অবাক লাগে। সালাত যেখানে কাটা হয়, সালাত যেখানে রাখা হয়, খাবার যেভাবে থাকে হোটেলে সত্যিই সৃষ্টিকর্তার কৃপা না থাকলে মানুষের মড়ক লাগা ছাড়া উপায় ছিলোনা। এসব খাবার খেয়েই আমাদের প্রতিরোধ শক্তিকে রীতিমত ব্যস্ত থাকতে হয়।

শিশুদের পাতলা পায়খানা হলে শরীর থেকে পানি বের হয়ে যায়, পানি শূন্য হয়ে শিশু মারা যায়। পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত শিশুকে লবণ, গুড়ের শরবত পর্যাপ্ত খাওয়ালে পানির ও প্রয়োজনীয় বডিইলেক্ট্রোলাইটের অভাব পূরণ হয়। এ ক্ষেত্রে ওষুধের চেয়ে শরবত বেশি কার্যকর।

পানি যেখানে ওষুধের চেয়ে উত্তম:

নিউমোনিয়া ছাড়া, বহু অসুখে পানিই উত্তম ওষুধ লাগেনা।

১. ক্ষতে সংক্রমণ: ক্ষতে সংক্রমণ হলে ডেটল ও পানি দিয়ে ক্ষতস্থান ধুয়ে ফেলুন।

২. চর্মরোগ: নিয়মিত গোসল ও মাঝে মাঝে পানি গরম করে একটু লবণ মিশিয়ে গোসল করা।

৩. পাতলা পায়খানা ও কৃমি, অন্ত্রের প্রদাহ: পানি ফুটিয়ে খাওয়া ও হাত ধুয়ে খাবার গ্রহণ।

 

৪.জ্বর: প্রচুর পানি পান করুন, তাপ নিয়ন্ত্রণে আসবে।

৫. প্রচণ্ড জ্বরে: বেশিতাপ বাড়লে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে শরীর বার বার ‍মুছে দেওয়া।

৬. মুত্রতন্ত্রের হালকা সংক্রমণ: নারীদের এগুলো প্রায়ই দেখা দেয়। এক্ষেত্রে প্রচুর পানি পান ও সংক্রমিত এলাকা শুস্ক ও পরিস্কার রাখা।

৭. কাশি, হাপানি, ব্রঙ্কাইটিস, হুপিং কাশি: প্রচুর পানীয় পান করুন, গরম পানির ভাপ নিন।

৮. গলাব্যাথা, কণ্ঠের বিকৃতি: গরম লবণ জলে গার্গল করা।

৯. দাদ, চুলকানি, ফুসকুরি: নিমপাতার লবণ গরম জল দিয়ে ঘষে গোসল করা।

১০. সংক্রমণযুক্ত ফোড়া: গরম পানির সেক।

১১. মাংসপেশি ও হাড়ের জোড়া শক্ত বা স্টিফনেস হলে গরম পানির সেক উত্তম।

১২. চামড়া চুলকানো, জ্বালা-পোড়া বা কষ ঝরলে: ঠাণ্ডা পানির সেক।

১৩. সামান্য পুড়ে গেলে: ঠাণ্ডা পানিতে পুড়ে যাওয়া অঙ্গ চুবিয়ে রাখা।

১৪. অ্যাসিড লাগলে: প্রচুর পানি ঢালা এতে, জ্বালা কমবে।

১৫. গলায় ঘা বা টনসিল: লবণ ও গরম পানির গড়গড়া।

১৬. নাকবন্ধ হলে: লবণ মিশানো পানি নিয়ে নাকে টানার চেষ্টা করা।

১৭. কোষ্ঠকাঠিন্য, শক্তমল: প্রচুর পানি খাবেন ওষুধের চেয়ে বেশি কাজ হবে।

১৮. ত্বক সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখতে যথেষ্ট পানি পান করা উচিত। ক্ষুধামান্দ্য ও অন্যান্য হজমের সমস্যায়ও পানির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

শরীরের বিষাক্ত পদার্থ ছেকে নেয় কিডনি। পর্যাপ্ত পানি পানে কিডনি ভাল থাকে। পানি বহু কিডনি রোগ থেকে মুক্তি দেয়। শরীরের জলীয় অংশ তাপ চাপ নিয়ন্ত্রণ করে। খিটখিটে মেজাজ দূর করে। পানি তাই অমূল্য। শুধু পানি দিয়ে চিকিৎসা পদ্ধতি হাইড্রোপ্যাথি চালু আছে বিভিন্ন দেশে। নিরাপদ পানি খান, সুস্থ্য থাকুন। পানি পান নিয়ন্ত্রণের জন্য আমাদের মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশে রয়েছে থার্স্ট সেন্টার বা পিপাসাকেন্দ্র।

(সজীব সাদিক: বিএএমএস-ঢাবি)

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com