আজ বৃহস্পতিবার, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ২৮শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী, শরৎকাল, সময়ঃ রাত ২:২৩ মিনিট | Bangla Font Converter | লাইভ ক্রিকেট

চিনির পরিবর্তে আমরা এসব কি খাচ্ছি? জানলে ভয়ে চমকে যাবেন

চিনির পরিবর্তে আমরা খাচ্ছি ম্যাগনেসিয়াম সালফেট। জানা গেছে, নিষিদ্ধ ঘন চিনি (সোডিয়াম সাইক্লামেট) হাজার হাজার টন আমদানি হয়ে দেশে ঢুকছে। সাইট্রিক অ্যাসিড নামে আমদানি হচ্ছে এই বিষ। দেয়া হচ্ছে, মিষ্টি, বেকারি আইটেম, আইসক্রিম, বেভারেজ, জুস, চকোলেট, কন্ডেন্সড মিল্ক প্রভৃতি মিষ্টি জাতীয় খাদ্য দ্রব্যে। চিনির চেয়ে প্রায় পঞ্চাশ গুণ বেশি মিষ্টি এই ঘন চিনি পৃথিবীর অনেক দেশেই নিষিদ্ধ। ক্যান্সার, কিডনি বিকল, হজম শক্তি হ্রাসসহ নানাবিধ জটিল রোগের সৃষ্টি করতে পারে এই চিনি। সাইট্রিক অ্যাসিডের মত দেখতে হুবহু এক রকম বলে অসাধু ব্যবসায়ীরা অতি সহজেই সাইট্রিক অ্যাসিড নামে ও কোডে ঘন চিনি আমদানি করছে।

সোডিয়াম সাইট্রেট দেখতেও ঘন চিনির মত দেখতে। সাইট্রিক অ্যাসিড এবং সোডিয়াম সাইট্রেট নামে আসছে নিষিদ্ধ বিষ ঘন চিনি। জানা গেছে, রাজধানীর মিটফোর্ডে দুই রকম ঘন চিনি বিক্রি হয়। একটা পিউর অন্যটা ভেজালমিশ্রিত। পিউর ঘন চিনি কেজি ২২০ টাকা আর ভেজাল ঘন চিনি ১৪০ টাকা কেজি। আবার ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সার দেখতে চিনির মত দানাদার, দাম কম। ১৫/২০ টাকা কেজি এবং স্বাদহীন। আবার ঘন চিনি এবং ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সার দেখতে একই রকম।

জানা গেছে, মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ঘন চিনি বা সোডিয়াম সাইক্লামেট। দাম কমাতে এর সঙ্গে মেশানো হয় বিষাক্ত সার ম্যাগনেসিয়াম সালফেট। এভাবে বিষের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে বানানো হয় ‘বিকল্প চিনি’। এই ‘বিকল্প চিনি’র এক কেজিতে ৫০ কেজি আসল চিনির কাজ হয়। এই ভেজাল ঘন চিনি দিয়ে তৈরি হচ্ছে মিষ্টি ও মিষ্টি জাতীয় দ্রব্য, চকোলেট, আইসক্রিম, কনডেন্সড মিল্ক, বেকারি ও বেভারেজ দ্রব্য। বিষ মেশানো এসব খাবার খেয়ে ক্যান্সার, কিডনি বিকল, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে দেশের মানুষ।

নিষিদ্ধ সত্ত্বেও গত কয়েক বছরে বিপুল পরিমাণ ঘন চিনি আমদানি দেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিষাক্ত চিনি দিয়ে বর্তমান বাজারে কী পরিমাণ মিষ্টি ও মিষ্টান্ন দ্রব্য তৈরি হচ্ছে তা ভাবতে গেলে গা শিউরে উঠবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দেখতে একই রকম হওয়ায় সাইট্রিক অ্যাসিড, সোডিয়াম সাইট্রেট ও ম্যাগনেসিয়াম সালফেটের নামে গত কয়েক বছরে হাজার হাজার টন ঘন চিনি বাংলাদেশে আমদানি করা হয়েছে। পরে এর সঙ্গে বিষাক্ত সার ম্যাগনেসিয়াম সালফেট মিশিয়ে সস্তা দামের বিকল্প চিনি বাজারজাত করছে রাজধানীর মিটফোর্ড ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত মাজার গেটকেন্দ্রিক কিছু ব্যবসায়ী।

চট্টগ্রামে বিনিয়োগ বোর্ডের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. মাহবুব কবীর ২০১৫ সালেই এই ভেজালের সন্ধান পান। তিনি বাজার থেকে ঘন চিনি কিনে রাজধানীর খামারবাড়ীতে মৃত্তিকা উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের গবেষণাগারে পরীক্ষা করে তাতে সোডিয়াম সাইক্লামেটের উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে তা জানান।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ঘন চিনি ভিন্ন ভিন্ন নামে দেদার আমদানি হচ্ছে। সাইট্রিক অ্যাসিড, সোডিয়াম সাইট্রেট ও ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ঘোষণা দিয়ে এসব ঘন চিনি আসছে। কারণ এই তিনটি পণ্য দেখতে হুবহু ঘন চিনির মতো, শুল্কহারও অনেক কম; কিন্তু স্বাদে পার্থক্য রয়েছে। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বেশি লাভের আশায় এসব পণ্য আমদানি হচ্ছে। এক ব্যবসায়ী জানান, দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি ওষুধ কোম্পানিতে এক বছরে সাইট্রিক এসিড প্রয়োজন হয় চার টনের মতো। আর শুধু দুই মাসে এই পরিমাণ সাইট্রিক এসিড আমদানির ঘটনা রহস্যজনক। এর বাইরে সোডিয়াম সাইক্লামেট ও ম্যাগনেসিয়াম সালফেট কী পরিমাণ আমদানি হচ্ছে তাও খতিয়ে দেখা উচিত।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গত এক বছরে কী পরিমাণ সাইট্রিক এসিড, সোডিয়াম সাইট্রেট ও ম্যাগনেসিয়াম সালফেট আমদানি হয়েছে তার তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়া যায়নি কাস্টম থেকে। তবে বাজার চিত্র বলছে, আমদানি নিষিদ্ধ হলেও হাত বাড়ালেই মিলছে ঘন চিনি এবং সার মিশ্রিত ঘন চিনি। জানা গেছে, এই ঘন চিনি ক্যান্সারসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। ১৯৬০ সালে যুক্তরাজ্য এবং ১৯৬৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র এর ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। বাংলাদেশে এ রাসায়নিক আমদানি নিষিদ্ধ। কিন্তু দেখতে একই রকম হওয়ায় সাইট্রিক এসিড, সোডিয়াম সাইট্রেট ও ম্যাগনেসিয়াম সালফেট নাম দিয়ে দেশে এ রাসায়নিক আমদানি হচ্ছে।

ঘন চিনি ব্যবহারের ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে মেডিসিন, কিডনি ও ডায়াবেটিস রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দীপন চৌধুরী বলেন, ‘স্বাস্থ্য ক্ষতিকারক বিধায় পৃথিবীর অনেক দেশ ঘন চিনি ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। এগুলো সরাসরি খাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। খাদ্যে মিশিয়ে ব্যবহার করা হলে প্রথমেই কিডনি আক্রান্ত হবে, এরপর উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে বেড়ে হৃদরোগের ঝুঁকি এবং পরে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।’ অভিজাত এক মিষ্টি ব্যবসায়ী জানান, দোকানে চিনির বদলে ঘন চিনি দেয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে খরচ সাশ্রয় করা। কারণ এক কেজি আসল ঘন চিনি দিয়ে যে পরিমাণ মিষ্টি তৈরি করা সম্ভব, ওই সমপরিমাণ মিষ্টি তৈরিতে লাগে ৫০ কেজি চিনি। অর্থাৎ দুই হাজার টাকার খরচ মাত্র ২৩০ টাকায় নেমে আসবে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com