শ্রী মোঃ একেশ্বর ।। অধরা হাসান

৩১৬ বার পঠিত

আজকাল বোধের বাজারে, আস্তিকতা -নাস্তিকতার ইস্যুটা চড়া মূল্যে সমস্ত ম্যাগাজিন, প্রিন্ট মিডিয়া কিংবা নিউজপেপার গুলোতে জায়গা করে নিয়েছে। আমার বড় হাসি পায় মূর্খামীদের বাকবিতণ্ডা শুনে। আমায় তোমরা কি বলবে হে! আমার বিশেষ কোন ধর্ম নেই, কিন্তু আমি একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী। সে হতে পারে আল্লাহ্‌, ঈশ্বর, ভগবান কিংবা যিশুখ্রিস্ট। আমি সিঁদুর পড়ি স্বাচ্ছন্দ্যে। আমি গরু খাইনা। তবে মা বা দেবতা ভেবে নয়। রেড মিটে এরলার্জি আছে। আমি হিঁদুর রক্ত শরীরে বয়ে চলি অত্যন্ত জখমের পর।

বৌদ্ধ আমার গানের সাথী। মৌ বড়ুয়া আর আমি তানপুরা বাজাই পাশাপাশি বসে। কিংবা আমি হারমোনিয়াম হলে মৌ বড়ুয়া তবলার ধা-ধী-না, না-তী-না বোল। আবার “দেশকারনট রাগেও” আমরা একত্রে কণ্ঠ দেই বাবার সুরে। বাবা বলে ওঠেন- বাহ! আমার সুরের সাধনা পূ্র্ণ হয়ে ওঠে তোরা এগুচ্ছিস দেখলে। এখন আমরা অন্বেষা ক্লাসিক্যাল মিউজিক রিসার্চ সেন্টারের লেভেল সিক্সে। ছোট শিশুদের ক্লাস নেই। খেয়াল- রাগের ক্লাস। পরের ধাপ কোথায় বলতেই বাবা মাথায় হাত রাখেন।

খ্রিস্টান রা আমায় ভূমিকম্পে ধসে যাওয়া পিলারের তল থেকে টেনে বের করেছিল। আমার হাত-পা জুড়ে দিতে কি নিরালস্য প্রচেষ্টা ছিল ওদের! এম্বুলেন্স! ইমার্জেন্সি!

আবার আমি নামাজে ঠিক বিশ্বাসী নই।
আজানেও নই। রোজাতেও নই। পূজোতেও নই।

বড়দিনের উৎসব আমাকে আনন্দ দেয়। ওদিন বড় কেক কাটা হয় যে! চার্চে থাকেন বৃদ্ধ ফাদার-মাদার। বৃদ্ধদের আমার সবসময় ভালো লাগে। ওনারা বক্ষমর্মে থাকেন আমার। থাকেন আশীর্বাদক হিসেবে। বৃদ্ধদের উপস্থিতি সেদিন বেশী লক্ষণিয়। এটা ভালো দিক বড়দিনের। আমার ঈদ উল আযহা কে জঘন্য লাগে। আমি নাক-চোখ-মুখ বন্ধ করে বাঁচি ওসব রক্তিম আড়ম্বরে। আর ঈদ উল ফিতর কে মনে হয় দিনশেষে হাড়িপাতিল খেলে বিকেলের পুতুল পুতুল খেলা। তবে এ দু’উৎসবেই আমার পায়েশ খেতে ভালো লাগে।

আমি অন্যান্য ধর্ম বিশেষ জানিনা তবে খুনখারাপি, অন্যায়, যুদ্ধ, হিংস্রতা, মিথ্যা আমার কোনকালেই পছন্দ নয়। এসব বুঝি সব একই ধর্মেরঢাক”! অতো জানানেই আমার। আমি বিপদে, অস্বস্থিতে কিংবা কষ্ট দিশেহারা মুহূর্তে আমার একেশ্বর আল্লাহ্‌ বা ভগবান কে ডেকে শান্তি পাই। হয়তো হ্যালুসিনেশন ওইটে।

আমি ভালো ধুনুচি নাচ পারি। নাচাতেও পারি ঢের। ঢাঁকের তালে। আমার সুখবোধ হয় ধুনুচি নাচে। ধূপের গন্ধে। প্রসাদের মিষ্টি শুভ্রতায়। আমি গলার চেনে যিশুখ্রিস্টকে পেন্ডেন্ট করে রাখি। আমার হিঁদু ধর্মের সাঁত পাক ভালো লাগে, আগুন সামনে রেখে শুভ পরিণয় ইন্টারেস্টিং। আমায় ওদের পরিণয় প্রথাটা খুব আনন্দ দেয়। খুউউব।

জানো কুমু আমি যদি ছেলে হতাম হিঁদুর মেয়ে করতেম। উফফফ! সিঁদুর পড়ে তানপুরা হাতে একটি নারী গান গাইবে আমি তার কণ্ঠে চুমু খাবো সহসা। সিঁদুর পড়লেই নারীকে আমার অসাধারণ ভয়ানক সুন্দর মানবী বলে মনে হয়। এমনকি নিজেকেও। চোখ এবং শরীর ঝলসে ওঠে। কিন্তু আমি নারী বলে কোন হিঁদুর ছেলে বিয়ে করবো না। এটা কিছু লিঙ্গগত অসুবিধের কারণে। হিঁদুর সনাতন পুরুষগুলোকে বরাবর কেমন ভুঁড়িবাদী দেখে এসেছি। অসচেতন স্বাস্থ্য নিয়ে। আর নারীরা ঠিক তার অপজিট। স্নান সেরে সে পরম দেবী হয়ে ওঠে। সিঁদুর ছুঁইয়ে কপালে।

গ্রীক পুরাণ বা মাইথোলজি পড়তে আমার সবসময় আগ্রহ। ভীষণ ভালো লাগে ওদের রহস্য ভেদ করতে। দেব-দেবতার কল্পকথা শুনে আমি ওদের উড্ডয়ন চিন্তায় স্মরণ করি। আমার ভালোই লাগে। কারণ দেবতারা সবসময় দুর্লভ। তাকে পেতে নেই। অনুভব করে যেতে আছে কেবল শৃঙ্গে। বৌদ্ধ মন্দিরে গেলে আমার খুব সুখ হয়। কেমন নির্মলতা ওখানে। আমার বুদ্ধুকে মনে পড়ে। গৌতম বুদ্ধু! কি স্থিরতা আর প্রশান্তচিত্ত খেলা করে বুদ্ধুতে। আমাকে ঘিরে থাকে অজস্র প্রদীপশিখা। মাটিরপাত্র।

আচ্ছা, আমি কোন ধর্মের! তোমরা জানো আমার ধর্মের নাম!? আমি মানুষের বাহিরে কোথাও ধর্ম খুঁজে পাইনি। স্বর্গ -নরক- ঈশ্বর সকল কিছুই ওই একটি শব্দে খুঁজে পেয়েছিলেম। স্বার্থ নয়, হত্যা নয়, ক্রুদ্ধতা নয় শুধু “মানুষ”। আমি কি মুসলিম!? আমি কি অমুসলিম!? আমি কি হিঁদু? বৌদ্ধ? না খ্রিষ্টান!? আমার একেশ্বর কে আল্লাহ্‌? ভগবান? যিশুখ্রিস্ট?

কে! কে! কে!

কে আমার ঈশ্বর!
মানুষের বাহিরে কে আমার ঈশ্বর!

————

২৯০৪১৭
ঢাকা।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com