দেওয়ানবাগী ও পীরবাবাদের রমরমা ব্যবসা

১৩৪ বার পঠিত
আবদুর রহিম # ‘বাংলাদেশের দেওয়ানবাগী পীর এখন হাসপাতালে। যে পীর মানুষের রোগ সারানোর জন্য পানি পড়া দিতেন, যেন কাউকে হাসপাতালে না যেতে হয়, সেই তিনিই আজ হাসপাতালে। কেউ কি এখন তাঁকে তাঁর নিজের ‘পানি পড়া’ খেয়ে সুস্থ হওয়ার উপদেশ দিচ্ছে না? রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এমনই একটি মন্তব্য করেন নির্বাসিতা লেখিকা তাসলিমা নাসরিন।

তিনি আরো লেখেন, ‘আমার মা ছিলেন নওমহলের এক পীরের মুরিদ। কী করে সেই পীর যে মা’র মগজধোলাই করেছিলেন! সেই পীর যা বলতেন, মা সব বিশ্বাস করতেন। একবার পীর বললেন, তিনি মা’কে এবং তাঁর আরও কয়েকজন মুরিদকে উড়িয়ে নিয়ে যাবেন মক্কায়। হ্যাঁ উড়িয়ে, মা’রা কার্পেটের ওপর বসে থাকবেন, কার্পেটই নিজে নিজে উড়ে যাবে পবিত্র শহরটিতে। মা তো রীতিমত সুটকেস গুছিয়ে রেখেছিলেন। বাস্তববাদী মানুষও কী করে অমন অবাস্তব ব্যাপার বিশ্বাস করতে পারেন আমি জানি না।’

তিনি লেখেন, শুধু কি উপমহাদেশে? মনে আছে আমেরিকার পীর জিম জোন্সের কথা, ১৯৭৮ সালে গায়ানার জোন্সটাউনে ৯০৯ জন ভক্তকে বললেন বিষ খেতে, সকলে চুপচাপ বিষ খেয়ে মরে গিয়েছিল, শুধু তাই নয়, নিজেদের শিশু সন্তানের মুখেও নিজের হাতে বিষ ঢেলে দিয়েছিল? বিশ্বাস এমনই ভয়ঙ্কর। ১৯৯৭ সালেও ক্যালিফোর্নিয়ায় ৩৯ জন মানুষ তাদের খ্রিস্টান পীরের আদেশে আত্মহত্যা করেছিলো, বিশ্বাস ছিল মরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ইউএফওতে চড়ে স্বর্গে যাবে।

বাংলাদেশের সব পীরকে ভণ্ড মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে কয়েক হাজার পীর। পীর না বলে এদের প্রতারক বলা উচিত। তাবিজ, পাথর, ঝাড়ফুঁক, ‘জিন’ দিয়ে সব রকম অসুখ সারানোর গ্যারিন্টি দেয় এরা। কত লক্ষ মানুষ যে এদের প্রতারণার শিকার! সরকার কি নিরীহ নিরাপরাধ মানুষদের এই পীর ফকির সাধু সন্ন্যাসী বাবা মাতাদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেন না? দেশের সরকার ধর্মের সমালোচনা করলে শাস্তি দেয়। মুক্তচিন্তকদের পিঠে চাবুক চালায়। চারদিকে ধর্মের গুণগান। খুব স্বাভাবিকভাবেই ধর্মে বিশ্বাস আসে মানুষের। ধর্ম যত বাড়ে, পীর বাবাও তত বাড়ে। মুক্তচিন্তার, যুক্তিবুদ্ধির কদর যে অঞ্চলে নেই, সে অঞ্চলে প্রতারকদের পোয়াবারো।পীর বাবায় ছেয়ে যায় গ্রামগঞ্জ, শহর বন্দর। তাদের প্রতারণার শিকার হতে থাকে সাধারণ মানুষ। উচ্চশিক্ষিত, ক্ষমতাশালী, বিত্তশালীরাও জড়ো হতে থাকে পীর বাবাদের পায়ে। এত বড় বড় লোকের ভক্তি দেখে পীর বাবাদের ওপর সাধারণ মানুষের বিশ্বাস গভীর থেকে গভীরতর হয়।

পীর নিয়ে তাসলিমা নাসরিন তার ফেসবুকে এমন মন্তব্য করার পর তার টাইমলাইনে আসতে থাকে সচেতন মহল থেকে বহু কমেন্টস । যমুনা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পাঠকদের জন্য উল্লেখযোগ্য কিছু কমেন্টস তুলে ধরা হলো। সজিব দেব লেখেন, ‘ঢাকার ফার্মেগেটে কুতুববাগী পীর, রাজারবাগে রাজারবাগী পীর, আমাদের জেলায় আটরশির পীরসহ হাজার হাজার পীর ছড়িয়ে আছে। তবে বাংলাদেশে ভারতের মতো বড়মাপের(?) বাবা না থাকলেও খুচরা অনেক বাবাই আছে। বিশ্বাসকে পুঁজি করে এই লোভনীয় ব্যবসা বন্ধ হওয়া জরুরি!’

পাপ্পন দাস লেখেন, ‘গেল ৯ ফেব্রুয়ারি আমাদের অঞ্চলের সবক’টা কাগজে বার্ষিক উরুষ উপলক্ষে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশিত হল। শিরোনাম ‘টান্টুর পীর’ নামক কারুর আশপাশ ঘিরে। ইনি নাকি আধ্যাতিকতার মূর্ত প্রতীক ছিলেন। সেই ধান্ধাবাজের নাম ছিল মওলানা আব্দুল আজিজ চৌধুরী। আজ থেকে ৩৩ বছর আগে তার মৃত্যু(?)(মহাপ্রয়াণ) ঘটেছে। আর এত বছর পরও নাকি টান্টু জ্বলজ্বল করে চলেছে। ভাবতে অবাক লাগে,আজও মানুষ এসব মানছে। এদের দরগায় গিয়ে হাজিরা দেয়। ‘ সুজন আরাফাত বলেন, ‘ভীষন অবাক লাগে এদের বিজ্ঞাপন টিভি চ্যানেলে প্রচার হতে দেখলে।একটা আধুনিক প্রচার মাধ্যমে কি করে কেউ এমন পশ্চাৎপদ পীরদের বিজ্ঞাপন প্রচার করার অনুমতি দিতে পারে! মানুষ কবে যে বাস্তবসম্মত ভাবে ভাবতে শিখবে!’

প্রবির কুমার লেখেন, ধর্ম-ব্যবসা-প্রতারণা বিষয়গুলো এক সূত্রে গাঁথা। বোকা মানুষগুলো আলো দেখে জানালা বন্ধ করে দেয়, অন্ধকারেই ওদের সুখ!
তানভীর ইসলাম লেখেন, ‘পীর বাবা ১০০% ভন্ড প্রতারক! তাদের কোন অলৌকিক ক্ষমতা নেই , এই নশ্বর পৃথিবীতে সকল কিছুই প্রকৃতির নিজস্ব আবর্তে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। মানুষের ঐশ্বরিক ক্ষমতা নেই।’ সরিতা আহমেদ লিখেছেন, ‘অসাধারণ লেখা। বিশ্বাসের বড়ি গিলিয়ে পীর-বাবাদের রমরমা ব্যবসা সারা পৃথিবী জুড়েই।’

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com