ছেলেটা একজন ইসলামী জঙ্গি ছিল।

৬৩ বার পঠিত

সেদিনের পুলিশের অভিযানে গুলি খেয়ে মরেছে। ভেবেছিল মরলে স্বর্গে গিয়ে অনেক হুর পাবে। এখন লাশকাটা ঘরে হা করে পরে আছে। শরীরেও নিশ্চয়ই পচন ধরেছে। পরিবার পরিজনও নিশ্চয়ই লাশটা দেখতেও আসে নি।

মাঝে মাঝে সে নাস্তিকদের লেখাতে চোখ বুলাতো। ভালভাবে পড়তো না, পাছে সেও নাস্তিক হয়ে যায়! মনে মনে ভয় পেতো নাস্তিকদের লেখা। কালো কালো অক্ষর, কী ভয়াবহ তার ক্ষমতা! চাপাতি অস্ত্র বোমার চাইতেও তার ভয় লাগতো ঐসব লেখাগুলো। যুক্তি, তর্ক, সন্দেহ, জিজ্ঞাসা, প্রশ্ন, মেনে না নেয়া! ভাবতো, এরকম লেখা পড়লে অনেক মুসলমানই নাস্তিক হয়ে যেতে পারে। ধর্মে বিশ্বাস হারাতে পারে। যেই বিশ্বাস তার হাতে অস্ত্র আর চাপাতি তুলে দিয়েছে, জবাই করতে শিখিয়েছে, সেই বিশ্বাসটা ভেঙ্গেচুরে চুরমার করে দিতে পারে। খুব ভয় পেতো ছেলেটা। এই বুঝি তার বিশ্বাসটা ভেঙ্গে গেল। এই বুঝি নাস্তিকদের লেখা বেশি পড়ে মাথার তাড় ছিড়ে গেল! মানুষ কুপিয়ে মারার ধর্মটি সম্পর্কে অবিশ্বাস সৃষ্টি হলো।

asif

আমার দুর্ভাগ্য। ছেলেটার সাথে পরিচয় ছিল না। পরিচয় থাকলে একদিন অনেক কথা বলতাম। অনেক আলাপ করতাম। প্রয়োজনে সারাদিন বসে কথা বলতাম। একজন মানুষের জীবন আমার সময়ের থেকে অনেক দামী। কিন্তু অনেক সময় অলসতা, বিরক্তি, বদমেজাজের কারণে অনেকের মেসেজের উত্তর দিই না, কথাও বলি না। কাজগুলো ঠিক করি না। তার সাথে একদিন কথা বলা উচিত ছিল আমার। অন্তত চেষ্টা করে দেখা যেতো। তার মগজ থেকে টেনে বের করে ফেলার চেষ্টা করা যেতো চোদ্দশো বছরের পুরনো দুর্গন্ধযুক্ত আবর্জনাগুলো। যেগুলো জবাই করতে শেখায়। মানুষ মারতে শেখায়।

সেটা করতে পারলে আজকে ছেলেটা বেঁচেও থাকতে পারতো। কী দুর্ভাগ্য!

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সুব্রত দেব নাথ

সিনিয়র নিউজরুম এডিটর

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com