সালমান শাহকে হত্যা করতে ১২ লাখ টাকার চুক্তি (ভিডিও সহ)

১১৮ বার পঠিত

কিংবদন্তি নায়ক সালমান শাহকে হত্যা করতে ১২ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল বলে এক আসামী তার জবানবন্দিতে বলেছিলেন। সময় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সালমান শাহ হত্যার বেশকিছু রহস্য। বাংলা সিনেমার একসময়কার তুমুল জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন নাকি তাঁকে খুন করা হয়েছিল—২০ বছরেও পুরোপুরি মীমাংসা হয়নি এ প্রশ্নের। চার দফা তদন্ত এ প্রশ্নের সর্বজনগ্রাহ্য উত্তর দিতে পারেনি।

যদিও ২১ বছর পর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মামলার অনেক কাগজপত্র। বারবার নারাজি দেয়ার পরও তদন্ত বা মামলা পরিচালনায় গুরুত্ব পায়নি চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র মৃত্যুর ঘটনা। এমনকি আদালতে হত্যার সঙ্গে জড়িত রিজভী স্বীকারোক্তি দেয়ার পরও কোন আসামিকে গ্রেফতার বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। বরং তদন্তে গাফেলতির কারণে বেশিরভাগ আসামিই রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর নিউ ইস্কাটন গার্ডেন এলাকায় ভাড়া বাসায় পাওয়া যায় অভিনেতা সালমান শাহর লাশ। সময় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার আসামি রিজভী ১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে বলে, ‘সালমানকে হত্যা করতে সামিরার মা লাতিফা হক ডন, ডেভিড, ফারুক, জাভেদের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তি করেন। উল্লেখ করা হয়, সালমানকে শেষ করতে কাজের আগে ৬ লাখ ও কাজের পরে ৬ লাখ দেয়া হবে।’

হত্যার ঘটনা সম্পর্কে আসামি রিজভি জানায়, সালমানকে ঘুমাতে দেখে তার ওপর ঝাপিয়ে পড়ে, ফারুক পকেট থেকে ক্লোরোফোমের শিশি বের করে এবং সামিরা তা রুমালে দিয়ে সালমানের নাকে চেপে ধরে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মামলার তিন নম্বর আসামি আজিজ মোহাম্মদ এসে সালমানের পা বাধে এবং খালি ইনজেকশন পুশ করে। এতে সামিরার মা ও সামিরা সহায়তা করে। পরে ড্রেসিং রুমে থাকা মই নিয়ে এসে, ডনের সঙ্গে আগে থেকেই নিয়ে আসা প্লাস্টিকের দড়ি আজিজ মোহাম্মদ ভাই সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলায়।

এছাড়া জবানবন্দিতে ডন, ডেভিড, ফারুক, জাভেদ ও আসামি রিজভি ছাড়াও ছাত্তার ও সাজু নামে আরো দু’জনের নাম উল্লেখ করা হয়। কিন্ত প্রত্যক্ষ আসামির এই জবানবন্দির পরও যাদের নাম পাওয়া যায় তারা সবসময়ই ছিলো ধরাছোঁয়ার বাইরে। হত্যার এক বছর পর সিআইডির রিপোর্টে বলা হয়- এটি আত্মহত্যা। ১২ বছর পর দেয়া জুডিশিয়াল ইনকোয়ারির রিপোর্টে একই কারণ দেখানো হয়। কিন্তু কোন আসামি বা সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের কোন অস্তিত্ব নেই রিপোর্টগুলোতে। দু’বারই নারাজি দেন সালমানের পরিবার।

২০১৫ সালে র‌্যাবকে এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হলে আইনী জটিলতায় তাও বন্ধ থাকে। ২০১৬ সালে মামলাটি নিম্ম আদালতে পাঠানো হলে তদন্তভার দেয়া হয় পুলিশ পিবিআইকে। এদিকে সালমানকে হত্যার পরিকল্পনা জানার বিষয়টি যে আগে থেকেই রুবি জানতেন তা বোঝা যায় রিজভির জবানবন্দিতে। হত্যার আগে রুবির বাসায় যান হত্যাকারীরা।

প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যু নাকি হত্যা সে ঘটনা নিয়ে আমেরিকা থেকে প্রবাসী রাবেয়া সুলতানা রুবি ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে আলোচনার ঝড় তুলেছেন। এ ঘটনায় ফের নতুন করে তার রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া। রুবি সালমান শাহ’র স্ত্রী সামিরার মামী।

সময় টেলিভিশনের ভিডিওটি দেখুন…

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com