কানাডার টরেন্টোয় বাংলাদেশি তরুণের করুণ মৃত্যু

৯৭ বার পঠিত

কানাডার টরেন্টোয় অমিত নামে বাংলাদেশি তরুণের অকাল মৃত্যু হয়েছে। গত ১ মার্চ হঠাৎ করেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিশ্রুতিশীল এই তরুণের মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে স্ত্রী মৌরি আর মাত্র এক বছরে পা দেওয়া ছেলে অনীশকে রেখে গেছেন তিনি। অমিতের মৃত্যু সম্পর্কে কানাডা প্রবাসী আরেফিন সামাদ খান জানান, কয়েকদিন ধরেই অমিত বুকে একটু ব্যথা অনুভব করতো। ২৭ ফেব্রুয়ারি ব্যথাটা বেড়ে গেলে অমিত টরন্টোর ইস্ট ইয়র্ক জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যায়। ঠিক হৃদপিণ্ডের পাশেই ব্যথা। রক্তচাপ মেপে দেখা গেলো ১১০-১৫০। কাজেই ভয়ের কিছু ব্যাপার আছে জেনে অমিতকে আগেভাগেই ভিতরে পাঠানো হলো। কিন্তু এটাতো মাত্র একটি ধাপ। যথারীতি অমিতকে ঘণ্টাখানেকের মতো বসতে হোল ডিউটি ডাক্তারকে দেখানোর জন্য। ডিউটি ডাক্তার করতে দিল ইসিজি। আবারো সেই ঘণ্টা খানেকের জন্য বসে থাকা। অবশেষে রিপোর্ট আসার পর ডাক্তার বললেন উচ্চ রক্তচাপ। হৃদপিণ্ডে কিছু অনিয়ম ধরা পড়লেও উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

আরেফিন সামাদ জানান, অমিতের যেহেতু এর আগে তেমন শারীরিক সমস্যা হয়নি, তাই তার কোন ফ্যামিলি ডাক্তারও ছিলো না। ডিউটি ডাক্তারকে এটা বলার পর তিনি জরুরি বিভাগে পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেন। হাসপাতালে বেশিক্ষণ থাকতে ভালো না লাগায়, অমিত সেদিন চলে আসে বাসায়। পরদিন অমিতের একটু জ্বর আসে। কিন্তু আবার চলেও যায়। অমিত আর তার স্ত্রী মিলে জরুরি বিভাগে যাওয়ার জন্য মনস্থির করে। কিন্তু অমিতের পরদিন একটা পরীক্ষা ছিলো। পরীক্ষার আগের দিন ৪-৫ ঘন্টা জরুরি বিভাগে বসে থাকতে চায়নি সে। ঠিক করলো পরীক্ষা দিয়েই আবার জরুরি বিভাগে যাবে।

কিন্তু গত ১ মার্চ অন্যান্য দিনের মতই অমিত বাসাতেই পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত ছিল। সন্ধ্যার পর নিজের ২০ তলার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ৫ তলার এক ছোট ভাই অর্ণবের অ্যাপার্টমেন্টে গল্প করতে আসে অমিত। দুজনে বারান্দায় গল্প করছিল। হঠাৎ করেই অর্ণবের মনে হয় অমিত রেলিংয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে টলোমলো পায়ে। মনে হচ্ছে হয়তো পড়েই যাবে। গিয়ে ধরতে ধরতেই অমিত পড়ে যায় মাটিতে। মুখ থেকে ফেনা ওঠা শুরু করে। অর্ণব সাথে সাথেই কল করে ৯১১-এ।

১৫ মিনিটের মধ্যে চলে আসে প্যারামেডিক-এর টিম। চেষ্টা চালায় সব দিয়ে। এরপর হাসপাতালে নিয়ে যায় অমিতকে। তখন বাজে রাত ১১টা। সব কিছু পরীক্ষা করে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। ব্যক্তিজীবনে মেধাবী ছেলে ছিলো অমিত। ২০০৮ সালে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পাশ করে বের হবার সাথে সাথেই চাকরি হয়ে যায় ইউনিলিভার বাংলাদেশে। নিজের যোগ্যতায় ক্রমাগত প্রমোশন পেয়ে ২০১৪ সালে ইউনিলিভার এর টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন-এর ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব নেয় অমিত।

কর্পোরেটে সাবলীল ক্যারিয়ার থাকলেও অমিতের বরাবরই ইচ্ছা ছিলো নিজের স্বপ্নের বিষয় নিয়ে পড়ার। মেকানিক্যাল, রোবটিক্স, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বিষয়গুলো ওকে খুব টানতো। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের চাকরি ছেড়ে দিয়ে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে অভিবাসী হয়ে অমিত চলে আসে টরন্টোতে। আসার পরই অমিত পেয়ে গেলো তার স্বপ্নের সাবজেক্ট মেকাট্রনিক্স, ভর্তি হল রায়ারসন ইউনিভার্সিটিতে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com