নন্দীগ্রামে ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জনপ্রিয়তায় এগিয়ে

এই সংবাদ ৫৪ বার পঠিত

এম নজরুল ইসলাম, নন্দীগ্রাম(বগুড়া)# বগুড়ার নন্দীগ্রামে আগামী ৭ই মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। এউপজেলায় ইউপি নির্বাচনে সহিংসতার আশংকা করছেন ভোটাররা। প্রার্থীরা দলীয়, প্রভাবশালী ও নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি গণসংযোগে বাঁধা দেয়া নিয়ে উপজেলার দুটি ইউনিয়নে কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, মারপিট, মোটরসাইকেল ভাংচুর ও হুমকি দেয়ার ঘটনায় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ২৩৭জনের বিরুদ্ধে থানায় পৃথক ৩টি মামলা দায়ের ও বেশকটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। নির্বাচনে ভোটাররা সহিংসার আশংকা করছেন। তবে পুলিশ বলছে, সকল ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও সহিংসতা ঠেকাতে কঠোর থাকবে প্রশাসন।

নির্বাচন অফিস সূত্র জানিয়েছে, ইউপি নির্বাচনে নন্দীগ্রাম উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ২৮জন, সাধারন সদস্য প্রার্থী ১৭৪জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যা পদে ৭১জন প্রার্থী ভোট যুদ্ধে মাঠে নেমেছেন। এদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ১নং বুড়ইল ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ মনোনীত আশরাফ আলী(নৌকা), বিএনপি মনোনীত গোলাম রব্বানী(ধানের শীষ), সতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মালেক(চশমা), রুহুল আমিন হিমেল(টেলিফোন), আলহাজ্ব আজাহারুল ইসলাম(আনারস), নূর মোহাম্মদ(মোটর সাইকেল), আফজাল হোসেন(ঘৌড়া), সাধারন সদস্য পদে ৩৯জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্যা পদে ১৯জন। 

২নং সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে বিএনপি মনোনীত প্রভাষক আব্দুল বারী বারেক(ধানের শীষ), আওয়ামীলীগ মনোনীত সোহেল রানা সোহাগ(নৌকা), সতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম কামাল(আনারস) ও সাধারন সদস্য পদে ৩১জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্যা পদে ১১জন। ৩নং ভাটরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের মোরশেদুল বারী (নৌকা), বিএনপির তৌফিকুল ইসলাম রানা(ধানের শীষ), সতন্ত্র প্রার্থী তীর্থ সলিল রুদ্র (মোটর সাইকেল), গোলাম সারওয়ার (আনারস), জাকের পার্টি নেতা ইসাহাক আলী সরদার(গোলাপ ফুল) ও সাধারন সদস্য পদে ৩৫জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্যা পদে ৯জন।

৪নং থালতা মাজগ্রাম ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের আফছার আলী (নৌকা), বিএনপির এ্যাড. ইলিয়াছ আলী (ধানের শীষ), সতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মতিন (আনারস), আব্দুল মজিদ (চশমা), ফেরদৌস আলী (মোটর সাইকেল) ও সাধারন সদস্য পদে ৪০জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্যা পদে ১৬জন। ৫নং ভাটগ্রাম ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির আলহাজ্ব শামছুর রহমান(ধানের শীষ), আওয়ামীলীগের জুলফিকার আলী ফোক্কার(নৌকা), সতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ(চশমা), গোলাম মোস্তফা(মোটর সাইকেল), রফিকুল ইসলাম(টেবিল ফ্যান), আব্দুস ছাত্তার(অটো রিক্সা), ইফতেখারুল আলম(ঘৌড়া) ও জামায়াত নেতা আনোয়ারুল হক(আনারস) প্রতীক ও সাধারন সদস্য পদে ২৯জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্যা পদে ১৬জন প্রার্থী প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন।

এউপজেলায় ইউপি নির্বাচনে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থী নেই। নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীরা ভোটারদের সাথে মতবিনিময়, উঠান বৈঠক, ফেসবুকে, টইটে জমজমাট প্রচারণা, গনসংযোগসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রার্থীরা নিজেদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অব্যহত রেখেছেন। সকল প্রার্থীরা এখন প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। প্রতিটি ইউনিয়নের সর্বত্রই এখন ভোটের হিসাব নিকাশ। কে হবেন ইউনিয়নের উন্নয়নমূখী, সুখে দুখে সবসময় যাকে পাশে পাবেন, তাকেই নির্বাচিত করতে চান ভোটাররা। সর্বত্রই ভোটারদের মাঝে নির্বাচনী আমেজ লক্ষ্যনীয়। এউপজেলার ৫টি ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রচারণায় বেশ এগিয়ে। রাজনৈতিক দল থেকে মনোনীত প্রার্থীরা প্রচারণায় তেমন একটা এগিয়ে যেতে পারেননি। ভোটারদের মুখে মূলক স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই জনপ্রিয়তায় এগিয়ে। সামনে নির্বাচন, ভোটাররা স্বপ্ন দেখছেন ইউনিয়নের অবহেলিত উন্নয়ন এগিয়ে নিতে হওতোবা সমাধান এসেছে। যাকে দিয়ে হবে অবহেলিত এলাকার উন্নয়ন, তাকেই ভোট দিতে চান ভোটাররা। প্রার্থীরা যেভাবে বাড়ি বাড়ি এসে ভোটারদের খোজ খবর নিচ্ছেন, ঠিক সেভাবেই যেনো সবসময় পাশে থাকেন তারা।

এদিকে, গত ১৬এপ্রিল গনসংযোগে বাঁধা দেয়াকে কেন্দ্র করে ৩নং ভাটরা ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মোরশেদুল বারী ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী তীর্থ সলিল রুদ্রর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত ফেস্টুন ভাংচুর, কর্মী সমর্থকদের মোটরসাইকেল ভাংচুরের ঘটনায় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ২৩৭জনের বিরুদ্ধে থানায় পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পৃথক পৃথক ঘটনায় অন্তত ১২জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ৫নং ভাটগ্রাম ইউনিয়নে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রাথী গোলাম মোস্তফার কর্মীদের পথরোধ, মারপিট, হুমকি, ১নং বুড়ইল ও ২নং সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভোটারদের মামলা-হামলার হুমকি দেয়ার একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনার পর থেকেই উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের ভোটাররা সহিংসতার শঙ্কা করছেন। ভোটারদের ভাষ্য মতে, ভাটরা ইউনিয়নের পন্ডিতপুকুর বাজার, ভাগবজর, বুড়ইল ইউনিয়নের মুরাদপুর, বীরপলী, সিংজানী, নুন্দহ, পেংহাজারকি, ধুন্দার ও ভাটগ্রাম ইউনিয়নের বীজরুল ও কুন্দারহাট এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটনার শঙ্কা রয়েছে।

এপ্রসঙ্গে থানার ওসি হাসান শামীম ইকবাল বলেন, সকল ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ও সহিংসতা ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে থাকবে প্রশাসন। আগামী ৭ই মে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠভাবে নিরপেক্ষ ভোটগ্রহন সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি জানান, নির্বাচনকে ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে থানা প্রশাসনের পথসভা অব্যহত।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্টাফ রিপোর্টার

Bogra Offce

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com