মহিউদ্দিন সরকার

পুলিশের ডাকে সাড়া দিলেই বিপদ

২৮৮ বার পঠিত

কেউ যদি পুলিশে তথ্য দিয়েই থাকে, তাহলে তথ্যদাতার নাম প্রকাশ হবে কেন ?
কেউ হয়েছে হত্যাকান্ডের শিকার, কেউবা এলাকাছাড়া

সামাজিক দ্বায়বদ্ধতা থেকে সুষ্ঠ সমাজ বিনির্মানে এগিয়ে যাওয়া বা সমাজের অবহেলিত বঞ্চিতদের পাশে থাকার প্রত্যয় নিয়ে পথচলা অনেক কঠিন। পৃথিবী এখন বিজ্ঞানের, প্রযুক্তির, স্যাটেলাইটের, নতুন বিশ্বের শ্লোগানে, গেøাবালের অত্বল গহরে। আমাদের চারিদিকে অশান্তি, অন্যায়, অরাজকতা, ভারসাম্যহীনতা, অস্বস্তি ও অস্থিতিশীলতা। তবুও সুষ্ঠ সমাজ বির্নিমানে সমাজের হাতেগোনা দু-একজন সামাজিক দ্বায়বদ্ধতায় কাজ করতে চায়। আমাদের সমাজে প্রধান সমস্যা ’মাদক’। এই মাদক থেকেই সমাজে খুন, চুরি, ডাকাতি সহ ছোটবড় অপরাধের সৃষ্টি হয়। মাদকের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিরোধ বা সচেতন ব্যক্তিরা সফল হতে পেরেছে কিনা’ আজতক পর্যন্ত শুনলাম না। যারাই অপরাধ বা অপরাধীদের তথা মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তারাই বিপদগ্রস্ত। কেউ হয়েছে হত্যাকান্ডের শিকার, কেউবা এলাকাছাড়া। স¤প্রতি জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে দেখলাম ময়মনসিংহে পুলিশকে মাদকের তথ্য দেয়ায় শিবলু নামের এক ছাত্রনেতাকে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। দেশের প্রতিটি জেলাতেই এধরনের ছোটবড় ঘটনা ঘটেই চলেছে। আমার প্রশ্ন, কেউ যদি আইনশৃঙ্খলা বাহীনিকে অপরাধের তথ্য দেয়, সেই তথ্যদাতার পরিচয় অপরাধীরা জানে কীভাবে ? পুলিশ সহযোগীতা চায়, কিন্তু সাধারন মানুষ পুলিশের উপর আস্থা রাখতে ভয় করে।

 

গুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার স্থানীয় দুই সাংবাদিক প্রায় ছয়মাস ধরে এলাকাছাড়া। কিন্তু কেন ? অপরাধও অপরাধীদের তথ্য দেয়ায় পর তথ্যদাতা হিসেবে দুই সাংবাদিকের নাম প্রকাশ করে পুলিশের দুই কর্মকর্তা। সেইসাথে অপরাধীদের সাথে পুলিশ কর্মকর্তার ফোন থেকে কৌশলে কথা বলিয়ে অডিও রেকর্ড করে এবং ওই দুই সাংবাদিককে অডিও’র ভয় দেখিয়ে কোথাও কোনো অভিযোগ করতে নিষেধও করেছে। পুলিশের নাটকের ফাঁদে পড়ে মাদক সিন্ডিকেটের লেংড়া হানিফ, রুবেল, মোকলেছ, মান্নান, সালামসহ অর্ধশত সন্ত্রাসীদের উৎপাতে জীবনের নিরাপত্তা না পেয়ে এলাকাছাড়া রয়েছেন দৈনিক ভোরের ডাক নন্দীগ্রাম উপজেলা প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম ও দেশ টুয়েন্টিফোরের ফটো সাংবাদিক মোস্তফা কামাল। তাদের পরিবারের লোকজন এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে। সন্ত্রাসীরা প্রতিনিয়ত তাদের পরিবারে হুমকি ধামকি অব্যহত রেখেছে। অধিক নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে সাংবাদিক নজরুল ইসলামের পরিবার। বিষয়টি পুলিশ ও র‌্যাবের উর্ধতন কর্মকর্তাদের লিখিত-মৌখিকভাবে অবহিত করা হলেও কোনো সুফল মেলেনি। এবিষয়ে গত ৫অক্টোবর নন্দীগ্রাম থানায় (জিডি নং- ৭০২/১৬) করা হয়েছে। এছাড়া বগুড়া র‌্যাব-১২ এর কোম্পানি কমান্ডারের কাছে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ করেছে। এনিয়ে বিভিন্ন মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। নন্দীগ্রাম থানার এসআই মনিরুল ইসলাম ও এসআই ইনামুল ইসলাম প্রকাশ্যে জনসম্মুখে বলেছে সাংবাদিক নজরুল ও মোস্তফা কামাল পুলিশের তথ্যদাতা। এরপর থেকেই অপরাধীরা তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উৎপাত শুরু করেছে। বেশকয়েকবার হামলা ও মারপিট করেছে। থানার মধ্যে ওসি’র কক্ষমুখে পুলিশের সামনে সাংবাদিক নজরুলের উপর হামলা ও মারপিটের ঘটনায় একটি মামলা আদালতে বিচারাধিন। এসআই মনিরুল ইসলাম ফাঁদ পেতে বিভিন্ন মামলার রহস্য উদঘাটনে ওই দুই সাংবাদিককে দিয়ে নাটক সাজিয়ে অপরাধীদের সাথে কৌশলে মোবাইলে কথা বলাতেন। সেইকথা গুলো মোবাইলে রেকর্ড করে ষড়যন্ত্র করছে থানা পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা। তবে থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক এবিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি নন।

 

পুলিশকে সহযোগীতা করতে গিয়ে ও সামাজিক দ্বায়বদ্ধতা দেখাতে গিয়ে এলাকাছাড়া হয়েছে অনেকেই। সেদিকে কারোর নজর নেই। যদি কেউ পুলিশে তথ্য দিয়েই থাকে, তাহলে তথ্যদাতার নাম প্রকাশ হবে কেন? বিষয়টি মেনে নেয়ারমত নয় নিশ্চই।  খোজ নিয়ে জেনেছি, নন্দীগ্রাম উপজেলা ইতিপূর্বে মাদকের স্বর্গরাজ্য ছিল। তৎকালিন সময়ে ওসি ফয়জুর রহমান (বর্তমান এএসপি) মাদক কিছুটা নিয়ন্ত্রনে আনেন। তবে হাসান শামীম ইকবাল (বর্তমান এএসপি) নন্দীগ্রাম থানায় ওসির দ্বায়িত্বে থাকাকালিন, উপজেলা ও পৌর শহর এলাকা থেকে মাদক পুরোপুরি নিয়ন্ত্রন করতে না পারলেও মাদকের স্বর্গরাজ্য গুড়িয়ে দিয়েছেন। এলাকা ছেড়ে পালিয়ে ছিল মাদক ব্যবসায়ীরা। উপজেলা থেকে মাদকের প্রবনতা হ্রাস পেয়েছিল এবং সকল ধরনের অপরাধ প্রবনতা কমেছিল। হাসান শামীম ইকবাল পদোন্নতি পেয়ে বগুড়া সিআইডির এএসপি হিসেবে যোগদান করলে নন্দীগ্রাম থানায় যোগদান করেন ওসি আব্দুর রাজ্জাক। যোগদানের একমাস পর থেকেই থানায় মাদক ব্যবসায়ীদের আনাগোনা সৃষ্টি হয়। দু-মাসের মাথায় পুরো উপজেলা ও পৌর এলাকা আবারও মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিনত। মাদকদ্রব্য উদ্ধারে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান প্রায়শই চললেও তা অনেকটা ‘লোক দেখানোর’ মতো বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথা স্থানীয় থানা পুলিশের প্রত্যক্ষ সহায়তায় প্রকাশ্যে দিনের বেলায় মাদক ব্যবসা চলছে দেদারছে। ধীরে ধীরে মাদকের করাল গ্রাসের শিকার হচ্ছে ’সমাজ’।

ধংসের পথে ধাবিত হচ্ছে যুব সমাজ তথা স্কুল, কলেজ পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা রহস্যজনক কারণে নীরব থাকায় নন্দীগ্রামকে উত্তরাঞ্চলের মাদকের রুট হিসেবে ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রতিদিন বিভিন্ন রুট দিয়ে মাদকের বিপুল পরিমাণ চালান প্রবেশ করছে বলে এলাকাবাসি জানিয়েছে। নন্দীগ্রাম শহর ও উপজেলার দেড় শতাধিক মাদকস্পট রয়েছে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্টাফ রিপোর্টার

Bogra Offce

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com