বিশ্ব মানবাধীকার দিবস ও রোহিঙ্গাদের অধীকার হরণ

৫৭ বার পঠিত

সফিউল্লাহ আনসারী # আজ বিপন্ন মানবতা,নির্বাসিত মানবতাবোধ। ক্ষমতার মোহ আর ধর্মীয় কুপমন্ডুতা মানুষে-মাানুষে বিভেদ সৃষ্টি করছে। মানুষের মৌলিক অধীকার মানবাধীকার (ঐঁসধহ জরমযঃং) । যুগ যুগ ধরে মানুষ নিজের অধীকার আদায়ের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করছে। মানবাধীকারের বিষয়টি সকল ধর্ম,বর্ণ,জাতী নির্বিশেষে সব পর্যায়ের মানুষের জন্য একটি অপরিহার্য- গুরুত্বপুর্ণ ও আলোচিত বিষয় হিসেবে পরিগনিত হলেও পৃথিবী জুড়ে আজ নিপিড়িত,নির্যাতিত-বিপন্ন মানবতা। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ মায়ানমারে ব্যাপকভাবে লংঘিত হচ্ছে মানবতা। চরম দুর্ভোগে অসহায় রোহিঙ্গা জনগোষ্টি নিজ ভুমি থেকে অন্যায় উচ্ছেদ-অত্যাচারে জীবন-মৃত্যু সন্ধি ক্ষণে। মানবাধীকার রক্ষার সবচেয়ে প্রয়োজন এই রোহিঙ্গা নামের মানুষগুলোর।

জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত সার্বজনীন মানবাধীকার ঘোষনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য- বিপন্ন নির্যাতিত-নিপিড়িত জনগোষ্ঠির অধীকার আদায়। কোন দেশে-বিদেশে যেকোন ঘটনা-দুর্ঘটনার সাথে সাথেই সোচ্চার হচ্ছে মানবাধীকার কর্মীরা,কিন্তু ক্ষমতার কাছে অনেক সময় তা নিছক প্রতিবাদেই সীমাবদ্ধ থাকছে। শান্তিতে নোবেল প্রাপ্ত অং সান সুচির দেশে এরকম অমানবিক পরিস্থিতি আজকের মানবাধীকার দিবসে দু: চিন্তার কারন হয়ে দাড়িয়েছে। বিশ্ব বিবেক আজ জাগ্রত হবে কি? নির্যাতিত-নিপিড়িত মানুষগুলোকে তাদের অধীকার ফিরিয়ে দিতে ! জাতী-গোষ্ঠি নয়, মানুষ মাত্রই পিড়িত করছে মায়ানমারের গণহত্যার ঘটনায়। এতোকিছুর পরও মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে অনেক মানবাধীকার সংগঠন,মানবাধীকার কর্মী।
১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর প্যারিসে জাতি সংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে ৩০টি ধারায় সার্বজনীন মানবাধীকারের ঘোষনা গৃহীত হয়।

পরিতাপের বিষয়-আজো মানুষ বিশ্ব জুড়ে অধীকারহীন,লাঞ্চিত-বঞ্চিত,নির্যাতিত-নিপিড়িত। খেয়ে না খেয়ে যুদ্ধ-বিগ্রহে সরকার ও অন্যান্য উগ্র জাতী গোষ্ঠির দ্বারা প্রতিনিয়ত মানবাধীকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ জনগন। বিশ্ব পরাশক্তি রাষ্ট্রগুলো সবচেয়ে বেশী মানবাধীকার লংঘনের ঘটনায় জাতীসংঘ ঘোষিত এসব ধারা লংঘন করে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করলেও বিশ্বের জাতীর এ সংস্থাটি তা প্রতিহত করতে পারছেনা। এ সময়ের সবচেয়ে আলোচিত মানবাধীকার লংঘনের ঘটনা বোধহয় মায়ানমারে। কিন্তু কোথায় জাতীসংঘের পদক্ষেপ কিংবা মানবিকতার পক্ষে জোড়ালো কার্যকরি এ্যাকশন? বিশ্ববাসী এহেন জুলুমবাজী আর মানবতা ধ্বংসের পায়তারাকে নস্যাৎ করতে জাতীসংঘের মানবাধীকারের পুর্ণ বাস্তবায়ন দেখতে চায়।
মানবাধীকার ঘোষনা ও জারি থাকার পরও পৃথীবিব্যাপি অহরহ হিংস্রতায় চলছে-অমানবিক হত্যা যজ্ঞ,যুদ্ধ,হানাহানি, ক্ষমতার বিস্মৃতির নামে সাধারন মানুষকে হত্যা,উগ্র মৌলবাদী  নৃসংস্রতা;চলছে অবৈধ ক্ষমতা দখলবাজদের দ্বারা বিরোধীদের উপর অমানবিকতা। নিরপরাধ নারী-শিশু নির্যাতনের দৃশ্য দেখে মনে হয়-দুনিয়ার সর্বত্রই চলছে মানবধীকার লংঘনের মহোৎসব।

জাতি সংঘকে কোন রকম তোয়াক্কা না করেই ইদানিং মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর অমানবিক নির্যাতন ও দেশ থেকে বিতারনের অমানবিকতা, এমেরিকা, ইসরাইলী হিংস্রতা ও বিভিন্ন উগ্র মৌলবাদীদের দ্বারা মধ্য প্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে চলছে মানুষ হত্যার মতো জঘন্য অমানবিকতা। ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রই খেয়াল-খুশি মত মানুষের অধীকার হরন করছে, চালাচ্ছে গণহত্যা, জবরদখল, অন্যায়ভাবে সন্ত্রাস নির্মুলের নামে তারা একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে মানবাধীকারের বারোটা বাজিয়ে চলেছে। বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো বিভিন্ন সময় অজুহাতে দুর্বল দেশগুলোর উপর অন্যায়ভাবে আক্রমন করে জান-মালের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে যা মানবাধীকারের চরম লংঘন। ইদানিং ক্ষমতাধর রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে যেমন নারী-শিশুসহ অসংখ্য মানুষের অধীকারে আঘাত করে প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে তেমনি সামাজিক অবক্ষয়ের মাধ্যমে বিকৃত মানুষিকতায়ও মানবাধীকার লংঘনের ঘটনা ঘটছে,যা আধুনিক বিশ্বে কোনমতেই কাম্য নয়। উগ্রবাদীদের লোমহর্ষক উন্মত্ততায় আজ শিহরিত ও ভীত সন্ত্রস্ত্র মানবতা।

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে কায়েমি স্বার্থবাদীরা অসামাজিক,অর্থনৈতিক,ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অগ্রাসনে মানবতাকে পদদলিত করে মানুষের মৌলিক অধীকারকে খর্ব ও লাঞ্চিত করছে। অনেক ক্ষেত্রে এ সময়ে মানবাধীকারের বুলি আওড়িয়ে অনেক দেশ ও ধর্মীয় উগ্রবাদীরা হিংস্রতায় মানবতাকে সীমাহীন নিপীড়নে অস্থিরতায় ঠেলে দিচ্ছে।

সভ্যতার আড়ালে অসভ্য বর্বরতা, মানবাধীকার লংঘনের মতো কদাচার আমাদের সমাজেও চলছে। নারী নির্যাতন, ধর্ষন, খুন-খারাবী, রাহাজানি সর্বত্র সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ব্যাপক আকার ধারন করেছে। সামাজিক ন্যায় বিচারের অভাব ও অসচেতনায়ও গঠছে মানবাধীকার লংঘন ও সঠিক মৌল-মানবিক অধীকার ভোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারন জনগন- এক্ষেত্রে জনগনের অজ্ঞতা ও ক্ষমতাধরদের আগ্রাসী মনোভাব ও স্বৈরচারী নীতি অনেকটা দায়ী। এছাড়াও সমাজ বিশারদদের মতে-সামাজের সর্বস্তরে হানাহানি,বৈরী মনোভাব, ক্ষমতার অপব্যবহার,আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের অত্যাচার ও আমাদের অর্থনৈতিক দুর্বলতা এই দেশের অতীত ও বর্তমান সময়ে মানবাধীকার লংঘনের মতো নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে।

মানবাধীকার সুরক্ষায় বর্তমান সময়ে সবচেয়ে দরকার সামাজিক ব্যাধী নির্মুল,সমাজের সর্বস্তরে জনসচেতনতা বৃদ্ধি,মানবতার সার্বিক কল্যাণে সরকার,বিশ্ব সংস্থা ও ব্যাক্তি পর্যায়ে সহযোগীতা-সহমর্মীতামুলক সহাবস্থানে আন্তরিকতা। মানবাধীকার লংঘনের মতো চরম ভয়াবহ অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তির পথনির্দেশনায় প্রয়োজন-বিশ্ব শান্তি,জাতীগত-শ্রেণীগত,ধর্মীয়-রাজনৈতিক,সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐক্য। এক্ষেত্রে সংকীর্ণ মনোভাবের পরিবর্তন করে মানবিক সৌহার্দ্যপুর্ণ আচরন ও আইনের শাসনের যথাযথ প্রয়োগ খুব বেশী প্রয়োজন। বর্তমান আমাদের পার্শ্ববর্তি দেশ মায়ানমার এবং উত্তাল মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব পরিস্থিতির আলোকে যথাযথ মুল্যায়নে জাতী সংঘের দূঢ় অবস্থান থেকে বিশ্ব ব্যাপি সমাধীকার ভিত্তিতে মানবাধীকার সনদের প্রয়োগ আজ শুধু রোহিঙ্গা গোষ্ঠি নয়,প্রত্যেকটা জীবন ও সময়ের অপরিহার্য দাবী।

মানবতার চরম অবমূল্যায়ন ও উদ্বিগ্ন বিশ্ববাসীর চরম দুর্দিনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ও মানবাধীকার সংগঠনগুলোর প্রতিকারমুলক ব্যবস্থা গ্রহন ও ধর্মীয়-জাতীগত বৈষম্য দুর করে বিশ্ব শান্তি ফিরিয়ে আনা অতীব জরুরী হয়ে পড়েছে যা অস্বীকার করার মতো নয়। বিশ্ব মানবাধীকার দিবসে আমাদের প্রত্যাশা-বিশ্ব অশান্তির এ পরিবেশ থেকে মানবতাকে রক্ষায় রাজনৈতিক,ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ,বিশ্ব সংস্থাগুলোর ঐক্যের মাধ্যমে মানবতার মৌলিক বিকাশ,মানবিক অধীকার সচেতনতার জাগরণ,স্বাধীনতা-স্বাধীকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ,সমঝোতা-সহিঞ্চুতায় সকল জাতী-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বন্ধুত্বপুর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে সকলের অংশগ্রহন নিশ্চিত করে বিশ্ব শান্তির রোডম্যাপ তৈরী করে মানবাধীকার রক্ষা করা। শুধুমাত্র একটি দিন বা দিবসেই সীমাবদ্ধ না রেখে মানবাধীকার বিষয়টিকে সার্বজনীন ও সর্বক্ষেত্রে সমানভাবে চর্চা ও প্রয়োগ করা গুরুত্বপুর্ণ । বিশ্ব মানবাধীকার দিবসে আমরা শান্তিকামি জনতা চাই রোহিঙ্গাদের অধীকার ফিরে পাক,জাতিসংঘ ও বিশ্ব বিবেক জাগ্রত হোক,মানবাধীকার সচেতন সকলের সহযোগীতা ও আন্তরিকতায়…

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সফিউল্লাহ আনসারী নববার্তা ষ্টাফ রিপোর্টার

আজো চেনা হরোনা নিজেকেই ...! 01715-787772

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com